মেইন ম্যেনু

যত অভিযোগ

হাসান আলীর রায় কাল

মানবতাবিরোধেী অপরাধের মামলায় কিশোরগঞ্জের পলাতক সৈয়দ হাসান আলীর রায় আগামীকাল ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায়ের জন্য এ দিন ঠিক করে।

হাসান আলীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৪ জনকে হত্যা, ১২ জনকে অপহরণ ও আটক এবং ১২৫টি ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে।

হাসান আলীর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতায়। তবে একাত্তরে তিনি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানায় ছিলেন। একাত্তরে তিনি তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন এবং তখন তিনি ‘রাজাকার দারোগা’ নামে পরিচিত ছিলেন।

গত বছরের ৭ জুন হাসান আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত সংস্থা। ১৯ জুন তদন্ত শেষে ৪৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেন তদন্ত কর্মকর্তা হরি দেবনাথ। তদন্তকালে ৬০ জনের বেশি মানুষের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

হাসান আলীর বাবা সৈয়দ মোসলেম উদ্দিন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও কিশোরগঞ্জ মহকুমা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় পাকিস্তানের পক্ষে বিবৃতি দেন এবং স্বাধীনতার বিরোধিতা করেন। বাবার আদর্শে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়ে তিনি তাড়াইলে রাজাকার কমান্ডার হিসেবে নিয়োজিত হন।

গত ৩ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ হাসান আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

হাসান আলীর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
কিশোরগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার পলাতক সৈয়দ হাসান আলীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুট, আটক ও নির্যাতনের ৬টি অভিযোগ আনা হয়। এতে ২৪ জনকে হত্যা, ১২ জনকে অপহরণ ও আটক এবং ১২৫টি ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আগামীকাল মঙ্গলবার হাসান আলীর রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল।

অভিযোগ ১ : একাত্তরের ২৭ এপ্রিল হাসান আলীর নির্দেশে তাড়াইল থানাধীন সাচাইল গ্রামের পূর্বপাড়ার হাছান আহমদ ওরফে হাচু ব্যাপারীর বসতবাড়ীর সাতটি ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা।

অভিযোগ ২ : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২৩ আগস্ট হাসান আলীর নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা তাড়াইল থানাধীন কোনা ভাওয়াল গ্রামের শহীদ তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া ওরফে লালু ভূঁইয়াকে হত্যা করে দুটি ঘরে লুটপাট চালায় এবং আরো দুজনকে অপহরণ ও আটক করে।

অভিযোগ ৩ : একাত্তরের ৯ সেপ্টেম্বর তাড়াইল থানার শিমুলহাটি গ্রামের পালপাড়ায় অক্রুর পালসহ ১২ জনকে হত্যা এবং ১০টি ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে হাসান আলীর লোকজন। ওই গ্রামের পুরুষদের ধরে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলিতে করা হয়।

অভিযোগ ৪ : একাত্তরের ২৭ সেপ্টেম্বর তাড়াইল থানাধীন ভোরগাঁও গ্রামের বেলংকা রোডে সতীশ ঘোষসহ ৮ জনকে হত্যা ও ১০ জনকে অপহরণ এবং ২৫ হাজার টাকার মালামাল লুটপাটে নেতৃত্ব দেন হাসান আলী।

অভিযোগ ৫ : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৮ অক্টোবর তাড়াইল থানাধীন আড়াইউড়া গ্রামের কামিনী কুমার ঘোষের বসতবাড়ী থেকে কামিনী কুমার ঘোষ ও জীবন চক্রবর্তীকে অপহরণের পরে হত্যা এবং ছয়টি ঘরে লুটপাট চালায় হাসান আলীর লোকজন।

অভিযোগ ৬ : একাত্তরের ১১ ডিসেম্বর হাসান আলীর নেতৃত্বে তাড়াইল থানাধীন সাচাইল গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় রাশিদ আলী ব্যাপারীকে হত্যা এবং ১০০টি ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

তদন্তের স্বার্থে আনা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে গত বছরের ৩ এপ্রিল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। আদালতের আদেশ সত্ত্বেও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।