মেইন ম্যেনু

১৪টি শারীরিক সমস্যার ঘরোয়া চিকিৎসায় মধুর ব্যবহার জেনে নিন

১. মুখের প্রদাহ

মুখ ও গলার যেকোন প্রদাহে মধু বেশ ভালো কাজ দেয়। ঔষধি শাস্ত্রে সেই পুরাতন আমল থেকে নানারকম গাছ-গাছড়ার সাথে মুখের ব্যাকটেরিয়ার দূর করার জন্যে মধুর ব্যবহার অনেক প্রচলিত। এতে করে কাশি, গলা জ্বালাপোড়াসহ আরো নানা সমস্যার সমাধান করা যায়।

২.দাঁতের সমস্যা

দাঁতের সুরক্ষায় খুবই উপকারী। মধু দাঁতের ওপর ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয়রোধ করে, দাঁতে পাথর জমাট বাঁধা রোধ করে এবং দাঁত পড়ে যাওয়াকে বিলম্বিত করে। মধু মিশ্রিত পানি দিয়ে কুলি করলে মাঢ়ির প্রদাহ দূর হয়।

৩. জ্বর

মধুর সাথে খানিকটা লেবুর রসের মিশ্রন জ্বর প্রতিরোধে অনেকটা সাহায্য করে। শুধু জ্বর ছাড়া ঠান্ডাজনিত যেকোন কাজে এটি বেশ ভালো উপকার দেয়।

৪. সর্দি-কাশি

সাধারণ সর্দি-কাশিতে মধু খুবই উপকারী। ১ চা চামচ মধুর সাথে ১ চা চামচ তুলসী পাতার রস মিশিয়ে খেলে কাশি উপশম হয়। গলা ব্যথা কমাতে হালকা গরম পানির সাথে মধু ও লবণ মিশিয়ে গারগল করলে উপকার পাওয়া যায়।

৫. শক্তি

মধু তাপ ও শক্তির একটি অত্যন্ত ভালো উৎস। এতে যে শর্করা থাকে তা সহজেই হজম হয় ও রক্তের সাথে মিশে যায়। মধুতে রয়েছে ডেক্সট্রিন, যা সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করে। ফলে দেহ সহজেই শক্তির জোগান পায়। দুই চা চামচ মধু এক কাপ ফুটানো পানির সঙ্গে খেলে শরীর ঝরঝরে হয় ও দুর্বলতা কেটে যায়।

৬. রক্তস্বল্পতা

মধু খেলে উপকার পাওয়া যায় রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়াতেও। মধু রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে। ফলে এটি রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়তা করে। মধুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ।

৭. পেটের প্রদাহ

আদা পেটের নানারকম ব্যাধি, যেমন- কোষ্ঠকাঠিন্যের পক্ষে বেশ উপকারী। তবে এর সাথে খানিকটা মধুর মিশ্রন আদার প্রভাবকে আরো খানিকটা বাড়িয়ে তোলে। পেটের যেকোন সমস্যার ক্ষেত্রে তখন প্রচন্ড শক্তিশালী এক ঔষধ হয়ে দাড়ায় এটি। ১ চা চামচ খাঁটি মধু ১ কাপ উষ্ণ গরমপানির সাথে মিশিয়ে সকালবেলা খালিপেটে পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লত্ব দূর হয়।

৮. ইনফেকশন প্রতিরোধে

মধু যেকোনো ধরনের ব্যথাকে প্রশমিত করে এবং জীবাণুনাশকের কাজ করে। বিশেষ করে ফোঁড়া ও ক্ষতের ব্যথায় বেশ ফলদায়ক। সমপরিমাণ মধু ও চিনির সাথে দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে ব্যথা বা ফোঁড়ার স্থানে লাগান। সম্ভব হলে হালকা ম্যাসাজ করুন। জাদুর মতো কাজ করবে। পিঁপড়া বা মৌমাছির কামড়ে আক্রান্ত স্থানে মধু লাগালেও ব্যথা কমে যায়।

৯. এসিডিটি প্রতিরোধে

মধু পাকস্থলীর কাজকে জোরালো করে এবং হজমের গোলমাল দূর করে। মধু হাইড্রোক্রলিক অ্যাসিডের ক্ষরণ কমিয়ে দেয় বলে অরুচি, বমিভাব, বুক জ্বালা ইত্যাদি দূর হয়ে যায়। অ্যাসিডিটি বা অন্য কোনো সাধারণ কারণে পাকস্থলীতে ব্যথা হলে গরম পানির সাথে মধু ও তার অর্ধেক পরিমাণ দারুচিনি মিশিয়ে পান করুন। ব্যথা উপশম হবে।

১০. ত্বকের সাহায্যকারী

দুধের ভেতরে থাকে ভিটামিন এ। যেটা কিনা ফাঁটা ত্বককে ঠিকঠাক করে তুলতে সাহায্য করে। কমলালেবুর ভেতরে রয়েছে ত্বকের ময়লা অংশটিকে সরিয়ে নেবার ক্ষমতা। আর এই দুটোর সাথে যদি মধু মিশিয়ে দেওয়া হয় তাহলে এটি শুষ্ক ত্বককেও অনেকটা সারিয়ে তুলতে পারে। কেবল শুষ্ক ত্বকই নয়, শরীরের রুক্ষ আর ফাটা অংশগুলোকেও সারিয়ে তোলে এটি। এছাড়াও মধু আর চিনির মিশ্রনও শুষ্ক ত্বককে সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

১১. ওজন কমাতে

সম্প্রতি করা কিছু পুষ্টি বিজ্ঞানীদের গবেষনার ফলে এটা পাওয়া গিয়েছে যে লেবুর সাথে খানিকটা গরম পানি আর মধুর মিশ্রণ শরীরের ওজন কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

১২. ধুমপান প্রতিরোধে

গবেষনায় পাওয়া গিয়েছে যে খানিকটা আনারস আর এরপর খানিকটা মধু, এভাবে করে কিছুটা সময় খেলেই ধুমপায়ীদের সিগারেটের প্রতি যে আগ্রহ সেটা কিছু হলেও হ্রাস পায়। তাই বলা যায় যে ধুমপান কমাতেও মধু অনেকটা ভালো ভূমিকা রাখে।

১৩. অনিদ্রা

ঘুমের সমস্যায় হালকা গরম দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলে উপকার পাওয়া যায়। আধা গ্লাস হালকা গরম দুধের সাথে ২ চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে ভালো ফল দেয়। আর ঘুমটাও গভীর ও শান্তির হয়।

১৪. বাতের ব্যথা

এক কাপ গরম পানির মধ্যে ২ চা চামচ মধু আর ১ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায়। এক সপ্তাহের ভেতরেই উপকার পাবেন৷ এসবের পাশাপাশি মধুর সঠিক ব্যবহার ভালো রাখতে সাহায্য করে চুল আর ফুসফুসও।