মেইন ম্যেনু

হেলিকপ্টারে এসে পতাকা ওড়ালেন এমপি লিটন

শিশু শাহাদাত হোসেন সৌরভকে গুলি করে সারাদেশে তুলেছিলেন সমালোচনার ঝড়। যাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ চালিয়েছিল অভিযান। যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল দেশের সচেতন মানুষ।

আজ ছিল এর বিপরীত চিত্র। সাধারণ জনতা থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্তারা পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলেন সমালোচিত এই ব্যক্তির জন্য। তিনি গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন।

বিজয় দিবসের পতাকা উত্তোলন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বুধবার হেলিকপ্টারে করে সুন্দরগঞ্জে আসেন তিনি। তাও আবার আড়াই ঘণ্টা দেরিতে। এমপির দেরিতে আসার কারণে অনুষ্ঠান সূচিও পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয় স্থানীয় প্রশাসন।

এছাড়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় অংশ এমপি লিটনের হাত থেকে সংবর্ধনা নেননি।

অনুষ্ঠান সূচি পেছানোয় দুর্ভোগে পড়েন বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা শিশু-কিশোররা। সকাল থেকে তারা একটানা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। প্রশাসনের মধ্যেও এ নিয়ে দেখা দেয় অসন্তোষ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাই মিলটন বলেন, কুয়াশার কারণে এমপিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি দেরিতে আসে। এমপি মহোদয়ের জন্য অপেক্ষা করে আড়াই ঘণ্টা পর পতাকা উত্তোলনসহ অন্যান্য কর্মসূচি পালন করা হয়।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক গোলাম কবির মুকুল জানান, এমপির হাতে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। সেই সময় এ রাজকীয় হেলিকপ্টার ভ্রমণ নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। একটি দরিদ্র এলাকায় কোনো জনপ্রতিনিধির এভাবে আগমন কেউ স্বাভাবিক মেনে নিতে পারেনি।

পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এমপি যে কোনো বাহনেই আসুন না কেন সেটা তার ব্যাপার। কিন্তু তার এই বিলম্বের কারণে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে রাখাটা অমানবিক।

অন্যদিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় অংশ এমপি লিটনের হাত থেকে সংবর্ধনা নেননি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সূত্রে জানা গেছে, এমপির সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার কারণে তার কাছ থেকে অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা গ্রহণ করেননি।

তবে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লায়েক আলী খান মিন্টুসহ হাতে গোনা কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন বলে জানা গেছে।

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এমদাদুল হক বাবলু জানান, ‘যে এমপি মুক্তিযোদ্ধাদের রাজাকার এবং ডাকাত বলে গালি দেন তার হাতে সংবর্ধনা গ্রহণ অবমাননাকর। তাই আমরা তার হাতে সংবর্ধনা নেইনি।’

এদিকে বিকাল চারটার দিকে আলোচিত সমালোচিত এই এমপি আবার কপ্টারযোগে এলাকা ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি এমপির বাড়ির ওপর তিন বার চক্কর খায় এবং পরে কপ্টারটি ঢাকার পথে রওয়ানা হয়।