মেইন ম্যেনু

১৫৬টি বোমার আঘাতেও ধ্বংস হয়নি এই মন্দিরটি!

ভারতীয় কৃষ্ণ-ভক্তদের বিশ্বাস, স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ রক্ষা করেছিলেন৷ আর বিজ্ঞান বলছে, পাকিস্তানী সেনার ছোড়া গোলার কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় রক্ষা পেয়েছিল ভারতের গুজরাটের দ্বারকাধীশ মন্দির৷ বিশ্বাস ও বিজ্ঞান যাই বলুক না কেন জন্মাষ্টমীর দিন এলেই এই যুদ্ধের কথা উঠে আসে দ্বারকার বাসিন্দাদের মধ্যে৷ যে আক্রমণ অনেকেই খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন৷

গুজরাত রাজ্যের আরব সাগরের তীরে দ্বারকা নগরী৷ সেখানকার রাজা স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। দ্বারকাধিপতি কৃষ্ণ যুগ যুগ ধরে এই শহরের রক্ষাকর্তা৷ এমনই বিশ্বাস রয়েছে স্থানীয় সব ধর্মের মানুষের মধ্যে৷

১৯৬৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর৷ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলছে যুদ্ধ৷ আরব সাগরের বুকে দ্বারকা নগরীকে ধ্বংস করতে বিশেষ পরিকল্পনা করেছিল পাকিস্তান নৌ-বাহিনী৷ করাচি বন্দর থেকে শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন দ্বারকা’৷ অভিযানে অংশ নেয় পিএনএস বাবর, পিএনএস খায়বার, পিএনএস বদর, পিএনএস জাহাঙ্গীর, পিএনএস শাহজাহান, পিএনএস আলমগীর, পিএনএস টিপু সুলতান এই সাতটি জাহাজ৷

দ্বারকার কাছে পৌঁছে অনবরত বোমা ছোড়তে শুরু করে পাকিস্তানি নৌ বাহিনী৷ বিখ্যাত পুরাতাত্ত্বিক স্থাপত্য দ্বারকা মন্দির লক্ষ্য করে অন্তত ১৫৬টি বোমা ছোড়া করা হয়৷ আর প্রতিবারই তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়৷

পরে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে রিপোর্ট দেওয়া হয়, মন্দিরের কাছে নরম মাটিতে আছড়ে পড়েছিল বেশিরভাগ পাকিস্তানি রোমা৷ তাই সেগুলি ফোটেনি৷ কয়েকটি বোমার আঘাতে অল্পবিস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয় মন্দিরের কিছু অংশ, স্থানীয় স্টেশন ও কিছু বাড়ি৷ কিন্তু বড়সড় ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিল দ্বারকা৷

রিপোর্টে বলা হয়েছে, অন্তত ৪০টি বোমার গায়ে ‘ইন্ডিয়ান অর্ডিন্সে’ লেখা ছিল৷ তারিখ ছিল ১৯৪০ সালে ভারত বিভাগেরও আগের৷ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, পুরনো হয়ে যাওয়ার কারণেই তা কার্যকরী হয়নি৷ আর দ্বারকাবাসীর বিশ্বাস বলছে, স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ অদৃশ্য থেকেই তার নগরীকে রক্ষা করেছেন৷

দ্বারকা আক্রমণের পেছনে পাকিস্তানের সামরিক কৌশল ছিল আরো বড়৷ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দ্বারকায় ভারতীয় নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে ব্যস্ত রেখে মুম্বাই উপকূলে ভারতীয় জাহাজের উপর আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিল পাকিস্তানি নৌ বাহিনী।

এই কাজে নামানো হয়েছিল পাকিস্তানী সাবমেরিন পিএনএস গাজীকে৷ যদিও সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়৷ পাকিস্তানের সামরিক ইতিহাসে পিএনএস গাজী বিশেষ পরিচিত৷ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধের সময় পাকিস্তান ভারত আক্রমনের করলে ভারতের বিশাখাপত্তনমের কাছে এই পাকিস্তান ডুবোজাহাজটিকে ডুবিয়ে দিতে সক্ষম হয় ভারতীয় নৌ-বাহিনী৷

দ্বারকার যুদ্ধে চরম বিব্রত হয়েছিল পাকিস্তান সরকার৷ তড়িঘড়ি পাকিস্তান রেডিও ঘোষণা করে দেয় দ্বারকা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে৷ সেই সংবাদে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়েছিল৷ পরে নিজেদের ব্যর্থ আক্রমণের রিপোর্ট পেয়ে ভুল স্বীকার করে পাকিস্তান সরকার৷ সূত্র : জি নিউজ



« (পূর্বের সংবাদ)