মেইন ম্যেনু

হিন্দু শিশুকে রক্ষা করে ‌‘হিরো’ মুসলিম কিশোরী

সারা দেশে যখন উগ্র হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা ও মুসলিম বিদ্বেষ নিয়ে তোলপাড়, ঠিক তখনই মানবীয় ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল এক মুসলিম কিশোরী। দেশটা এখনও নষ্ট হয়ে যায়নি- একথাই যেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ১৫ বছরের নাজিয়া। এখনও কোনও হিন্দু বিপদে পড়লে এগিয়ে আসে মুসলমানরা। তাই মুসলিমরাও আশা করে হিন্দু পাশে থাকবেন তাদের।

গোটা ভারতের রাজনৈতিক মহল, বুদ্ধিজীবীমহল যখন এমন সহিষ্ণুতার কথা শোনাতে ব্যর্থ ঠিক তখনই সহিষ্ণুতার বার্তা দিল নাজিয়া। আগ্রার হাজি ফতিমা মহম্মদিয়া গার্লস ইন্টার কলেজের ছাত্রীটি নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই ৬ বছরের ডিম্পিকে অপহরণকারীদের হাত থেকে বাঁচায়।

গত বছর আগস্ট মাসে স্কুল থেকে ফেরার পথে হঠাৎই নাজিয়া দেখে একটি ছোট্ট মেয়েকে দুই ব্যক্তি জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করছে।

শিশুটি প্রতিবাদ করলেও, কিছুতেই যেন নিজেকে মুক্ত করতে পারছিল না ওই দুই ব্যক্তির থেকে। গতিবিধি সন্দেহজনক দেখে, নিজের জীবনের পরোয়া না করেই শিশুটির সাহায্যে এগিয়ে যায় নাজিয়া। প্রায় ২ মিনিট একটানা চেষ্টা করে ডিম্পিকে উদ্ধার করে নাজিয়া।

বলাই বাহুল্য, ডিম্পি হিন্দু পরিবারের মেয়ে৷ কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার সময় নাজিয়া একবারের জন্যও ভাবেনি ডিম্পি হিন্দু না মুসলমান৷ ঘটনাচক্রে এর পরবর্তী সময়ে নাজিয়া জানতে পারে ডিম্পি তারই স্কুলের ছাত্রী এবং সে হিন্দু পরিবারের মেয়ে৷

এই সাহস প্রদর্শনের জন্য নাজিয়াকে ‘রানি লক্ষীবাঈ’ বীরত্ব পুরস্কারে ভূষিত করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব।

নাজিয়া জানিয়েছে, ডিম্পির পরিবারের মানুষেরা তাকে নিজের মেয়ের মতো দেখে। ‘দিদি’-র পুরষ্কার পাওয়ার ঘটনায় বেজায় খুশি ডিম্পিও।