মেইন ম্যেনু

হিন্দু পরিবারকে বাঁচাতে জীবন বাজি রাখলেন মুসলিম দম্পতি

ভারতের জম্মু ও কাশ্মিরে বিচ্ছিন্নতাবাদী দল হিজবুল মুজাহিদিনের জঙ্গি কমান্ডার বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য। জারি করা হয়েছে কারফিউ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। এ ঘটনায় কয়েক শতাধিক আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যমগুলো।

চারদিন ধরে এ ঘটনায় কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। স্তব্ধ হয়ে পাড়েছে পরিবহন ব্যবস্থাও। আর এতে দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সঙ্কটও। গুজব এড়াতে কাশ্মীরের বেশকিছু এলাকায় আগেই বন্ধ করে দেয়া হয় মোবাইল, ইন্টারনেট পরিষেবা।

আর এমন সময়ই ঝিলম নদীর তীর থেকে এক হিন্দু বন্ধুর ফোন পেল মুসলিম দম্পতি। ভেসে এলো বন্ধুর কাতর কণ্ঠস্বর। থাকতে না পেরে কারফিউ উপেক্ষা করেই ওই বন্ধুর জন্য বাড়ির বাইরে পা রাখলেন মুসলিম দম্পতি। শ্রীনগরের জনশূন্য রাস্তায় হাঁটতে দেখা গেল তাদেরকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঁধে বস্তা ভর্তি খাদ্যসামগ্রী নিয়ে বন্ধুর পরিবারকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলেন তারা।

বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার পথেই শ্রীনগরের ওই গৃহবধূ জুবায়দা বেগম এক সাংবাদিককে বলেন, ‘সকালে আমাদের বন্ধুর ফোন এসেছিল। জানিয়েছিল বাড়িতে খাবার নেই। বন্ধুর সঙ্গে থাকেন তার অসুস্থ ঠাকুমা। তাদের জন্যই খাবার নিয়ে যাচ্ছি আমরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা খুবই কঠিন কাজ। কিন্তু আমরা তাদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছি।’

এদিকে হিন্দু ওই বন্ধুর নাম দিওয়ান চাঁদ। তিনি বলেন, ‘এখানে প্রত্যেকেই ভোগান্তির শিকার। এমন সময় বন্ধুকে পাশে পেয়ে ভালো লাগছে। একেই বলে মানবিকতা।’

দিওয়ান চাঁদ অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কাজ করেন। আর তার স্ত্রী স্থানীয় একটি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। সেখানেই জুবায়দার সঙ্গে পরিচয় হয় তার স্ত্রীর।

এদিকে শুক্রবার সেনা ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহত হন। হিজবুল কমান্ডার নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রীনগর এবং দক্ষিণ কাশ্মিরের বেশকিছু এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনন্তনাগের কোকেরনাগ এলাকায় তার বাহিনীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলাকালে বুরহান নিহত হন বলে দাবি পুলিশের। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলৌমা ও শ্রীনগরের আংশিক অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়।

এদিন কারফিউ আর যৌথবাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে বুরহান ওয়ানির মৃতদেহ নিয়ে রাস্তায় নামে হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের বিভিন্ন থানা, বিজেপি অফিস এবং নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা চালায় বলে জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।