মেইন ম্যেনু

১২০ নং রুমে বন্দী চাকরিজীবিদের স্বস্তি-ডাল তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দার মধু

জামাল জাহেদ, প্রতিবেদকঃ মহেশখালি উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে ১২০নং রুমে চলছে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানি। দীর্ঘদিন উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার না থাকাতে জুনিয়র অডিটর মধুর ফাঁদে চাকরিজীবিদের যায় যায় অব্স্থা। আর এক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিভিন্ন স্তরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবিদের। বিশেষ করে বেতন-ভাতা উত্তোলনের সময় ভোগান্তির মাত্রাটা বেড়ে যায় দ্বিগুণ।

নির্ধারিত হারে ঘুষ ছাড়া মাসিক বেতন, কমিশন ছাড়া নতুন জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন, কল্যাণ ফান্ড, আনুষাঙ্গিক ভাতা, মেডিকেল বিল, পেনশন, টাইমস্কেল, সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিলের বিল হয় না। আর এ অনিয়ম ও দুর্নীতির পিছনে জড়িত মহেশখালিতে দায়িত্ব থাকা জেলার আরেক হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মুৎসুদ্দী ও জুনিয়র অডিটর মধু। এদিকে যদিও মহেশখালির উপজেলার দায়িত্ব নেয় মুৎসুদ্দী তবে কোনদিন মহেশখালিতে অফিস করেনি বলে দপ্তর সুত্রে জানা যায়। তারপরেও নির্বিঘ্নে চলছে অফিসের সমস্ত কাজ জুনিয়র অডিটর মধুর হাতে সেক্ষেত্রে নীরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

এতে করে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে উপজেলার শিক্ষক সমাজ সহ চাকরিজীবিরা। এই অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা না হলে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষায় নিয়োজিত শিক্ষকরা। সম্প্রতি অবসরে যাওয়া ৯ শিক্ষক অভিযোগ করেন-অবসর ভাতা নিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুষ দিতে হচ্ছে হিসাব শাখার মধুকে। নিয়মিত স্কুল কন্ট্রিনেন্সী নিতে ২৪ বিদ্যালয়কে দিতে হচ্ছে নির্ধারিত হারে উৎকোচ।

তাছাড়া জাতীয়করণকৃত উপজেলার ১৩ টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করতে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয় বলে জানা যায়। ইচ্ছে করে ককসবাজার বসে থেকে মহেশখালি অফিস করা কোন ডিজিটাল পদ্ধতি কেহ না বুঝলেও, মধু প্রতিনিয়ত উপজেলা হিসাব শাখার দায়িত্বে থাকা মুৎসুদ্দীর কাছে ফাইল নিয়ে ককসবাজার যেতে হবে এমন অজুহাতে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিমাসে অর্ধলক্ষ টাকা। ফলে হয়রানি হচ্ছে শতাধিক চাকরিজীবি।

অপরদিকে নিজ উপজেলাতে দীর্ঘদিন চাকরিতে কেন বহাল রয়েছে তার কোন সঠিক তথ্যও দিতে পারেন নি সংশিষ্ট শাখার কেহ । এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মহেশখালি উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ শাহাজান অভিযোগ করে বলেন-টাইম স্কেল,সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল সহ সব বিষয়ে নতুন নতুন নিয়ম দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কাঁচা টাকা তবে অনেকটা নিরুপায় বলে জানান তিনি। তার কারন হিসাবে উল্লেখ করেন দীর্ঘদিন উপজেলা হিসাব সংরক্ষণ অফিসার না থাকাতে অফিসের কেরানি আজ বড় অফিসারের ভূমিকায় নাদুশ নুদুস শুরু করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অনেকে বলে ডাল তলোয়ার বিহীন নিধিরাম সর্দার মধু।

ঘটনার সত্যতা প্রমানে সরেজমিনে অফিসে গেলে দেখা হয়,মহেশখালীর এক অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (আবু ছৈয়দ) অভিযোগ করেন, তিনি এল পি আর অবসর ছুটিতে যায় ১০/০২/২০১৫- ১০/০২/২০১৬। চাকরিস্থল ছিলো রাজঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাতার বাড়ী। আরো জানতে পারি,অত্র স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক হিসাবে ১৯৮১ সাল থেকেই প্রধান শিক্ষক হয়ে রেজিস্টার প্রাইমারি পরে সরকারী করন হয়ে অবসরে গেলে আজ দীর্ঘ ৬মাস যাবত হয়রানি করতেছে মহেশখালি হিসাব শাখার জুনিয়র অডিটর মধু। নিজেদের চাহিদা মতো কমিশন দিতে রাজি না হওয়ায় গড়িমসিতে এ শিক্ষকের আজ করুন অবস্থা।এখনো আটকিয়ে রেখেছে ফাইল মর্মে প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন বলেন,দীর্ঘ ৬মাস সে হয়রানির শিকার হচ্ছে।

যদি ও উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জুন ক্লোজিং উপলক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিল দেয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন । উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মুৎসুদ্দী ও অডিটর মধুর যৌথ নাটকে ব্লড রেজিস্টার ২৫ টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন, ভ্রমন ভাতা বিল, অবসরভাতা, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কাবিটা, ননওয়েজ, অতিদরিদ্রের কর্মসংস্থান ও বিভিন্ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিলে শতকরা ১০ থেকে ১৫% টাকা উৎকোচের বিনিময়ে বিলের কাগজ স্বাক্ষর করেছে। অডিটর বিমুর্ত মধু বিল জমাদানকারীর নিকট বেতনের ফাইল প্রস্তুত করতে ৯থেকে ১২ শ টাকা নিয়ে কর্মকর্তার কাছে জমা দেন।

গত ৩০ জুন ক্লোজিং রাত ৯ থেকে ১২ টা পর্যন্ত হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার রুমে গিয়ে দেখা যায় তিনি বিলের কাগজ না দেখেই অবাধে স্বাক্ষর দিয়ে বিল প্রদান করেছে। মহেশখালী ইউনিয়নের সচিব ও সদস্যদের সাথে কথা হলে তারা জানান, প্রকল্পের বিল উত্তোলন করতে হিসাবরক্ষণ অফিসের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও অডিটরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে বিল পাশ করতে হয় তাদের। উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মুৎসুদ্দী উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে নিজের ফায়দা লুটে নিচ্ছে। অপরদিকে টাকা না দিলে বেতন ভাতার বিভিন্ন বিল নিয়ে অফিসে অফিসে ধন্যা দিতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের মধু বলেন, অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু ছৈয়দ থেকে উৎকোচের টাকা গ্রহণ করা হয়নি তবে সে পেনশনে তার বেতন স্কেল পাবেনা বলে জানান । অন্যদিকে জেলা অফিস যদি একবার পাশ করে দেয় তার বেতন স্কেল,বেতন ও গ্রহন করে সে স্কেলে তার পরেও কেন কার্যকর হবেনা এমন প্রশ্নের কোন সৎউত্তর দিতে পারেনি মধু।

অন্যদিকে মহেশখালি উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশিষ চিরানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,বিষয়টি তিনি অবগত অবসর পেনশন কত স্কেলে বেতন পাবে তার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তিনি তবে বাকিটা হিসাব শাখায় দিচ্ছেনা কেন তাদের বিষয় বলে উড়িয়ে দিলেও অনেকে মনে করেন সবকিছু একটা সিন্ডিকেটে বন্দী।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কেহ যদি উপজেলা হিসাব শাখা কতৃক হয়রানির শিকার হন সরাসরি তার কাছে অভিযোগ করতে তিনি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।