মেইন ম্যেনু

হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখার উপায়

ব্যায়াম করলে হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পায়। তেমনি স্ট্রেসের মধ্য দিয়ে গেলে, খুব বেশি উত্তেজিত হলে এবং বিশেষ কাউকে দেখলেও একই রকম অবস্থা হয়। হৃদস্পন্দনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্রামরত অবস্থায় প্রতি মিনিটে আপনার হৃদপিন্ড কতবার স্পন্দিত হয় তাকেই হৃদস্পন্দন বলে। শিথিল অবস্থায় হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক মাত্রা ৬০-১০০ bpm (Beats per minutes) হয়। হৃদস্পন্দনের মাত্রা বা পালস দেখার সবচেয়ে ভালো স্থানগুলো হচ্ছে – কব্জি, কনুই এর ভেতরের দিক, ঘাড়ের পাশে এবং পায়ের পাতার অগ্রভাগে।

অফিসে বা বাসায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার সময় এবং স্ট্রেস মুক্ত থাকলেও যদি আপনার হৃদস্পন্দন খুব বেশি জোরে হতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমে বড় ধরণের কোন সমস্যা হয়েছে। বয়স বৃদ্ধি পেলে, জেনেটিক কারণে বা লাইফস্টাইলের কারণেও হার্ট বীট বৃদ্ধি পাওয়ার সমস্যা হতে পারে। লাইফস্টাইলে এবং ফিটনেস কৌশলের মাধ্যমে রেস্টিং হার্ট রেট কমানো যায় খুব সহজেই। চলুন তাহলে জেনে নিই হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখার কৌশলগুলোর বিষয়ে।

১। মাছের তেল

ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিডে সমৃদ্ধ মাছের তেল হৃদপিন্ডের জন্য উপকারী এটা আমরা সবাই জানি। রেস্টিং হার্ট রেট কমিয়ে ভালো একটি অবস্থানে রাখতেও সাহায্য করে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড। মাছের তেল হৃদপিন্ডের কাজ সঠিক ভাবে সম্পন্ন করার জন্য ভেগাস স্নায়ুকে সাহায্য করে, হৃদস্পন্দনের মাত্রা কমিয়ে একই অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ রাখতে সাহায্য করে। তাই হৃদস্পন্দন ঠিক রাখতে সপ্তাহে ১/২ দিন সামুদ্রিক মাছ খান।

২। আখরোট

ক্যালিফোর্নিয়ার ডিক বাটকাস হার্ট এন্ড ভাস্কুলার স্ক্রিনিং সেন্টারের মেডিকেল ডাইরেক্টর ল্যারি সান্তোরা বলেন, “বাদামে (আখরোট) আলফা লেনোলেইক এসিড থাকে যা এক ধরণের ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা ইনফ্লামেশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে”। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন যে, দিনে আধা কাপ আখরোট খেলে রক্তনালীর কাজের উন্নতি ঘটে।

৩। নিয়মিত বাথরুমে যান

মূত্রথলি যদি প্রস্রাবে পরিপূর্ণ হয়ে যায় তাহলে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ bpm বৃদ্ধি পায়। যখন মূত্র ত্যাগের প্রয়োজন হয় তখন আপনার সিমপ্যাথেটিক সিস্টেম সক্রিয় হয়ে উঠে, রক্তনালী সংকুচিত হয় এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। তাই প্রস্রাব চেপে রাখা ঠিক নয়।

এছাড়াও হার্ট রেট স্বাভাবিক রাখার জন্য ডাল জাতীয় খাবার খান, কার্ডিও ওয়ার্কআউট করুন, ম্যাসাজ বা অ্যারোমাথেরাপি নিতে পারেন, ভালো ঘুম প্রয়োজন, ওজন নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ, স্ট্রেস মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন, ক্যাফেইন গ্রহণের মাত্রা কমান এবং ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করুন।