মেইন ম্যেনু

‘হয় বিয়ে করো, নয়তো এসিড মারবো’

বিয়েতে রাজি না হলে এসিড দিয়ে এক তরুণীর শরীর ঝলসে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই তরুণীকে বলা হচ্ছে, ‘আমাকে ভালোবাসা দাও, তাহলে কোনো বিপদ নেই তোমার।’

শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানিয়েছেন হুমকির শিকার ওই তরুণী।

বিকেলে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দা ও খুলনার বিএল কলেজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্রী ওই তরুণী বলেন, ‘এলাকার নোয়াবেকি কলেজে পড়ার সময় থেকেই গ্রামের বখাটে কামরুল , রহিম, বাসার ও বিল্লালসহ কয়েকজন আমার পিছু নেয়। যাতায়াতের পথে একেক সময় একেক কথা বলে উত্ত্যক্ত করে। এ নিয়ে থানায় একবার একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছিলাম। কিন্তু তাদের কিছুই হয়নি।’

বাড়ি থেকে বের হলেই যাতায়াতের পথে এই বখাটেদের কেউ না কেউ তাকে উত্ত্যক্ত করবেই বলে জানান ওই তরুণী। এ ছাড়া বাড়িতে শুধু তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা থাকেন, যাদের নিয়েও সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তরুণী বলেন, ‘গত ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিজেদের বাড়ির টিউবওয়েল থেকে পানি তোলার সময় বখাটেরা আমার মুখ চেপে ধরে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি চিৎকার দিলে আমার মা ও প্রতিবেশীরা এসে তাদের ধাওয়া দেয়। আমি এ নিয়ে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা করি। পুলিশ মামলার আসামি ডুমুরিয়া গ্রামের বেল্লালকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শুনেছি পুলিশ তার কাছ থেকে বহু টাকা ঘুষ নিয়েছে।’

তাঁর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদ ও আসামি বেল্লালকে রেস্তরাঁয় বসে এক সাথে নাশতা করতে দেখা গেছে বলেও জানান ওই তরুণী। এর মধ্যেই শিগগিরই মামলার প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে শোনা যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

তরুণী দাবি করে বলেন, ‘বখাটেদের উৎপাত বন্ধ করা চাই। আসামিদের গ্রেপ্তার চাই। আর মামলার ফাইনাল নয়, চার্জশিট চাই।’

তবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন এসআই বেল্লাল। তিনি বলেন, ‘মামলাটি তদন্তাধীন আছে। তবে ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।’