মেইন ম্যেনু

১২ বছর বয়সেই নিজের শরীর বিক্রি করছে যে দেশের মেয়েরা

লেবাননে আশ্রয় নেওয়া সিরীয় শরণার্থী নারী ও মেয়ে, যাদের অনেকের বয়স মাত্র ১২ বছর, বাধ্য হয়ে নিজের শরীর বিক্রি করছে, যাতে তাদের পরিবার বেঁচে থাকতে পারে। সাহায্যকর্মীরা একে বলছেন ‘সার্ভাইভাল সেক্স’ বা ‘বেঁচে থাকার জন্য যৌনকর্ম’।

তবে ভয়ংকর বিষয় হলো, অল্পবয়স্ক কন্যাশিশুদের ‘বিয়ে’ দেয়া হচ্ছে, যে বিয়ের মেয়াদ মাত্র কয়েক দিন। সেটিও করা হচ্ছে অর্থের প্রয়োজনে। সাহায্যকর্মীরা বলছেন, এ ‘বিয়ে’ হলো নকল। বিয়েতে বর যৌতুক বা কিছু অর্থ দেয় কনেকে। মুসলিম সমাজে একে বলা হয় কাবিন। কয়েক দিন পর স্বামী পরিত্যাগ করে মেয়েটিকে। বৈধতার মোড়কে এভাবেই চলছে দেহব্যবসা।

লেবাননের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির ঘুরে লেখা এমন একটি প্রতিবেদন ছেপেছে ডেইলি মেইল।

কর্মকর্তাদের দাবি, বিদেশিরা এসে এ ধরনের ‘বিয়ে’ করে। স্থানীয় আদালতের রায় মোতাবেক, এ বিয়ে বৈধ। মাত্র ৭২ ঘন্টা পরই তালাকের মাধ্যমে ইতি ঘটতে পারে বিয়ের।

শরণার্থী শিবিরে কর্মরত সাহায্যকর্মীরা কিছু ঘটনার কথা বলেন। ১৪ বছর বয়সী মেয়ের বিয়ের এক সপ্তাহ পর তার স্বামী তাকে ত্যাগ করে। মেয়েটিকে বলা হয়েছিল, তাকে আবার ‘ডেকে নেবে’ তার স্বামী। কিন্তু আর কখনো স্বামীর কথা শোনেনি সে।

সাত সদস্যের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ায় পরিবারের ১৫ বছর বয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তার ২৩ বছর বয়সী স্বামীর নিষ্ঠুর নির্যাতনের ফলে তাকে নিজেদের জিম্মায় নিতে বাধ্য হয় শরণার্থী শিবির।

এ রকম অসংখ্য গল্প ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে লেবাননের সিরীয় শরণার্থী শিবিরে। কিন্তু কিছু করার নেই তাদের। যে অর্থ নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়েছিল, তা শেষ হয়েছে বহু আগেই। এরই মধ্যে ঋণে জর্জরিত। বছর শেষ হতে চলল, এখনো সিরীয় সংকট সমাধানের কোনো লক্ষণ নেই। অনিশ্চিত এক জীবনের ঘেরাটোপে বন্দী সিরীয়দের এই ‘সার্ভাইভাল সেক্স’ই যেন নিয়তি।