মেইন ম্যেনু

ফলোআপ

১০দিনের টানা অনুপস্থিতি : ঝালকাঠি হাসপাতালের ১৩ জন ডাক্তারকে শোকজ

ঝালকাঠি হাসপাতালে ২০ জন ডাক্তারের মধ্যে ঈদের পূর্ব থেকে পরবর্তী টানা ১০ দিন মাত্র ৪জন ছাড়া বাকী ১৬ জন ডাক্তারই অনুপস্থিত থাকার সুনির্দষ্ট তথ্য সহ সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে চলতে শুরু করেছেন জেলা স্বাস্থ্যবিভাগের শীর্ষকর্তা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুর রহমি। উক্ত সংবাদ সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধতন মহলে দৃষ্টি গোচর হওয়ায় ইমেজ সংকটে পরে যাওয়া সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কারন দর্শানোর জন্য একযোগে ২ সিনিয়র ও ১ জুনিয়ার কনসালটেন্ট, ৯ মেডিকেল অফিসার সহ ১৩ জন ডাক্তারকে শোকজ করেছে। তবে শোকজ করার ক্ষেত্রে সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুর রহমি একই অপরাধে সিনিয়র ডাক্তারদের শোকজ না করায় চিকিৎসকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, ঝালকাঠি আধুনিক সদর হাসপাতালে কাগজ কলমে ২০ জন ডাক্তার কর্মরত থাকলেও ১৫ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা সম্পূর্ন ভেঙ্গে পরে। উক্ত বিষয়ে সুর্নির্দিষ্ট তথ্য সহ সংবাদ প্রকাশ হলে সিভিল সার্জন ২৬ জুলাই ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের এসব ডাক্তারদের সাথে তড়িগড়ি করে ব্যক্তিগত ভাবে যোগাযোগ করে কর্মস্থলে যোগদানের তাগিদ দেন। আর ২৭ জুলাই অর্থোসার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ মোঃ খোরশেদ আলম, অর্থপেডিকস বিভাগের জুনিয়ার কনসালটেন্ট ডাঃ মনিরুজ্জামান, ডেন্টাল সার্জন বিভাগের সংযুক্ত ডাঃ তোফাজ্জেল হোসেন, সহকারী সার্জন পদে সংযুক্ত ডাক্তার শিউলী পারভীন, সার্জারী বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ আঃ রহিম, মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফারজানা ইয়াসমিন, মেডিকেল অফিসার ডাঃ মুনিরা ইয়াসমিন, মেডিকেল অফিসার ডাঃ তামান্না পারভিন, মেডিকেল অফিসার ডাঃ মেহেদী হাসান, মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইসিতা দাস, মেডিকেল অফিসার ডাঃ বদরুদ্দোজা মোঃ জুবায়ের ও মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাওন বিন রহমান সহ ১৩ জনকে লিখিত শোকজ নোটিশ করা হয়েছে।

সূত্রটি আরো জানায়, সিভিল স্বার্জন কার্যালয়ে থেকে ২৭ জুলাই এই ১৩ জন ডাক্তারকে শোকজ নোটিশ প্রেরন করা হলেও ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ মির্জা মাহাবুবুর রহমান ও ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার পদে ডাঃ আলমগীর হোসেন, রেডিওলজিষ্ট পদে জুনিয়ার কনসালটেন্ট ডাঃ নাজনীন আক্তার একই দায়ে অভিযুক্ত ও সদর হাসপাতালে সংযুক্ত করার পর গত ৭ জুলাই যোগদান করে চলে যাওয়ার পর এ্যনেসথাসিয়ার সিনিয়ার কনসালটেন্ট ডাঃ আরিফুর রহমান ২৮ জুলাই মঙ্গলবার পর্যন্ত যোগদানও না করলেও রহস্য জনক কারনে তাদেরকে কোন প্রকার শোকজ করেনি। নামপ্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন জুনিয়ার ডাক্তার জানায়, জেলা স্বাস্থ্যবিভাগের শীর্ষকর্তা হিসাবে সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুর রহিম দায়ে ১৩ জুনিয়র ডাক্তারকে শোকজ নোটিশ দিলেও একই অপরাধে বাকী ডাক্তারদের বিষয়টি চাপিয়ে যাওয়া দু:খ জনক। এছাড়াও সিভিল সার্জনের এ তৎপরতার সংবাদ পেয়ে ২৭ জুলাই সোমবার গাইনী বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ মাহাবুবুর রহমান কর্মস্থলে যোগদান করেছে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধারক পদাধিকারী সিভিল সার্জন ডাঃ আঃ রহিম জানায়, হাসপাতালে নিযুক্ত ডাক্তারদের প্রতিদিনের উপস্থিতির খাতা অনুসারে এসব ডাক্তারদের শোকজ করে ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আর সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাক্তারদের মধ্যে যারা অনুপস্থিত ছিল তাদেও বিষয় স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজি কে লিখিত ভাবে অবগত করা হয়েছে। এছাড়া সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ মির্জা মাহাবুবুর রহমান ছুটিতে ও ডাঃ আলমগীর হোসেন নোটিশ দেয়ার দিনে কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন। আসলে হাসপাতালের চিকিৎসকদের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার সম্পূর্ন দায় আমার উপরে পরলেও আমি যোগ দানের পরে বেশকিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছি। আর যে কোন অনিয়ম হলে আমি জানা মাত্র ব্যবস্থা নিবো তাই আমি সকলের সহযোগীতা কামনা করছি।