মেইন ম্যেনু

১৬ বছরের তরুণীর সঙ্গে ৭ পুরুষের বিয়ে, পালাক্রমে ধর্ষণ

মহিলাদের প্রতি ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের মনোভাব কারোর অজানা নয়। একদিকে চূড়ান্ত রক্ষণশীল মনোভাব নিয়ে মহিলাদের স্বাধীনতা হরণ, অন্যদিকে যৌনদাসী হিসেবে মহিলাদের একেবারে পণ্যের স্তরে নামিয়ে আনা— দুই ক্ষেত্রেই অতি উগ্রতার পরিচয় দিয়েছে আইসিস জঙ্গিরা। বিষয়টি আদপে ঠিক কেমন তা জানার চেষ্টা করেছিলেন সাংবাদিক সুলোমে অ্যান্ডারসন। তিনি ইরাক ও সিরিয়ার আইসিস অধ্যুষিত অঞ্চলগুলিতে ঘুরে যে তথ্য সংগ্রহ করেছেন তা শিউরে ওঠার মতো। ভারতীয় গণমাধ্যম এবেলা এমন খবর প্রকাশ করেছে।

আইসিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কুর্দিস্তান রিজিওনাল গভর্নমেন্ট (কেআরজি)-এর বাহিনি পেশমার্গের হাতে সম্প্রতি ধরা পড়েছে এক বছর তিরিশের আইসিস নেতা। সে নাকি আইসিসের গুপ্তচর সংস্থার হয়ে কাজ করত। সুলোমে প্রথমে সেই জঙ্গি নেতার সাক্ষাৎকার নেন। তার সঙ্গে কথা বলে সুলোমে জানতে চেয়েছিলেন মহিলাদের প্রতি তার মনোভাব। জানতে চেয়েছিলেন, কী চোখে সে দেখে নিজের স্ত্রী-কে?

উত্তরে সে বলেন, ‘আমার বউ আপাদমস্তক ঢেকে রাখে পোশাকে। আমাকে ছাড়া একা একা কোথাও তার যাওয়া একেবারে নিষেধ। এ জন্য তার খারাপ লাগার কোনও কারণ নেই। কারণ কে না জানে, মেয়েদের জন্মই হয় বিয়ে করা এবং বাচ্চার জন্ম দেওয়ার জন্য।’

পেশমার্গের হাতে যখন সে ধরা পড়ে, তখন ইরাকের হাওয়াইজা শহরে রয়ে গিয়েছিল তার স্ত্রী। তারপর কী পরিণতি হয়েছে তার স্ত্রীর, জানতে চান সুলোমে।

নির্বিকার মুখে ওই জঙ্গি জানায়, ‘কে জানে, হয়তো শরিয়ত আইনে অন্য কোনও পুরুষ বিয়ে করেছে তাকে। আসলে যখন জিহাদ চলে তখন তো মেয়েরা জীবনযাপন করে না, স্রেফ টিকে থাকে।’

আইসিস-এর যৌন নির্যাতনের সবচেয়ে বড় শিকার ইয়াজিদি মহিলারা। ইয়াজিদিরা ধর্মীয় সংখ্যালঘু, তাছাড়া আইসিসের ধারণা, ইয়াজিদিরা শয়তান-পূজক। সে‌ই কারণেই যৌনদাসী হিসেবে ইয়াজিদি মহিলাদেরই ব্যবহার করে থাকে আইসিস। আইসিস পুষ্ট ধর্মগুরুরা অতি অল্প সময়ের জন্য বিবাহ দিচ্ছেন ইয়াজিদি মহিলাদের।

ইয়াজিদিরা মনে করছেন, এটা আসলে মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতন ও বহুগামিতার উপর একটি ধর্মীয় প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। মাত্র ১০ ডলারে যৌন দাসী হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে ইয়াজিদি মেয়েদের। তারপর সেই মেয়ের উপর চলছে যথেচ্ছ অত্যাচার। কুর্দিশ ইরাকের দুহোক শহরে বসবাসরতা এক মহিলার সঙ্গে কথা বলেন সুলোমে।

ফারিদা নামের সেই মহিলা জানান, ‘আমার বোনের বয়স মাত্র ১৬ বছর। কিন্তু এর মধ্যেই জঙ্গিরা জোর করে ৭ জন পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে ওর। এক এক স্বামী এক এক রাতে ধর্ষণ করে ওকে। আমি নিজেও পাঁচ জন পুরুষের সঙ্গে সহবাস করতে বাধ্য হয়েছি। এখানে ব্যাপারটা এরকম, একজন পুরুষ ইচ্ছেমতো একটি মেয়েকে বিয়ে করে ও ভোগ করে। তারপর কোনওদিন তার কোনও এক বন্ধু হয়তো বাড়িতে এসে পছন্দ করে ফেলল মেয়েটিকে। ব্যস, মেয়েটি এবার হাতবদল হয়ে চলে গেল সেই বন্ধুর বিছানায়।’

কী ধরনের যথেচ্ছাচার চলছে ইরাক ও সিরিয়ার আইসিস অধ্যুষিত এলাকায় তা বোঝাতে গিয়ে ফারিদা বলেন, ‘আমি নিজের চোখে দেখেছি, একজন পুরুষ পরপর চার মহিলাকে ধর্ষণ করল। দেখেছি, স্তন্যপানরত শিশুকে মায়ের বুক থেকে কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে জঙ্গীরা।’ আর সবকিছুই হচ্ছে ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে।

সুলোমে সেই নির্মম সত্যটি তুলে ধরেছেন নিজের লেখায়। একটি ইংরেজি ওয়েবমিডিয়ায় সেই লেখা প্রকাশিত হলে গোটা বিশ্ব শিউরে উঠেছে সেই সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। এই যথেচ্ছাচার অবিলম্বে বন্ধ হোক, এটাই এখন প্রার্থনা সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের।