মেইন ম্যেনু

হিমুর ‘খুনি’ কুকুর নিয়ে বিপাকে চিড়িয়াখানা

যে কুকুর লেলিয়ে চট্টগ্রামে হিমাদ্রী মজুমদার হিমুকে হত্যা করা হয়, সেই কুকুর নিয়ে বিপাকে পড়েছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।সম্প্রতি হিমু হত্যার দায়ে পাঁচজনের ফাঁসির রায় হলেও কুকুরটির ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেননি আদালত।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার সদস্যসচিব ও ডেপুটি রেভিনিউ কালেক্টর রুহুল আমিন বলেন, বছর চারেক আগে হিমু হত্যায় ব্যবহৃত তিনটি কুকুর আদালতের নির্দেশে চিড়িয়াখানায় রাখা হয়। পরে দুটি কুকুর মারা যায়। জীবিত অন্য কুকুরটি নিয়ে বিপাকে আছে কর্তৃপক্ষ।

রুহুল আমিন বলেন, জার্মান এই কুকুরের জন্য প্রতিদিন চার-পাঁচ কেজি টাটকা গরুর মাংস দরকার হয়। এই কুকুর পচা ও বাসি মাংস খায় না।

চিড়িয়াখানায় সাধারণত কুকুর রাখা হয় না জানিয়ে রুহুল আমিন আরো বলেন, “কিন্তু আদালতের নির্দেশ তো মানতেই হবে। এই একটি কুকুরের জন্য আমাদের প্রতিমাসে শুধু খাবারের পেছনেই খরচ করতে হচ্ছে ১২ হাজার টাকা। এর পেছনে লোকবলও লাগছে। এই চার বছরে ছয় লাখ টাকার খাবার জোগাতে হয়েছে আমাদের।”

চিড়িয়াখানার চিকিৎসক মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, “এ জাতের কুকুর হিংস্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। খাবারের সময় চাহিদার তুলনায় মাংস কম হলে এরা হিংস্র আচরণ করতে থাকে।”

এই চিকিৎসক আরও বলেন, হিমু হত্যার মামলার রায় হয়েছে। কিন্তু কুকুরটির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি আদালত। এটি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অনুপম চক্রবর্তী বলেন, এখনো পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেননি আদালত। তাই এ মামলার প্রধান আলামত সেই বিদেশি কুকুরটির বিষয়ে এখনো আদালতের সিদ্ধান্ত জানতে পারিনি। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে কুকুরটির বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লিটন দাশ বলেন, ২০১২ সালের ২৭ এপ্রিল নগরের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ফরহাদ ম্যানশনে হিমুকে কুকুর লেলিয়ে চারতলার ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয়। গুরুতর আহত হিমু ২৩ মে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান।

এই ঘটনায় হিমুর মামা প্রকাশ দাশ পাঁচলাইশ থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ থানা এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তিন আসামি ও তিনটি কুকুর আটক করেন। আদালতের নির্দেশে কুকুরগুলো চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সংরক্ষিত হিসেবে রাখা হয়।

মামলার বাদী প্রকাশ দাশ বলেন, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় প্রভাবশালীরা হিমুকে পাঁচটি জার্মান কুকুর লেলিয়ে নির্যাতন করে।

হিমু হত্যার দায়ে গত ১৪ আগস্ট চট্টগ্রাম চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নূরুল ইসলাম পাঁচ আসামির ফাঁসির আদেশ দেন। তারা হলেন শাহ সেলিম টিপু, তার ছেলে জুনায়েদ আহমেদ রিয়াদ এবং রিয়াদের তিন বন্ধু জাহিদুল ইসলাম শাওন, মাহাবুব আলী খান ড্যানী ও শাহাদাৎ হোসাইন সাজু।

এর মধ্যে শাহ সেলিম টিপু, মাহাবুব আলী ড্যানী ও শাহাদাৎ হোসাইন রাজু কারাগারে আছেন। অন্য দুই আসামি রিয়াদ শুরু থেকে এবং শাওন জামিনে বেরিয়ে পালিয়ে যান।