মেইন ম্যেনু

হেঁচকি হলে কী করবেন?

হেঁচকি বা হিক্কা বেশ প্রচলিত একটি সমস্যা। এটা মাঝে মাঝে আমাদের বেশ অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে এবং পালন করলে হেঁচকি দূর করা সম্ভব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা.এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, সাধারণত পেটে গ্যাস হওয়ার কারণে অথবা অন্যান্য রোগের জন্যও হেঁচকি হতে পারে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিকেল অফিসার ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু জানান, আমাদের বুক এবং পেটকে আলাদা করার জন্য একটি পর্দা থাকে। যেটাকে ডায়াফ্রাম বলে। কোনো কারণে এখানে ইরিটেট বা অস্বস্তি হলে ডায়াফ্রাম সংকুচিত হয়। তখন হিক্ হিক্ ধরনের শব্দ হয়। এই কারণে হেঁচকি হয়।

ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু জানান, এর বেশির ভাগ কারণ মারাত্মক নয়। তাই ভয় পাওয়ার তেমন কিছু নেই। এই সময় আসলে শরীরে কার্বনডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়াতে হয়।

কারণ
ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু জানান, তাড়াতাড়ি খাওয়ার সময় পেটের মধ্যে কিছু বাতাস চলে গেলে এটি হতে পারে। যদি বেশি পরিমাণ বাতাস ঢুকে তখন পকস্থলি ফুলে যাবে। সেটা গিয়ে ডায়াফ্রামকে ইরিটেট করবে। তখন হেঁচকি হতে পারে। আবার অতিরিক্ত মশলা বা চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ার কারণে এটা হতে পারে। অনেক বেশি কোমল পানীয় খেলে পেটে গ্যাস হয়ে এটা হতে পারে। ভয় বা উত্তেজনার সময় এ রকম হতে পারে। তখন ফ্রেনিক নার্ভ উত্তেজিত হয়ে ডায়াফ্রাম সংকুচিত হতে পারে। এ ছাড়া কিছু কিছু রোগের কারণেও এটা হতে পারে। যেমন : স্ট্রোক, ব্রেন টিউমার, কিডনি ফেইলিউর, লিভারের রোগ, নিউমোনিয়া ইত্যাদি কারণে হতে পারে।
ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু আরো জানান, এ ছাড়া কারো কারো ক্ষেত্রে কিছু ঘুমের ওষুধ খেলে এই সমস্যা হতে পারে। আবার কিছু কিছু বমির ওষুধ খাওয়ার পর এই সমস্যা হতে পারে।

যা করা যেতে পারে
হেঁচকি উঠলে প্রাথমিকভাবে যা করবেন এই বিষয়ে চিকিৎসকদের পরার্মশ :
•    কিছুক্ষণ শ্বাস বন্ধ করে রাখতে পারেন।
•    একটি ছিদ্রহীন ঠোঙ্গা বা কাগজের ব্যাগে মুখ আটকে দম ছাড়ুন। আবার ওটা থেকে দম নিন। খেয়াল রাখতে হবে ঠোঙ্গার ভেতর যেন বাইরের বাতাস না ঢুকে।
•    এক গ্লাস বরফকুচি ঠাণ্ডা পানি খেতে পারেন। স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিও খেতে পারেন। তবে ঠাণ্ডা পানি এ ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে।
•    জিহ্বা সামনের দিকে টেনে ধরে রাখতে পারেন।
•    হেঁচকি ওঠা ব্যক্তিকে অন্যমনস্ক করে দিলেও কাজে আসতে পারে। যেমন : তাকে উদ্ভট কিছু বলা- তুমি না কি মিথ্যা বলেছ বা তুমি না কি ওই কাজটি করনি ইত্যাদি।
•    লেবুতে কামড় দেওয়া যেতে পারে বা খাওয়া যেতে পারে।
•    জিহ্বার নিচে আধা চা চামচ চিনি দিয়ে রাখতে পারেন। যতক্ষণ পর্যন্ত চিনি না গলে ততক্ষণ পর্যন্ত রাখতে হবে। এভাবে কয়েকবার দিতে পারেন।
•    আঙুল দিয়ে জিহ্বার পেছনে শক্ত তালুতে হালকা স্পর্শ করতে হবে। হালকা স্পর্শ করলে এটা কমে যাবে।

প্রতিরোধ
ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, হেঁচকি প্রতিরোধে ধীরে ধীরে খাবার খেতে হবে। কোমল পানীয় বেশি পান করা যাবে না। ভারি খাবার খাওয়া এড়িয়ে যেতে হবে। এ ছাড়া যদি কোনো ওষুধের কারণে এই সমস্যা হয় তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সেটা পরিবর্তন করার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রতিকার 
ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, এই সমস্যায় সাধারণত ক্লোরপ্রমাজিন, হ্যালোপিরিডন, ম্যাটোক্লোরামাইড, ডেকলোফেম ইত্যাদি ওষুধ চিকিৎসকরা দিয়ে থাকেন। ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, এর চিকিৎসায় এন্টাসিড, ডমপিরিড, ওমিপ্রাজল জাতীয় ওষুধও দেওয়া হয়ে থাকে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, যদি হেঁচকি তিন ঘণ্টার ভেতর না কমে অথবা এর সাথে বমি, রক্ত বমি, জ্বর, পেট ব্যথা এ ধরনেরর সমস্যা হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এ ছাড়া কিডনির রোগীর যদি এ ধরনের সমস্যা হয়, হেঁচকির সাথে শ্বাস কষ্ট থাকে, বেশি সময় থাকে তবে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসক এর মূল কারণ বের করবেন।

অধ্যাপক ডা.এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, হেঁচকি হলে সাধারণত ভয়ের কিছু নেই। তবে বেশিক্ষণ হেঁচকি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।