মেইন ম্যেনু

হোয়াটস অ্যাপে ভাইরাল ‘অন্ধ মেয়ে’র এই ছবি? জানেন মেয়েটির আসল পরিচয় কী?

উপরের ছবির বাচ্চা মেয়েটিকে চেনা চেনা লাগছে? লাগা অস্বাভাবিক নয়। হোয়াটস অ্যাপে দেদার ফরোয়ার্ড হচ্ছে এই মেয়ের ছবি। সঙ্গে থাকছে একটি লিখিত বার্তা। যাতে দাবি করা হচ্ছে, ‘এই মেয়েটি আসলে অন্ধ। এই মেসেজ যত বেশি সম্ভব শেয়ার করুন। কারণ আপনার প্রতিটি ফরোয়ার্ডেড মেসেজের জন্য হোয়াটস অ্যাপ কর্তৃপক্ষ এই মেয়ের পরিবারকে এক টাকা করে দেবে বলে স্থির করছে। সেই টাকা মেয়েটির দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে।’

ছোট্ট পরির মতো এই মেয়েটি যে অন্ধ তা জেনে, গলে যাচ্ছে অনেকেরই মন। ভাবছেন, একটি মেসেজ ফরোয়ার্ড করার মাধ্যমে যদি মেয়েটির চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে কিছুটা যদি সাহায্য করা যায়, তা হলে মন্দ কী! ভেবে, মেসেজটি পাঠিয়ে দিচ্ছেন কনট্যাক্ট লিস্টে থাকা সমস্ত বন্ধুকে। মনে মনে প্রার্থনা করছেন হয়তো, মেয়েটি এ বার সুস্থ হয়ে উঠুক। কিন্তু আপনার এই প্রার্থনা এবং প্রচেষ্টার সবটুকুই বিফলে যাবে। কারণ মেয়েটির এই সমস্ত প্রার্থনার কোনও প্রয়োজনই নেই। কেন? কেন না মেয়েটি আদৌ অন্ধ নয়।

হ্যাঁ, শুনতে যতই শকিং লাগুক না কেন, এটাই সত্যি। হোয়াটস অ্যাপে মেয়েটির ছবি সমন্বিত মেসেজটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পরেই ওয়েব দুনিয়ায় তত্ত্বতালাশ শুরু হয়। জানা যায়, মেয়েটির প্রকৃত নাম মেহদিস মোহাম্মদি। সে ইরানের তাব্রিজ শহরের বাসিন্দা। বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে সে। এবং বলা বাহুল্য, মেহদিস অন্ধ তো নয়ই, বরং দিব্যি সুস্থ সবল হাসিখুশি একটি বাচ্চা। কিছু কাল আগে সেফিডাক ডট কম নামের মধ্যপ্রাচ্য়ের একটি ওয়েবসাইট মেহদিসের উপরে একটি ফোটেফিচার করে। ছবিগুলিতে মেহদিসের নিষ্পাপ সারল্য এবং গভীর দু’টি চোখ সকলেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। তার ছবির উপর নজর পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবরের কারবারিদেরও। তারা দ্রুতই ওই ওয়েবসাইট থেকে মেহদিসের ছবি ডাউনলোড করে একটি ভুয়ো বার্তা তৈরি করে ছড়িয়ে দেয় হোয়াটস অ্যাপে। তার পর তাদের তৈরি করা ফাঁদে পা দেন অনেকেই। -এবেলা।