মেইন ম্যেনু

হ্যাকিং না, নিয়ম মেনেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ স্থানান্তর

হ্যাকিং নয়, সব নিয়ম মেনে আর রীতিনীতির ভেতর দিয়েই ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে তাদের অবস্থান সুস্পষ্টভাবেই জানিয়েছে।

কানাডাভিত্তিক অনলাইন ম্যাগাজিন নতুনদেশ.কম ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করে মার্কিন ব্যাংকটির বক্তব্য এবং অবস্থান জানিয়েছে। তাদের খবরে বলা হয়েছে, ব্যাংকটি এ ব্যাপারে কোনো দায় দায়িত্ব নিতে রাজি হয়নি। তবে বাংলাদেশকে লোপাট হওয়া অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে রাজি হয়েছে।

নতুনদেশ.কমকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এন্ড্রিয়া প্রিস্ট বলেছেন: ‘প্রশ্নসাপেক্ষ লেনদেন নির্দেশনাটি প্রচলিত অথেন্টিকেশন (প্রমাণীকরণ) প্রটোকল বা রীতি অনুসারে সুইফট মেসেজিং পদ্ধতি দ্বারা সম্পূর্ণরূপে অথেন্টিকেশন করা হয়েছিলো।’

এর ব্যাখ্যা দিয়ে বিশ্লেষকরা বলেছেন, লেনদেনের নির্দেশনাটি ঢাকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গেছে এবং প্রচলিত প্রমাণীকরণ প্রক্রিয়ায় সেই নির্দেশনাটি যথাযথ হওয়ায় নিউইয়র্কের রিজার্ভ ব্যাংকের একাউন্ট থেকে অর্থ স্থানান্তরিত হয়েছে।

ফেড-এর অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার প্রশ্নে তাদের আগের দেওয়া বক্তব্য পুনরুল্লেখ করে এনড্রিয়া বলেন, প্রশ্নসাপেক্ষ লেনদেনের ক্ষেত্রে ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম হ্যাক হওয়ার চেষ্টা হয়েছে আজ পর্যন্ত তার কোনো প্রমাণ নেই। ফেড সিস্টেম যে হ্যাক হয়েছে তারও কোনো প্রমাণ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ খোয়া যাওয়ার ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিলো নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে অর্থ লোপাট হয়েছে। পরে অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিত প্রয়োজনে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও বলেন।

এ প্রেক্ষাপটে নতুনদেশ.কমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক সূত্রে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মনোভাব এবং তৎপরতা জানার চেষ্টা করা হয়।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, অর্থ লোপাটের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরপরই ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক তাদের ভূমিকা এবং অবস্থান বাংলাদেশ ব্যাংককে পরিস্কার করে জানিয়ে দেয়। লেনদেনটি যেহেতু অনুমোদিত এবং বিধিমোতাবেক সম্পন্ন হয়েছে তাই ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংককে তদন্ত এবং অর্থ উদ্ধারে ফেড এর ম্যান্ডেট এর আওতায় যতোটুকু সম্ভব সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ফেড এর অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে প্রচার করে। পরে অর্থমন্ত্রী প্রয়োজনে মামলার ঘোষণাও দেন।

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কোনো ধরনের তদন্ত করবে কী না জানতে চাওয়া হলে ব্যাংকটির মুখপাত্র এন্ড্রিয়া প্রিস্ট জানান, ঘটনার শুরুর দিন থেকেই তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে আসছে, এবং এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যের বিষয়েও ফেড এর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিলো। তবে এ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এন্ড্রিয়া প্রিস্ট তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ইংরেজী পত্রিকা ‘ঢাকা ট্রিবিউনের’ একটি খবরের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি বলেন: আমি দুঃখিত। আমাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের বাইরে ঢাকা ট্রিবিউনে প্রকাশিত একটি খবরের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।’

এন্ড্রিয়া প্রিস্ট তার ইমেইলে ‘ঢাকা ট্রিবিউনে’ প্রকাশিত খবরের লিংক যোগ করার পাশাপাশি ঢাকা ট্রিবিউনে প্রকাশিত খবরের একটি অনুচ্ছেদ সংযুক্ত করে দেন। তাতে বলা হয়েছে: বাংলাদেশ ব্যাংক এখন তদন্ত করে দেখছে যে তাদের নিজেদের সিস্টেমের মধ্যে এমন কোনো ধরনের ফাঁকফোকর আছে কী না যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে অর্থ লোপাটের সুযোগ করে দিয়েছে।