মেইন ম্যেনু

জান্নাতুল খুলুদ হজ্ব এজেন্সির দলনেতা আজাদুলকে গণধোলাই

১৭৬ জন হজ্জযাত্রীর হজ্বে যাওয়া হলো না

সময় মত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টাকা পরিশোধ করেও হজ্ব এজেন্সির ছলচাতরি এবং দায়িত্বহীনতার কারণে হজ্বে যেতে পারলেন না নওগাঁ-রাণীনগর-আত্রাই ও পার্শবর্তী আদমদীঘি এলাকার ১৭৬ জন হজ্বযাত্রী। বর্তমানে এই মুসল্লীরা হজ্বে জমা দেওয়া টাকা ফেরত পাবেন কি না তা নিয়ে রয়েছেন চরম হতাশয়।

নওগাঁর জান্নাতুল খুলুদ ট্যুর এ্যান্ড ট্রাভেলস নামের এক হজ্ব এজেন্সির কাছে রাণীনগর, আত্রাই, নওগাঁ সদর ও পাশ্ববর্তী আদমদিঘী এলাকার ২২৫ জন হজ্ব যাত্রী এজেন্সির চাহিদা মতো যথা সময়ে হজ্বে যাওয়ার টাকা পরিশোধ করে।

কিন্তু সময় মত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হজ্বে গমন ইচ্ছুক যাত্রীদের হাতে না দিয়ে অনেক নাটকীয়তার পর অবশেষে গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকারি বিশেষ কোটায় ৪৯ জন যাত্রী হজ্বে যেতে পারলেও যেতে পারেনি ১৭৬ জন হজ্ব যাত্রী। ঢাকার উত্তরার আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে রাণীনগর-নওগাঁর বেশ কিছু হজ্ব যাত্রীদের এজেন্সি কর্তৃপক্ষ দুই দিন ধরে বসে রেখে অনেক আশার বানী দিলেও শেষ মহুর্তে তারা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরে।

জানা গেছে, নওগাঁ জেলা সদরে ইসলামপুর রোড জমজম প্লাজায় অবস্থিত জান্নাতুল খুলুদ ট্যুর এ্যান্ড ট্রাভেলস নামের হজ্ব এজেন্সির পরিচালক মুফতি রাশেদ ইলিয়াছ নওগাঁ জেলা সদর, রাণীনগর, আত্রাই, বগুড়ার আদমদীঘি সহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় তার নিয়োগকৃত দলনেতার মাধ্যমে ২২৫ জন হজ্ব গমন ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাদের চাহিদা মত টাকা নেয়।

দীর্ঘদিন ধরে হজ্ব এজেন্সির দলনেতারা হজ্বে গমন ইচ্ছুক ব্যক্তিদেরকে নানা ধরণের আশ্বাস দিলেও শেষ মহুর্তে ২০ সেপ্টেম্বর হজ্ব যাত্রীদের ফ্লাইট হবে মর্মে তাদের তালিকাভূক্ত সকল যাত্রীদের শেষ আশ্বাস দিলে হজ্ব যাত্রীরা মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বন্ধব সহ পরিচিত জনদের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে হজ্বের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বিদায় নেয়।

হজ্ব এজেন্সি জান্নাতুল খুলুদের দলনেতা রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর হাসান কুড়ি মাদ্রাসার মাওলানা আজাদুলের মাধ্যমে ওই এলাকা থেকে প্রায় ৩৭ জন যাত্রী আজাদুলের কথা মতো হজ্বে যাবার জন্য শুক্রবার বিকেলে আবাদপুকুর বাস স্ট্যান্ডে জড়ো হয়।

আসর নামাজের পর যাত্রীবাহি বাস আসার কথা থাকলেও মাগরীব নামাজের পরও বাস না আসায় যাত্রীরা তার কাছে বাস না আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন টাল বাহনা করতে থাকে।

এসময় স্থানীয়রা তাকে গনধোলাই দিতে শুরু করলে আজাদুল পালিয়ে যায়। এর পর হজ্বযাত্রীরা অনেক রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে নিরাশ হয়ে নিজ নিজ বাড়ীতে ফিরে যান।

এব্যাপারে হজ্বযাত্রী ভেটি গ্রামের এচাহক আলী জানান, তারা স্বামী-স্ত্রী হজ্বে যাবার জন্য আজাদুলকে ৫লক্ষ টাকা জমা দিয়েছে কিন্তু তার প্রতারণার খপ্পরে পরে আর হজ্বে যাওয়া হলো না। আদমদিঘী উপজেলার চেরাগাড়ী গ্রামের আব্দুর রহমান জানান, তারাও স্বামী-স্ত্রী এক সঙ্গে হজ্বে যাবার জন্য ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। কিন্তু প্রতারক আজাদুলের খপ্পরে পরে আর হজ্বে যেতে পারলেন না।

ঘটনার পর থেকে আজাদুলের সাথে মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সে ফোন না ধরায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এজেন্সির অপর দলনেতা রাণীনগর সিম্বা আল-মাদ্রাসাতুল কাশিমীয় বায়তুল এহসান মাদ্রাসার মহতামিম মাওলানা আনোয়ার হোসেন জানান, তার মাধ্যমে প্রায় ৩৫ জন হজ যাত্রীরা টাকা জমা দিয়েছেন তার মধ্যে দুই জন যাত্রী হজ্বে যেতে পেরেছেন। বাকিদের টাকা-পয়সা আমি খুব তাড়াতারি ফেরত দিব।

জান্নাতুল খুলুদ ট্যুর এ্যান্ড ট্রাভেলস’র পরিচালক মুফতি রাশেদ ইলিয়াছ জানান, আমার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ২২৫জন হজ্ব যাত্রী যাওয়ার কথা ছিলো। অসাধু সিন্ডিকেটের অপতৎপরতার কারণে আমার মাধ্যমে শুধু মাত্র ৪৯ জন হজ্ব গমন ইচ্ছুক যাত্রী শেষ মহুর্তে সরকারি বিশেষ কোঠায় হজ্বে যেতে পেড়েছে।

বাকিদের টাকা খুব শীঘ্রই স্ব-স্ব ব্যক্তিদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে। এব্যাপারে আতংকিত না হওয়ার জন্য পাওনাদার সকলকে অনুরোধ করেছি।

এব্যাপারে রাণীনগর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মাসউদ চৌধুরী জানান, মাওলানা আজাদুলকে আবাদপুকুর বাস স্ট্যান্ডে হজ্ব যাত্রী ও স্বজনরা গণধলাই দেওয়ার ঘটনাটি শুনেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন হজ্বযাত্রী থানায় কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।