মেইন ম্যেনু

হাসপাতালে গিয়ে রাব্বীর কথা শুনে এল পুলিশের কমিটি

‘এসআই মাসুদ শিকদারকে আইজিপি বানান। তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বানান। তাকে রাষ্ট্রপতি করুন। তাকে এমপি পদে আসীন করুন। তাকে মন্ত্রী বানিয়ে দায়িত্ব দিন। আমার কাছে ঘটনার বর্ণনা শুনে কী হবে? গত সাত দিন আমার যেভাবে আতঙ্কে সময় কেটেছে, তা কি ফেরত পাওয়া যাবে?’

শনিবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এভাবেই আবেগতাড়িত হয়ে পুলিশের তদন্ত কমিটির লোকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বি।

রাব্বি তদন্ত কমিটির সদস্যদের কাছে সেই রাতের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, ‘হোয়াট ডু ইউ মিন বাই সার্চ? একজন মানুষকে সার্চ কি হাত ভাঙার মধ্য দিয়ে করতে হয়? মাথায় আঘাত করার মাধ্যমে কি সার্চ করতে হয়? বন্দুকের বাট দিয়ে স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করে কি সার্চ করতে হয়? সার্চ করতে রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ৩টা বেজে যায়? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পুলিশ বন্ধু, ছাত্রলীগ নেতা, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তাসহ একাধিক ব্যক্তির রেফারেন্সসহ নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও তারা আমাকে মেরেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমাকে নিয়ে ঘুরেছে। ৫ লাখ টাকা চেয়েছে, নইলে গুলি করে বেড়িবাঁধে লাশ ফেলতে চেয়েছে।’

রাব্বি বলেন, ‘এক মাসুদের বিচার করে কী লাভ হবে? ওই টিমের সবাই সেদিন আমাকে পিটিয়েছে। সারা দেশের মানুষ এভাবেই পুলিশের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। পুলিশের মধ্য থেকে এরকম সকল মাসুদকে খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে।’

এক পর্যায়ে রাব্বি কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি জীবনে একটি সিগারেটও খাইনি, মিথ্যা কথা বলিনি, কোনো অন্যায় কাজ করিনি, কারো ক্ষতি করিনি। তবে আমার কেন এরকম হলো। আমার যে বেঁচে থাকার বাসনাটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। আপনারা আমাকে মেরে ফেলেন।’

শনিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রাব্বির কাছে সেই রাতের ঘটনার বিবরণ জানতে পুলিশের তদন্ত কমিটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যায়।

এ সময় পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি(আইসিটি) ব্যারিস্টার হারুন অর রশীদের সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ও পরিদর্শক সালাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

এরপর রাত ৯টার দিকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের জানান, আমরা ঘটনার ব্যাপারে জানতে এসেছিলাম। সেটি শুনেছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৯ জানুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন আসাদ গেট এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বিকে একই থানার এসআই মাসুদসহ একদল পুলিশ নির্যাতন করে। ঘটনার পরের দিন রাব্বি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই মাসুদকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপর মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার হাফিজ আল ফারুককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরই মধ্যে পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে ঘটনা তদন্তে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে ঘটনায় জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় শনিবার সকালের দিকে এসআই মাসুদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।