মেইন ম্যেনু

হাসনাত ছাড়াও সন্দেহভাজন আরো ২ জন

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় জীবিত উদ্ধার ৩২ জনের মধ্যে ২-৩ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

বৃহস্পতিবার ডিএমপি হেড কোয়ার্টার্সে নিজ কক্ষে তিনি একথা বলেন।

কমিশনার বলেন, ‘গুলশানে উদ্ধারকৃত ৩২ জনকে উদ্ধার করেছি। এদের মধ্যে অধিকাংশই সেদিন খেতে গিয়েছিল।তাদের মধ্যে ২-৩ জনকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’ এর মধ্যে একজন হাসনাত করিম। তবে বাকিরা কে সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানাননি।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সুস্পষ্টভাবে মন্তব্য করার সময় হয়নি। আমরা ২-১ জনকে সন্দেহ করছি। তাদের সংশ্লিষ্টতা আদৌ আছে নাকি তারা পরিস্থিতির শিকার হয়ে জঙ্গিদের মদদ দিয়েছে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান কমিশনার।

যদিও গত ১১ জুলাই ডিএমপি জানিয়েছিল, গুলশানের থেকে জীবিত উদ্ধার কেউ পুলিশের কাছে আটক নেই।

এছাড়া ২ জুলাই যৌথ অভিযানের পর সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে জানানো হয়, জীবিত উদ্ধার হয়েছে ১৩ জন। অবশ্য পরে জানানো হয় উদ্ধার লোকের সংখ্যা ১৩ জনের বেশি।

এছাড়া উদ্ধারদের মধ্যে হাসনাত করিম নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। জানা যায়, তিনি ২০১২ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা থেকে চাকরিচ্যুত হোন। তবে তিনি ডিবি পুলিশ নাকি অন্য কোনো গোয়েন্দা সংস্থার হেফাজতে আছেন এ বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়।

এতোদিন পরে এসে ডিএমপি কমিশনার জানালেন, দুই তিনজনকে তারা সন্দেহভাজন হিসেবে নিচ্ছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মামলার ব্যাপারে কমিশনার বলেন, মামলাটি বর্তমানে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটি) ইউনিট তদন্ত করছে। তদন্তাধীন মামলায় কিছু কিছু তথ্য থাকে যা প্রকাশ করলে মামলার তদন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা সাসপেক্টরা পালিয়ে যায়। আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করেছি। তিনটি আস্তানা পেয়েছি। এক কথায় বলতে পারি তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, একটা হামলার কতগুলো পর্যায় থাকে। প্রথম পর্যায় হল তাদের একত্রিত করা। দ্বিতীয় পর্যায় হল তাদের মগজ ধোলাই বা ব্রেন ওয়াশ করা। পরে তাদের ইকুইপমেন্ট দেয়া বা প্রশিক্ষণ দেয়া। এরপর তাদের আশ্রয় দেওয়া এবং সরাঞ্জামাদির সাপ্লাই দেয়া। এরপরেই অ্যাটাক। গুলশানের অ্যাটাকে ছিল ছয় জন। তারা ‘ইন অ্যাকশনে’ মারা গেছে। কিন্তু যারা রিক্রুটমেন্টের সঙ্গে জড়িত, প্রশিক্ষণের সঙ্গে জড়িত, অর্থ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত, আশ্রয় দেওয়ার সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। আমরা চারজন সন্দেহভাজনের ছবিসহ নাম প্রকাশ করেছি। এছাড়া বাসা ভাড়া দেয়ায় সাহায্য করেছিল তাদের ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছি।

গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলায় ২ পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২২ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে ১৭ জনই বিদেশি।