মেইন ম্যেনু

‘হেফাজতের তাণ্ডবের সময় কোথায় ছিলো প্রগতিশীল শক্তি’

প্রগতিশীল রাজনীতির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের সময় কোথায় ছিলো শান্তি স্বপক্ষ দাবিদার প্রগতিশীল শক্তি?’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু জুলিও ক্যুরি পদক ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক’ অনুষ্ঠানে বুধবার সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জুলিও ক্যুরি-বঙ্গবন্ধু সংসদ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাম রাজনীতি আজ ক্ষীয়মান নদীর ধারার মতো বহমান। কোনো রকমে টিকে আছে। বারবারই ভাঙণের সুর বাজে। তাদের এই অবস্থার কারণেই সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। হেফাজতে ইসলামীর তাণ্ডবের সময়ে কোথায় ছিলো শান্তির স্বপক্ষ দাবিদার প্রগতিশীল শক্তি? সেদিন প্রধানমন্ত্রী বিনা রক্তপাতে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলেই দেশ দীর্ঘস্থায়ী প্রলম্বিত চক্রান্তের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলো।’

নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক লাঞ্ছনার বিষয়ে এই রাজনীতিক বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রগতিশীল শক্তিসহ অনেকেই শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিনিয়তই বলছেন, ‘দেখবো প্রধানমন্ত্রী কি করেন? অথচ তারা একটিবারের জন্যও দায়ী ব্যাক্তির (সেলিম ওসমান) দল জাতীয় পার্টির নেতাদের সমালোচনা করছেন না।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সময়ের মতো এখনও একটি চক্রান্তের বুলেট সক্রিয় অবস্থায় আছে। বুলেটটি প্রতিনিয়ত প্রধানমন্ত্রীকে পিছু তাড়া করে ফিরছে। মঞ্চের রাজনীতিতে ব্যর্থ হয়ে নেপথ্যে থেকে এই চক্রান্তে কারা জড়িত তা দেশবাসী জানে। বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকতে প্রায়ই বলতেন, আমাকে একটি বুলেট প্রতিনিয়ত তাড়া করছে। তখনকার সময়ে শান্তির স্বপক্ষের শক্তিরা দুর্বল থাকায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে জীবন দিতে হয়েছিলো।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এখন শান্তির পক্ষের শক্তি অনেক শক্তিশালী। কিন্তু শান্তির বিপক্ষ শক্তির সেই বুলেটের চক্রান্ত সক্রিয়। পূর্বের মতই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। জনগণের সাহায্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হটানো সম্ভব নয় জেনে শান্তি বিনষ্টকারী একটি মহল চোরাগুপ্তা হামলার পথ বেছে নিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা দেশকে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদের দিকে ঠেলে দিতে চায়।’

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শান্তি পদকের প্রস্তাবনাকারী ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অসামান্য অবদানের জন্য প্রয়াত কমরেড আলী আকসাদকে মরনোত্তর ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি’ পদকে ভূষিত করা হয়। আলী আকসাদের সহধর্মীনি মোমতাজ আকসাদের হাতে পুরস্কারের পদক, মেডেল ও ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন প্রধান অতিথি।

আয়োজক সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মোনায়েম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক।