মেইন ম্যেনু

১৭ ঘণ্টা শ্রমের মূল্য মাত্র ৮০ টাকা !

এইচ.এম নুরআলম, বেরোবি প্রতিনিধি : রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) আবাসিক হলগুলোতে ১৭ ঘন্টা কাজ করে ডাইনিংয়ের কর্মচারিদের মিলছে ৮০টাকা। এতে ঘন্টা প্রতি কাজের পারিশ্রমিক দাঁড়ায় ৪ টাকা ৯০ পয়সা। তিনটি হলের প্রায় ১৭জন কর্মচারিকে এই হারে বেতন দিচ্ছে হল প্রশাসন।

জানা যায়, কোন নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়াই ‘ডে লেবার’ ভিত্তিতে এই ১৭ জন কর্মচারি মাসের ৩০দিনই প্রায় ১৭ঘন্টা করে কাজ করছে। তাদের ছুটির কোন ব্যাবস্থা নেই, গাদাগাদি করে থাকতে হয় ডাইনিংয়ের স্টোর রুমেই।

এদিকে স্বল্প এই বেতনে মানবেতর জীবন-যাপন করছে কর্মচারিরা। তাদের বেতনভাতা বৃদ্ধি বা নিয়োগ প্রক্রিয়ারও তেমন কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। ফলে হলে কাজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বুকবাধা স্বপ্ন নিয়ে আসা এসব কর্মচারি।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক কর্মচারি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, হলে কাজ নেয়ার আগে সপ্তাহে আয় করতাম প্রায় ৩ হাজার টাকা। আর এখন মাসে ২৫শ। এই আয়ে সংসার চালানো তো দূরের কথা নিজেই চলতে পারছিনা। ফলে ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। আর দিন-দিন কাজের প্রতি অনীহা তৈরী হচ্ছে।

আর এক কর্মচারি জানান, স্থায়ী নিয়োগের আশায় আমরা স্বল্প বেতনেই কাজ শুরু করি। কিন্তু কাজ শুরুর ৭মাস অতিক্রম করলেও নিয়োগ বা সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না হল প্রশাসন। ফলে পরিবারসহ অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবন-যাপন করছি।

জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট কমলেশ চন্দ্র রায় কর্মচারিদের দূর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হলে কোন ধরণের বাজেট নেই। তবে নতুন অর্থ-বছরে তাদের হলের জন্য আলাদা বাজেট আসতে পারে। বাজেটটি আসলে তখন তাদের বেতন বৃদ্ধি করা যাবে। এই কর্মচারীদের নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, আপাদত তাদের কোন পদ নেই। পরবর্তীতে নতুন পদ সৃষ্টি হলে আমরা তাদের জন্য সুপারিশ করতে পারব।’

এ বিষয়ে শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট আমীর শরীফ বলেন, আপতত কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির কোন সুযোগ নেই। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের কর্মচারীদের বেতনের জন্য আলাদা কোনো ফান্ড নেই। আর অদূর ভবিষ্যতে তাদের স্থায়ীকরণেরর কোনো নিশ্চয়তা নেই।

উল্লেখ্য, স্বল্প বেতনে কাজের অনীহা লক্ষ্য করে গত ২৮ এপ্রিল এই কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি ও চাকুরী স্থায়ী করণের দাবিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট কমলেশ চন্দ্র রায়কে স্মারকলিপি প্রদান করে শিক্ষার্থীরা।