মেইন ম্যেনু

১৫ আগস্ট খালেদাকে কেক কাটতে দেয়া হবে না : ছাত্রলীগ

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন উদযাপনে দেশের কোথাও কেক কাটতে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধুর ৪১তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ শাখা ছাত্রলীগ এই অনুষ্ঠানে আয়োজন করে।

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জাতীয় শোক দিবসে ভুয়া জন্মদিন পালন করবেন না। কেক কাটবেন না। জন্মদিন পালনের কোনো চেষ্টা করলে ছাত্রলীগ তা প্রতিহত করবে।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দিন খালেদা জিয়ার এই জন্মদিন পালন নিয়ে নানা সমালোচনা আছে। ওই দিনটি খালেদা জিয়ার প্রকৃত জন্মদিন নয় বলে অভিযোগ করে আসছে আওয়ামী লীগ। নেতাদের অভিযোগ, জাতীয় শোক দিবসকে অপমান করতে খালেদা জিয়া তার এই মিথ্যা জন্মদিন সাজিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার এই জন্মদিন পালন মূলত নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর যে জীবনবৃত্তান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো হয় তাতে ১৫ আগস্ট জন্মদিন উল্লেখ করা ছিল না। পরে ১৯৯৩ সাল থেকে তার এই দিন জন্মদিন পালনের তথ্য পাওয়া যায়। আর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ঘোষণার পর থেকে এই দিন খালেদা জিয়া কেক কেটে ঘটা করে জন্মদিন পালন শুরু করেন।

বিএনপির সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদাও সম্প্রতি রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্রকৃত জন্মদিন ১৫ আগস্ট নয়। ক্ষমতায় থাকতে ওইদিন জন্মদিন পালন না করতে অনুরোধ করেছিলেন তিনি। তবে তখন বিএনপি নেত্রী তার কথা শোনেননি।

গত ৪ আগস্ট খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন না করতে অনুরোধ করেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী। পরদিন তিনি সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান। তবে খালেদা জিয়া এ বিষয়ে কাদের সিদ্দিকীকে কিছুই বলেননি।

ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানের শুরুতেই এক মিনিট নীরবতা পালন এবং সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়।

ভাষা বিজ্ঞান শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পূজা চক্রবর্তীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।