মেইন ম্যেনু

১০২ বছরে পিএইচডি

জার্মানির ১০২ বছর বয়সি এক নারী পাচ্ছেন ডক্টরেট ডিগ্রি (পিএইচডি)। পেশায় তিনি চিকিৎসক। হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় আগামী সপ্তাহে ইনজেবোর্গ র‌্যাপোপোর্ট নামের এই নারীর হাতে তুলে দেবে সনদপত্র।

বলে রাখা ভালো, তিনি এত বেশি বয়সে গবেষণা করে ডক্টরেট ডিগ্রি পাচ্ছেন, বিষয়টি এমন নয়। ৭৭ বছর আগে ১৯৩৮ সালে যখন র‌্যাপোপোর্টের বয়স ছিল ২৫ বছর তখন ডিপথেরিয়ার ওপর তার গবেষণাপত্র (অভিসন্দর্ভ) গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেখানেই শেষ। আর কোনো প্রক্রিয়া এগোয়নি।

হলুদ কালি দিয়ে তার অভিসন্দর্ভ চিহ্নিত করা হয়। হলুদ কালি নিষিদ্ধ অর্থে ব্যবহৃত হতো। ফলে একাডেমিক বিশেষজ্ঞদের সামনে তার আর মোখিক পরীক্ষাও হয়নি।

এখন ২০১৫ সাল। র‌্যাপোপোর্ট বার্লিনে থাকেন। মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপন ছেড়েছেন প্রায় তিন দশক আগে। এত দিন র‌্যাপোপোর্টকে কেন ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হয়নি? তার মা ছিলেন ইহুদি। সেই সূত্রে তিনিও ইহুদি। একমাত্র এই কারণে তাকে ডিগ্রি দেওয়া হয়নি। জার্মানিতে হিটলার নেই। তার অনুগত নাৎসি বাহিনীর দৌরাত্ম্যও অতীত হয়েছে। ‘মানবিক’ জার্মানিতে একজন ইহুদিকে ডক্টরেট ডিগ্রি দিতে এখন কোনো বাধও নেই।

গত বছর হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও র‌্যাপোপোর্টের ছেলে টম হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তার মাকে ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাজি হলেও শর্ত জুড়ে দেয়। বলা হয়, র‌্যাপোপোর্টকে অবশ্যই মৌখিক পরীক্ষায় বসতে হবে এবং উত্তীর্ণ হতে হবে। শর্তে রাজি হন র‌্যাপোপোর্ট।

নিওনাটাল বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসক র‌্যাপোপোর্ট ডিপথেরিয়া বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। মৌখিক পরীক্ষায় ঠিকঠাক উতরে যান তিনি। ফলে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনে তার সব বাধা দূর হয়।



(পরের সংবাদ) »