মেইন ম্যেনু

১২২টি বিড়ালের মা, মানুষের চরিত্রও অদ্ভুত

পৃথিবীতে বিচিত্র ঘটনার যেন শেষ নেই। এ নশ্বর পৃথিবীতে কখন কি ঘটে, তা আঁচ করাও অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। মানুষের চরিত্রও অদ্ভুত। এক একটি মানুষের আচার-আচরণ, অভ্যাস অন্য মানুষের সঙ্গে ভিন্ন হবে, সেটাই স্বাভাবিক।

লন্ডনের কেন্ট থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ডাউনি গ্রামে বাস করেন সচ্ছল এবং আভিজাত্যে মহীয়ান সিলভানা ভ্যালেন্টিনো লকি। এ মাঝবয়সি নারী এখন সারা পৃথিবীর সংবাদ শিরোনামে পরিণত হয়েছেন। কী এমন বিখ্যাত কাজ করলেন, যে সবাই তাকে মহৎ বলে আখ্যা দিচ্ছে।

জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর- এ মহৎ বাক্য তিনি শুনেছেন কি না তা জানি না। কিন্তু নিরীহ পশুর প্রতি তার ভালোবাসা দেখে, শুধু এটাই মনে হয়, জীবের প্রতি তার প্রেম, অন্য কিছুর সঙ্গে তুলনা চলে না। ১২২টি বিড়ালের মা তিনি। কথাটা শুনে অবাক হচ্ছেন? হওয়ার কথা বটে। কিন্তু এটাই সত্য। বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলা হচ্ছে না।

৫৫ বছর বয়সি সিলভানা ভ্যালেন্টিনো লকির বাসাটিও বেশ সুন্দর। চারদিকে গাছগাছালিতে ভরা। সবুজের সমারোহ। দেখলেই মনে হবে খামারবাড়ি। শতাধিক বিড়ালের আদরযত্নে কোনো ত্রুটি করেন না সিলভানা। এদের নিয়েই তার দিন কেটে যায়।

এ ১২২টি বিড়ালের মধ্যে ৫২টি থাকে তার চার রুমের বাসায়, ৪০টি তার পারিবারিক বাগানে, এদের জন্য মনোরম পরিবেশে ঘর তৈরি করে দিয়েছেন, বাকি ৩০টি প্রতিবেশীদের বাগানে থাকে।

সিলভানা ভ্যালেন্টিনো লকির বাড়ির প্রতিটি সদস্য বিড়ালগুলোর প্রতি বেশ যত্নশীল। বিড়ালের গোসল, খাওয়া-দাওয়া, তাদের ওষুধপত্র সবকিছুই নিয়মমাফিক দেখভাল করেন সিলভানা। সিলভানা তার বিড়ালগুলোকে নিয়ে বেশ গর্বিত। তাদের পরম আদর, স্নেহে ভরিয়ে রাখেন। বিড়ালগুলোর কোনো কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারেন না। মাতৃস্নেহে বিড়ালগুলোকে লালন-পালন করেন।

বিড়ালের সেবাযত্ন, খাওয়া-দাওয়া এবং ওষুধপত্র বাবদ বছরে ব্যয় হয় ৯০ হাজার পাউন্ড। এ বিশাল অর্থের অর্ধেক জোগানদাতা সিলভানার স্বামী টনি হাব, বাকি ৪৫ হাজার পাউন্ড বিভিন্ন অনুদান থেকে সংগ্রহ করেন তিনি। বিড়ালগুলোর দেখাশোনা শুধু সিলভানা একাই করেন না, তার স্বামী টনি হাব এবং দুই ছেলে টনি ড্যানিয়েল ও টনি জুনিয়র- এ চারজন মিলেমিশে ১২২টি বিড়ালের সেবাযত্ন করেন।

aa

বিড়াল কোলে নিয়ে আদর করছেন সিলভানা

বিড়ালগুলোর সেবাযত্ন করতে সিলভানার কোনো ক্লান্তি নেই, কোনো কষ্ট অনুভব করেন না, বরং আনন্দ পান। সিলভানা বলেন,‘বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা, এটা আমার একটা নেশা। এ ১২২টি বিড়ালকে আমি আমার দুই সন্তানের মতোই ভালোবাসি। আমার স্বামী টনি হাব তার আয়ের বিশাল একটা অংশ বিড়ালের জন্য ব্যয় করেন। তিনি কখনো বিরক্ত হন না।’

বিড়ালগুলো দেখাশোনা করা মৌলিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে মনে করেন সিলভানা। তিনি আরো বলেন, ‘কোনো চ্যারিটি সংস্থা থেকে যখনই ফোন আসে, রাস্তায় বিড়াল পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, আপনি সেটা সংগ্রহ করবেন কি? এ কথা শুনে না বলতে পারি না।’

সিলভানা বলেন,‘আমার গাড়ির প্লেট নম্বরে লেখা আছে ম্যাড ক্যাট ওম্যান। আমার কাজকর্ম দেখে অনেকে পাগলও ভাবতে পারেন, তাতে কিছু যায় আসে না।’ বিড়ালের প্রতি এত ভালোবাসা, এত আদরযত্ন, তার একটি ছোট্ট ইতিহাস রয়েছে, সেটাই জানালেন সিলভানা।

শৈশবে ইতালিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন সিলভানা। সেখানে একটি নাচের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তখন তার বয়স ১১ বছর। নাচ শেষে একটা বিড়ালকে কোলে নিয়ে আদর করেন। আর এভাবেই বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা জন্মাল তার।

‘দাদি বিড়াল পুষতেন। আমাদের রান্নাঘরে বিড়ালের আনাগোনা ছিল হরদম। একদিন একটা বিড়ালকে অসুস্থ অবস্থায় শুয়ে থাকতে দেখলাম, ভালো করে লক্ষ করলাম সে গর্ভবতী। বিড়ালটার প্রতি বিশেষ সেবাযত্ন করলাম। আমি যখন প্রথম মা হলাম তখন আমার সন্তানকে যেভাবে আদরযত্ন করেছি সেভাবেই গর্ভবতী বিড়ালকে সেবা করেছি’, বলেন সিলভানা।

বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের দেখাশোনা করে দীর্ঘ ৪০ বছর পার করেছি। অনেকেই তাকে প্রশ্ন করে, কেমন করে পারলেন? তোমার স্বামী কি কখনো বিড়ালগুলোর ওপর বিরক্ত হয়? এর উত্তরে সিলভানা বলেন, ‘টনি হাব কখনোই বিরক্তবোধ করেন না, বরং বিড়ালগুলোর পরিচর্যায় আমাকে সহায়তা করেন।’

তথ্যসূত্র : মিরর অনলাইন।