মেইন ম্যেনু

হিন্দু ধর্মে কোন পাপের কী শাস্তি? জেনে নিন…

পাপ ও শাস্তির কাহিনি সভ্যতার উন্মেষলগ্ন থেকেই লাগু রয়েছে। যখন মানুষ গাছ অথবা পাথরকে পুজো করত, সেই টোটেম-কাল্টের কাল থেকেই ডিসিপ্লিন জারি রাখতে পুরোহিত সম্প্রদায় বাজারে পারলৌকিক শাস্তির গপ্পোটি ছাড়েন। পরে তা অতি জটিল প্রক্রিয়ায় সামাজিক অবচেতনের অঙ্গ হয়ে যায়। আজ থেকে কুড়ি বছর আগেও বাংলার এখানে-ওখানে একটা জনপ্রিয় ক্যালেন্ডার ছিল এই বিষয়ে। তার ছবিতে দেখা যেত, নরকের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট। এবং তাতে ভীষণদর্শন যমদূতের দল মানবাত্মাদের পাপের শাস্তি দিচ্ছে। একেবারে লিখিত-পড়িতভাবে অমুক পাপের তমুক শাস্তির এই লিস্টির উৎস কী অনুসন্ধান করতে গেলে যেখানে গিয়ে সবাই পৌঁছন, সেটা ‘গরুড় পুরাণ’। এই প্রাচীন গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে, খগরাজ গরুড় বিষ্ণুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন পাপ ও তার শাস্তি বিষয়ে। বিষ্ণু বেশ ডিটেলই উত্তর দেন সেই প্রশ্নের।
আসুন, দেখে নেওয়া যাক পাপ ও শাস্তির বিষ্ণু কর্তৃক প্রদত্ত তালিকা।

• তমিশ্রম— অন্যের সম্পদ যদি কেউ আত্মসাৎ করেন, তাঁর জন্য রয়েছে এই নরক। যমলোকে তাঁকে হাত বেঁধে ক্রমাগত প্রহার করা হবে। তাদের রক্তপাত হতে থাকবে এবং তারা জ্ঞান হারানো পর্যন্ত এই প্রহার চলবে। যে স্বামী বা স্ত্রী কেবল সুখের আশায় জীবনসঙ্গীকে ভালবাসেন, তাঁদের শাস্তিও একই প্রকার।

• রৌরব— অন্যের সম্পদে বিলাসিতা, জীবন নির্বাহ ইত্যাদির জন্য রয়েছে এই শাস্তি। সাপে পরিপূর্ণ এই নরকে তাদের নিক্ষেপ করা হবে। সাপরাই যা করার তা করবে।

• মহারৌরব— এখানেও সাপের খেলা। তবে লেভেল অনেক হাই। যারা উত্তরাধিকারী রাখে না, তাদের জন্য নির্ধারিত এই নরক।

• কুম্ভীপাক— জ্বলন্ত কুণ্ডে বসানো মহাকুম্ভে ফুটন্ত তৈলে তাদেরই সেদ্ধ করা হবে, যারা নিজের আনন্দের জন্য পশুহত্যা করে।

• কালসূত্র— এই নরকও দারুণ উত্তপ্ত। গুরুজনদের শ্রদ্দা না-করলে এখানে নিক্ষেপ করা হবে।

• শুকরমুখম— যারা অন্যের অপরে অত্যাচার করে, বিশেষত যে সব রাজা প্রজাপীড়ন করেন। তাঁদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে এই নরক। এখানেও শাস্তি প্রহার। তবে, এখানে একেবারে যাকে বলে পিটিয়ে পিণ্ড বানিয়ে দেয় যমদূতরা।

• অন্ধকুপ— সৎ ব্যক্তকে যাঁরা পীড়ন করে এবং নিজের সামর্থ্য থাকতেও যারা কাউকে সাহায্য করে না, তাদেরই এখানে নিয়ে এসে এক কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয়। সেখানে সিংহ, বাঘ, ঈগল থেকে শুরু করে বিষধর সাপ, বিছে ইত্যাদি তাদের নিরন্তর কামড়াতে থাকে।

• তপ্তমূর্তি— সোনা-রুপো চুরি করলে নরকের এই ডিপার্টমেন্টে নিয়ে আসা হয়। লেলিহান আগুনে তাদের নিক্ষেপ করা হয়।

• শাল্মলী— ব্যাভিচারী স্ত্রী-পুরুষকে পাঠানো হয় এখানে। জ্বলন্ত থামকে আলিঙ্গন করতে বলা হয়। না করলে যমদূতরা জ্বলনত কাঠ দিয়ে পেটায়।

• বজ্রকন্টকশালী— পশুকামিতার শাস্তি বিধান হয় এই নরকে। তীক্ষ্ণ হীরক-খচিত লৌহমানবকে আলিঙ্গন করতে বলা হয়।

• পুয়োদকম— অবৈধ যৌনতা এবং মেয়ডের ঠকানোর শাস্তি এক রক্ত-পুরীষে পূর্ণ এই কূপে তাদের নিক্ষেপ করা হয়।