মেইন ম্যেনু

১৫ আগস্ট কেক কাটবেন না খালেদা?

আগামী ১৫ আগস্ট কেক না কেটে অনাড়ম্বরভাবে জন্মদিন পালন করবেন খালেদা জিয়া, এমনটাই আশা করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে খালেদা জিয়ার সমসাময়িক বক্তব্য এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় বহালের পরও বিএনপির নমনীয়তা দেখে এমন আশা করছেন নেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, আওয়ামী লীগ অন্য বারের তুলনায় এবার বড় পরিসরে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য ৪০ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রতিবারের মতো এবারও জাতীয় শোক দিবসে কেক কেটে আড়ম্বরপূর্ণভাবে জন্মদিন পালন না করতে খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এ ব্যাপারে একটি কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে জাতীয় শোক দিবসে জাঁকজমকপূর্ণ জন্মদিনের অনুষ্ঠান না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। খালেদা জিয়াও ওই কূটনৈতিক চ্যানেলকে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান না করার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সূত্রটি আরো জানায়, খালেদা জিয়া চলতি মাসে লন্ডন সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি তার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সেখানে চোখের চিকিৎসা করাবেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি ১০ আগস্ট লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। লন্ডনে প্রায় এক সপ্তাহ অবস্থান করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গে সাদামাটাভাবে জন্মদিন পালন করতে পারেন খালেদা জিয়া।

এর আগে একটি জাতীয় দৈনিককে বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন জানান, দলের চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ১২ আগস্ট লন্ডনের একটি হাসপাতালে অ্যাপয়েনমেন্ট আছে। ওই হাসপাতালে চোখের পরীক্ষা করাবেন তিনি। যদি ওই অ্যাপয়নমেন্ট ঠিক থাকে তাহলে ১০ আগস্ট তিনি ঢাকা ছাড়বেন। সেখানে গেলে ছেলে তারেক রহমান, নাতনি ও পুত্রবধূর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হবে।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনাসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বাংলাদেশে কোনো তর্ক-বিতর্ক দেখতে চাই না। আমরা চাই, যার যে সম্মান প্রাপ্য, তিনি তা পাক।’ বিএনপির চেয়ারপারসনের উদ্দেশে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রীর (খালেদা জিয়) জন্মদিন ১৫ আগস্ট না। তারপরও তিনি ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করেন, কেক কাটেন। আমি কয়েক দিন আগে বলেছি, আমরা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পার করেছি। আমরা চাই, সবাই মিলে সর্বজনীনভাবে জাতির পিতার মৃত্যুদিবস পালন করি। দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে আমাদের। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা কায়েম করতে হবে। এই বিভাজন আমরা চাই না। খালেদা জিয়াকে প্রস্তাব করেছিলাম- আপনি দয়া করে ১৫ আগস্ট আপনার জন্মদিন পালন না করে ১৬ বা ১৭ তারিখে করেন। কিন্তু আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে এই ১৫ তারিখ বেছে নিয়েছেন, আপনার জন্মদিন হিসেবে। এবারও আমি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে ১৫ আগস্ট সর্বজনীনভাবে পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছি। ’

একই সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসন আমুও ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করার সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে ১ আগস্ট বিএনএফের চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন মন্ত্রী নাজমুল হুদা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জন্মদিনের কেক না কাটার আহ্বান জানান। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক এই বিএনপি নেতা এ আহ্বান জানান। খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্ট আপনার জন্মদিন হতে পারে, কিন্তু ভুলে যাবেন না এটি আমাদের জাতীয় শোক দিবস। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। এজন্য বিশ্ব দরবারে আমরা প্রশংসিত। তাই শোক দিবসে জন্মদিনের কেক কাটবেন না। আসুন, সবাই মিলে জাতীয় শোক দিবস পালন করি।’