মেইন ম্যেনু

১২টি মৃত্যুকূপ, যেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন (দেখুন ছবিতে)

মানুষের বসবাসের উপযোগী, এখন অব্দি খুঁজে পাওয়া, একমাত্র আশ্রয়স্থল পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে হাজার রকমের সৌন্দর্য। কি নেই পৃথিবীতে! পাহাড়ের সুউচ্চ শিখর, সমুদ্রের নোনা ঘ্রাণ আর অপূর্ব সব গন্ধের মিশ্রণ, বনের আদিমতা, আকাশে নানা রং এর ছোটাছুটি- সব মিলিয়ে মনে হয় সত্যিই যেন বিধাতা নিজের অসাধারন পারদর্শীতা আর মনযোগে, অনেক বেশি যত্ন আর সময় নিয়ে গড়ে তুলেছেন এই পৃথিবীকে। কিন্তু প্রতিটি ভালোর একটি খারাপ দিকও থাকে। প্রদীপের অপর তলাটির মতন অন্ধকারময় কিছু ব্যাপার রয়েছে পৃথিবীরও। পৃথিবী যেমন নিজের সৌন্দর্য আর উর্বরতা দিয়ে মানুষের মন আর শরীরের চাহিদা মেটায়, তেমনি এর এমন কিছু স্থানও রয়েছে যেগুলো মানুষকে ঠেলে দেয় মৃত্যুর মুখে।

এই স্থানগুলোর কতগুলো মানুষের তৈরি আর কতগুলো পৃথিবীর নিজস্ব। কোথাও গেলে হয়তো গুলির মুখে পড়তে হবে আপনাকে, আবার কোথাও প্রাকৃতিক দুর্যোগ! তবে বিপদ যে দিক দিয়েই আসুক না কেন, সেটা বিপদই! আর পৃথিবীর এমনই মৃত্যুর হুমকি নিয়ে অপেক্ষায় থাকা কিছু ভয়ংকর স্থানকে নিয়ে এই আয়োজন।

12

সানা (ইয়েমেন)

ইয়েমেনের এই স্থানটিকে মানুষের জন্যে মৃত্যুকূপ বলে মনে করা হয়। সানার মানুষগুলোর প্রতি আমেরিকা আর ব্রিটেনের ক্রমাগত পরামর্শ হচ্ছে দেশ ছেড়ে চলে আসা। কারণ সেখানে যেকোন সময় যে কাউকে মারা যেতে হতে পারে। রাজনৈতিক অবস্থা এতটাই ভয়াবহ সানার যে সন্ত্রাসবাদ প্রচন্ডভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এতকিছুর পরেও সমুদ্র থেকে ৭,৫০০ ফুট উপরে জেগে থাকা সানাতে কেবল যে মানুষ বসবাস করে তাই নয়, একে দেখতে মাঝে মাঝেই নিজের জীবন হাতে রেখে অনেক মানুষও পাড়ি জমায় এখানে পর্যটক হিসেবে।

11

কেপ টাউন (সাউথ আফ্রিকা)

সাউথ আফ্রিকার এই স্থানটি এমনিতে সবাইকে, বিশেষ করে পর্যটকদের আকর্ষণ করলেও সানার মতন এখানকার রাজনৈতিক অস্থিরতা আর সন্ত্রাসবাদ কেউপ টাউনকে করে তুলেছে সবার কাছে এক ভয়াবহতার প্রতীক। তবুও এখানে মানুষ আসে এবং ঘুরে বেড়ায়। তবে সেটাও অনেক সাবধানে। এর কিছু কিছু জেলা প্রচন্ড রকম ঝুঁকিপূর্ণ। আর তাই কেপ টাউনে বেড়াতে আসলেও একলা বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় সবাইকে।

10

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন (অ্যারিজোনা)

সাধারণত পর্যটনস্থল হিসেবে বেশ বিখ্যাত হলেও আদতে এটিকে মৃত্যুর প্রবেশদ্বার বলে মনে করা হয়। প্রতিনিয়ত গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে মানুষ মারা যায়। অনেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে, আবার অনেকে খানিকটা ইচ্ছে করেই। ভাবেছেন ইচ্ছে করে আবার কেউ কেন মরতে যাবে? বাস্তবতা হল- যায়! আর তাই গ্র্যান্ড ক্যানিয়নকে আত্মহত্যা করবার তালিকায় দুই নাম্বারে রাখা হয়েছে।

9

হুয়াশান পাহাড় (চীন)

চীনে মোট ৫ টি পাহাড় রয়েছে যেগুলো একসঙ্গে ফুলের মতন আকৃতি নিয়েছে সময়ের বিবর্তনে। আর এদের ভেতরে ধর্মীয় দিক থেকে সবচাইতে এগিয়ে রয়েছে হুয়াশান নামের পাহাড়টি। প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে এই পাহাড়ে ট্র্যাকিংএর জন্যে। একে পবিত্র, তারপর ট্র্যাকিং এর জন্যে আদর্শ! আর কি চাই? এখানে মারা গেলে পবিত্র স্থানে মারা যাবার খেতাব ও বিনামূল্যে শেষকৃত্য পাওয়ারও সুযোগ রয়েছে। তবে সেই সঙ্গে আছে সাত হাজার ফুট ওপর থেকে পড়ে মারা যাবার ভয়ও। তবে এত ভয়ও দমিয়ে রাখতে পারেনা অনেককে। পৃথিবীর নানা কোণ থেকে আসা প্রায় ১০০ মানুষ প্রতি বছর মারা যায় এখান থেকে পড়ে।

8

চারনোবিল পাওয়ার প্ল্যান্ট (উইক্রেন)

২৫ বছর আগের কথা। হঠাৎ করেই ইউক্রেনে প্রিপিয়াটে অবস্থিত চারনোবিল পাওয়ার প্ল্যান্ট নামের এই প্ল্যান্টটি বিস্ফোরিত হয় এবং এর ভেতরকার রেডিয়েশন পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এতদিনে সবটা একদম ঠিকঠাক হয়ে গেলেও প্রিপিয়াটে ব্যাপারটা কিন্তু আগের মতনই আছে। একই রকম রেডিয়েশনে ভরা স্থানটি থেকে হুটহাট বিষাক্ত রাসায়নিক বেরিয়ে মেরে ফেলে আশপাশের অনেককে। এতটা জানবার পরে কি জীবনটা হাতে নিয়ে আর এমন জায়গায় ঘুরতে যাবেন আপনি? তবে আশ্চর্যের কথা হচ্ছে সেটাই হয় এবং প্রতিবছরই বেশকিছু মানুষ মারাও যায় এখানটা ঘুরতে এসে। আর এ জন্যে তাদেরকে পরিশোধ করতে হয় ভেতরে ঢোকার প্রবেশমূল্যও!

7

সেরো নেগ্রো (নিকারাগুয়া)

নিকারাগুয়ায় অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরিটি গত ১০০ বছরে মোট ২৩ বার উদগীরণ করেছে। সামনে হয়তো আরো বেশি করতে পারে। প্রায়ই এটাকে কাঁপতে দেখা যায়। এর পাশের মানুষগুলোর উচিত তখন সেখান থেকে সরে যাওয়া। কিন্তু তারা সেটা তো করেই না, উল্টো পর্যটকদের আকর্ষণে পরিণত হয়েছে এই স্থানটি কেবল এই আগ্নেয়গিরিটির জন্যে। হাজার হাজার মানুষ এখানে আসে নানারকম প্যাকেজ নিয়ে যেখানে তাদেরকে আগ্নেয়গিরি কাঁপবার সময়েই হেলিকপ্টার করে সেটার ওপর বসিয়ে দেওয়া হবে এবং পিছলে নীচে নেমে যাবে তারা। এখন অব্দি কোন প্রাণহানীর ঘটেনি এখানে। তবে যেকোনো ঘটতে পারে দারাত্মক বিপর্যয়।

6

বলিভিয়া

বাইকে করে ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছে কার না থাকে? নিজের ইচ্ছে মতন মাটিতে হাওয়ার বেগে উড়ে চলার এই অভিজ্ঞতা প্রায় সবাই নিতে চায়। বিশেষ করে বলিভিয়ায় ঘুরতে যাওয়া পর্যটকেরা। আঁকাবাকা রাস্তা ধরে টানা বাইকে ঘোরাঘুরি কেবল। শুনতে আরো রোমাঞ্চকর লাগবে আপনার, যখন আপনি জানবেন যে এই রাস্তাটা পুরোটাই চলে গিয়েছে পাহাড়ের ওপর দিয়ে অনেকটা সরু হয়ে। পাহাড়ের ওপরে রাস্তা? তাও আবার সরু? শুনে অনেকেই হয়তো পেছাবেন খানিকটা। কিন্তু তারপরেও থেকে যান কিছু মানুষ যারা শেষ অব্দি বাইকে ভ্রমণটা সেরেই ফেলেন। তাও আবার বলিভিয়ার সবচাইতে বিপদজনক রাস্তা ইউনগাসের ওপর দিয়েই। ৪০ থেকে ৫০ অব্দি গতিবেগ নিয়ে যান তারা। আর ফলাফল? প্রতি বছর প্রায় ২০০ জন পর্যটককে নিজের কাছে টেনে নেয় ইউনগাসের নীচটা।

5

জাভা

প্রাকৃতিক দূর্যোগের কেন্দ্রভূমি এই স্থানটিতে কি নেই বলুন? সুনামি, বন্যা, ভূমিকম্প, খরা, অগ্ন্যুৎপাত- সবটারই দেখা পাওয়া যায় এখানে। ২০০৪ সালে সুনামিতে প্রায় ২,২৭,০০০ জন মানুষ মারা যায় এখানে। যার কদিন পরেই আবার এখানে আঘাত হানে ৯.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প। পুরোপুরি কাঁপিয়ে দিয়ে যায় জাভাকে। গত ১০০ বছরে এখানে এত বেশি প্রাকৃতিক দূর্যোগের দেখা মিলেছে যে এখানে থাকা, এবং বেঁচে থাকার আশা মনে রাখা সত্যিই বেশ মুশকিল ব্যাপার।

4

বাগদাদ (ইরাক)

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের বেশ ঝকঝকে একটা অতীত থাকলেও সেটা এখন কেবলই অতীত। বর্তমানে বাগদাদ মৃত্যুর জন্যে অনেক বেশি উপযুক্ত একটি জায়গা বাদে আর কিছুই নয়। বাগদাদে পা রাখতে এখন সব এজেন্টই সাবধান করে দেয় পর্যটকদের প্রথমে। পৃথিবীর সবচাইতে কম আতিথেয়তাপূর্ণ ও সবচাইতে খারাপ শহরের তালিকায় বাগদাদ বেশ এগিয়ে রয়েছে। আর কিছু নয়, এখানকার সন্ত্রাসবাদ, গোলাগুলি আর ক্মাগত বোমার বিস্ফোরন আপনাকে ভ্রমণের প্রথমদিনেই ভাবতে বাধ্য করবে এখানে পরবর্তী দিন থাকার ব্যাপারে।

3

গুয়েতামালা (যুক্তরাষ্ট্র)

যুক্তরাষ্ট্রের এই স্থানটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের বেশ পছন্দের। প্রতি বছরেই হারিকেন, ভূমিকম্প আর ভূমিধ্বসের মুখোমুখি হতে হয় একে অনেকবার। ১৯৭৬ সালে ৭.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে এখানকার প্রায় ২৩,০০০ মানুষ মারা যায়। তবে সেটা শেষ নয়। ২০০৫ সালের ভয়ংকর হারিকেনও পুরো বিশ্বকে আরো একবার মনে করিয়ে দেয় বসবাসের জন্যে কতটা ভয়াবহ আর মৃত্যুর জন্যে কতটা ঠিকঠাক স্থান গুয়েতামালা।

2

ইস্তাম্বুল (তুরস্ক)

১৯৯৯ সালে ৭৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে প্রায় ৪০,০০০ মানুষ মারা যায় এখানে। তবে সেটা ছিল কেবল একটি নমুনা কেবল। এর পর প্রায়ই ভূমিকম্পন অনুভূত হয় তুরেস্কর এই শহরে। আর দিনকে দিন বিশেষজ্ঞদের মতে সেটার জোর আর সম্ভাবনা কেবল বেড়েই চলেছে। তবুও নিজেদের মৃত্যুকে সামনে রেখেও নর্থ আনাটোলিয়ান ফল্টের ওপর প্রায় ১২ মিলিয়ন মানুষ এখন মৃত্যূর জন্যে বসে আসে ইস্তাম্বুলে। অপেক্ষা কেবল একটি ভূমিকম্পের।

1

সান পেদ্রো সুলা (হন্ডুরাজ)

প্রচন্ডরকম সন্ত্রাসবাদ আর অস্থিরতায় মোড়া হন্ডুরাজের সান পেদ্রো সুলার শহরের আরেক নাম হচ্ছে খুনীদের রাজধানী! আর সত্যিই নিজের নামের স্বার্থকতা রক্ষা করতে এখনো অব্দি সন্ত্রাসীদের স্বর্গে পরিণত হয়ে আছে এটি। তবে প্রায় খুন-জখম-রাহাজানীসহ নানারকম অবৈধ আর অন্যায় কাজ হলেও সেগুলোর বেশিরভাগ দোষটাই এখানে চলে যায় হাতে গোনা কিছু গ্যাংয়ের দিকেই!