মেইন ম্যেনু

হাসান আলীর রায় পাঠ শুরু

মানবতাবিরোধেী অপরাধের মামলায় কিশোরগঞ্জের পলাতক সৈয়দ হাসান আলীর বিরুদ্ধে রায় পাঠ শুরু করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এ রায় পাঠ শুরু হয়।

মোট ১২৫ পৃষ্ঠার রায়ের প্রথম অংশ পাঠ করছেন বিচারপতি আনোয়ারুল হক। দ্বিতীয় অংশ পাঠ করবেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং রায়ের মূল অংশ পাঠ করবেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।

গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায়ের জন্য এ দিন ঠিক করে।

এর আগে গত ২০ এপ্রিল উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর হাসান আলীর অনুপস্থিতিতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় আব্দুস শুকুর খানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

গত বছরের ২৪ আগস্ট হাসান আলীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়ে পলাতক এ আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

পলাতক হাসান আলীর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুট, আটক ও নির্যাতনের ৬টি অভিযোগ আনা হয়। এতে ২৪ জনকে হত্যা, ১২ জনকে অপহরণ ও আটক এবং ১২৫টি ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তের স্বার্থে আনা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে গত বছরের ৩ এপ্রিল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। আদালতের আদেশ সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

হাসান আলীর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

অভিযোগ ১ : একাত্তরের ২৭ এপ্রিল হাসান আলীর নির্দেশে তাড়াইল থানাধীন সাচাইল গ্রামের পূর্বপাড়ার হাছান আহমদ ওরফে হাচু ব্যাপারীর বসতবাড়ীর সাতটি ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা।

অভিযোগ ২ : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২৩ আগস্ট হাসান আলীর নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা তাড়াইল থানাধীন কোনা ভাওয়াল গ্রামের শহীদ তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া ওরফে লালু ভূঁইয়াকে হত্যা করে দুটি ঘরে লুটপাট চালায় এবং আরো দুজনকে অপহরণ ও আটক করে।

অভিযোগ ৩ : একাত্তরের ৯ সেপ্টেম্বর তাড়াইল থানার শিমুলহাটি গ্রামের পালপাড়ায় অক্রুর পালসহ ১২ জনকে হত্যা এবং ১০টি ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে হাসান আলীর লোকজন। ওই গ্রামের পুরুষদের ধরে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলিতে করা হয়।

অভিযোগ ৪ : একাত্তরের ২৭ সেপ্টেম্বর তাড়াইল থানাধীন ভোরগাঁও গ্রামের বেলংকা রোডে সতীশ ঘোষসহ ৮ জনকে হত্যা ও ১০ জনকে অপহরণ এবং ২৫ হাজার টাকার মালামাল লুটপাটে নেতৃত্ব দেন হাসান আলী।

অভিযোগ ৫ : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৮ অক্টোবর তাড়াইল থানাধীন আড়াইউড়া গ্রামের কামিনী কুমার ঘোষের বসতবাড়ী থেকে কামিনী কুমার ঘোষ ও জীবন চক্রবর্তীকে অপহরণের পরে হত্যা এবং ছয়টি ঘরে লুটপাট চালায় হাসান আলীর লোকজন।

অভিযোগ ৬ : একাত্তরের ১১ ডিসেম্বর হাসান আলীর নেতৃত্বে তাড়াইল থানাধীন সাচাইল গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় রাশিদ আলী ব্যাপারীকে হত্যা এবং ১০০টি ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।