মেইন ম্যেনু

১০০ বছর পর আইনস্টাইন তত্ত্ব প্রমাণিত!

শতাব্দীর অন্যতম সেরা আবিষ্কারের দরজায় দাঁড়িয়ে পৃথিবী। অবশেষে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন ঘোষিত মহাকর্ষীয় তরঙ্গের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে চলেছে বিজ্ঞান। মহাবিশ্ব জুড়ে প্রবাহিত হচ্ছে সুতীব্র মহাকর্ষীয় তরঙ্গরাজি। তার ফলে কখনো বেড়ে চলেছে আবার কখনো বা সঙ্কুচিত হচ্ছে মহাজাগতিক সময়। আইনস্টাইনের পূর্বাভাস এবার প্রমাণ করতে চলেছেন আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক দল। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা যায়।

ঘোষণায় অবশ্য জানানো হয়েছে, আইনস্টাইনের এই তত্ত্ব সম্পর্কে সাম্প্রতিক সংযোজন প্রকাশ করা হবে। তবে মহাকর্ষীয় তরঙ্গের অস্তিত্ব সম্পর্কে তারা যে নিশ্চিত, সে বিষয়ে নিঃসন্দেহ মহাকাশ গবেষকমহল। তাদের মতে, ঐতিহাসিক পূর্বাভাস সত্যি প্রমাণিত হলে মহাবিশ্বের উত্‍পত্তি সম্পর্কে নয়া দিশা পাওয়া যাবে।

আমেরিকার লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজারভেটরি সম্প্রতি এই বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবেশন করেছে। এই মানমন্দিরে রয়েছে ২টি ইনস্টলেশান যা পরস্পরের ৩০০০ কিমি দূরত্বে রয়েছে। এই ব্যবস্থায় লেজার রশ্মির সাহায্যে পাইপের নির্ভুল পরিমাপ গণনা করা যায়। পাইপের দৈর্ঘ্যের ন্যূনতম বিচ্যুতিও এই গণনা প্রক্রিয়ায় ধরা পড়ে। গবেষকরা জানিয়েছেন, পাইপের দৈর্ঘ্যে সামান্যতম তারতম্য ঘটলে তা মহাকর্ষীয় তরঙ্গের অস্তিত্ব প্রমাণ করে।

আইনস্টাইন মহাকর্ষীয় তরঙ্গের অস্তিত্বের পূর্বাভাস করেছিলেন। পরবর্তীকালে সেই তত্ত্বের উপর বিবিধ গবেষণায় সেই তরঙ্গের অস্তিত্ব খাতায়-কলমে প্রমাণিত হয়েছে। বলা যায়, এবার তার ব্যবহারিক প্রমাণ মিলতে চলেছে।

কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই সঙ্কেতের তাত্‍পর্য। আমরা যদি মহাকর্ষীয় তরঙ্গ নির্ভুল ভাবে মাপার উপায় নির্ণয় করতে পারি, সে ক্ষেত্রে মহাবিশ্বের জন্মরহস্যের উল্লেখযোগ্য দিক উন্মোচিত হতে পারে। অর্থাত্‍ যদি ওই তরঙ্গ এবং সেই সূত্রে মহাবিশ্বের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির উন্নতিসাধন করা সম্ভব হয়, তাহলে তা উন্নত টেলিস্কোপ আবিষ্কারের সমান বলে গণ্য হবে। তবে এক্ষেত্রে আলোর বদলে মহাবিশ্বের অতীত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে।

আসলে মহাকর্ষীয় তরঙ্গের মধ্যেই নিহিত রয়েছে তাদের জন্ম বৃত্তান্ত। এমন বহু তরঙ্গ মহাবিশ্বের রহস্যময় জন্মক্ষণে সৃষ্টি হয়েছিল, যে সময় একাধিক উপর্যুপরি মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং ঘটে। তরঙ্গরাজি বিশ্লেষণ করে সৃষ্টির সেই আদিযুগের অজানা তথ্যের হদিশ মিলতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন। এমনকি তরঙ্গ প্রবাহের সঠিক বিশ্লেষণে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর এবং তারাদের জন্মও রীতিমতো ‘চাক্ষুস’ করা সম্ভব হবে বলে তাদের দাবি। আর সেই সূত্রেই উন্মোচিত হতে পারে ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি রহস্য এবং তার এযাবত অচেনা গন্তব্যগুলির পথ নির্দেশ।

বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী এবং ইঞ্জিনিয়াররা নিত্যনতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারে মগ্ন রয়েছেন যার সাহায্যে আরো বেশি সংখ্যক মহাকর্ষীয় তরঙ্গ বিশ্লেষণ করা যাবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প Elisa মিশন। অত্যাধুনিক এই প্রকল্পে ৩টি মহাকাশযানের সাহায্যে মহাকাশে ১০ লক্ষ কিমি প্রস্থের বিশেষ অ্যান্টেনা পাঠানো হবে। ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর এই প্রকল্পের অধীনে মহাকাশে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ অনুসন্ধান করতে রওনা দিয়েছে বিশেষ যান লিজা পাথফাইন্ডার।