মেইন ম্যেনু

১৭ জেলায় ১৮ মাসে ‘টার্গেট’ খুন ৪৯

একের পর এক জঙ্গি ঘরানার নৃশংস হত্যায় হিম আতঙ্ক জনমনে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ ১৭টি জেলায় গত দেড় বছরে ৪৯টি হত্যার ঘটনায় জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ জোরালো। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পুলিশ অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। খুনিদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য অনেকটা রহস্যের মাঝে থেকে যাচ্ছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রগতিশীল, মুক্তচিন্তার মানুষ ও ভিন্ন ধর্মালম্বীরা কার্যত মৌলবাদী গোষ্ঠীর নিশানায় পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় আতঙ্কিত অনেকেই সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছেন, যাচ্ছেন আত্মগোপনে। যাঁদের বেশির ভাগই ধর্মীয় সংখ্যালঘু।

পুলিশের পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ১৮ মাসে রাজধানী ঢাকাতেই জঙ্গি সংশ্লিষ্ট হামলার ১২টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২১ জন। যাঁদের মধ্যে পুলিশ, ব্লগার, লেখক, প্রকাশক রয়েছেন। দিনাজপুরে ৯টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন দুজন। পাবনায় দুটি ঘটনায় নিহত হয়েছেন একজন। রংপুরে জাপানি নাগরিক ও মাজারের খাদেমকে হত্যা করা হয়েছে। নাটোরে খুন হয়েছেন খ্রিস্টান দোকানি, রাজশাহীতে শিক্ষকসহ দুজন, বগুড়ায় শিয়া মসজিদে হামলাসহ তিন ঘটনায় নিহত হয়েছেন পাঁচজন। নীলফামারীতে তিন ঘটনায় নিহত ২, পঞ্চগড়ে পুরোহিত হত্যা, কুড়িগ্রামে ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হত্যা, চট্টগ্রামে পীরের মুরিদ, পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী ও শিক্ষকসহ পাঁচজন খুনের শিকার হয়েছেন। ঝিনাইদহে খুন হয়েছেন মন্দিরের পুরোহিত ও ধর্মান্তরিত ব্যক্তি। টাঙ্গাইলে ধর্ম অবমাননায় অভিযুক্ত দর্জি, বান্দরবানে বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ, কুষ্টিয়ায় বাউলভক্ত ও সিলেটে ব্লগার খুন হয়েছেন। ফরিদপুরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। এসব ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে নানা আলোচনা হলেও পুলিশ ঘটনার পরপরই জোরালোভাবে বলছে জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার কথা। হত্যার ধরনসহ নানা বিষয়ে মিল থাকায় এসব উগ্রবাদী চক্রের কাজ বলে জনমনেও সন্দেহ। তবে বেশির ভাগ ঘটনাতেই পুলিশ রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়েছে। খুনিরা থেকে গেছে অধরা। এ অবস্থায় আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। ইতিমধ্যে ব্লগারসহ ভিন্নমতের অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় দেশ ছেড়েছেন। দেশান্তরি হয়েছে বেশ কিছু ধর্মীয় সংখ্যালঘু।

রাজধানীর বাইরে টার্গেট কিলিংয়ের সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১১ জেলায়। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার পাবনার হেমায়েতপুরে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমের সেবায়েত নিত্যরঞ্জন পাণ্ডেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় থাকায় সেখানে জঙ্গি হামলার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব এলাকার অনেক ধর্মযাজক ও পুরোহিত ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন।

উত্তরাঞ্চলের জেলা দিনাজপুর থেকে ঢাকায় আসা এক পুরোহিত পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার মতো অনেকেই ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন। কেউ কেউ সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে গেছেন। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের স্বাভাবিক জীবন আর থাকবে না।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার ভোরে হেমায়েতপুরে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সেবাশ্রমের কর্মচারী নিত্যরঞ্জন পাণ্ডেকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি ডায়াবেটিসের রোগী ছিলেন বলে সকালে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন।

তাৎক্ষণিকভাবে কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা, নাটোরে খ্রিস্টান দোকানি ও ঝিনাইদহে হিন্দু পুরোহিতকে কুপিয়ে হত্যার রেশ না কাটতেই এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটল।

গত রোববার চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে সদ্য পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদোন্নতি পাওয়া বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানমকে (৩২) গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

একই দিনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় নাটোরের বড়াইগ্রামে সুনীল গোমেজ নামের এক খ্রিস্টান ব্যবসায়ীকে। আর গত মঙ্গলবার ঝিনাইদহে মন্দিরে পূজা দিতে যাওয়ার সময় আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলি নামের এক পুরোহিতকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

পরে সুনীল ও গোপাল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট(আইএস)। আইএসের কথিত ‘সংবাদ সংস্থা’ আমাকের বরাত দিয়ে এ সংবাদ দেয় সাইট ইন্টিলিজেন্স।-কালের কণ্ঠ



« (পূর্বের সংবাদ)