মেইন ম্যেনু

১৭ বছর পর নীতিমালায় যুক্ত হচ্ছে ‘ইন্টারনেট’

প্রযুক্তির আমুল পরিবর্তন হয়েছে। টুজি (দ্বিতীয় প্রজন্ম), থ্রিজি (তৃতীয় প্রজন্ম) পেরিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ খাত এখন ফোর-জির (চতুর্থ প্রজন্ম) যুগে প্রবেশ করছে। দেশে সাড়ে ১২ কোটির বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী রয়েছে। হাতে হাতে ইন্টারনেট। কিন্তু টেলিযোগাযোগ খাত পরিচালিত হচ্ছে সেই ১৭ বছরের পুরনো নীতিমালায়। এমনকি এ নীতিমালায় ‘ইন্টারনেট’ শব্দটিই নেই!

এবার এ নীতিমালা যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সূত্র ও খাত সংশ্লিষ্টদের মতে এ পরিবর্তন হবে অনেকখানিই অপারেটর বান্ধব।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে খসড়া নীতিমালা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। সবপক্ষের মতামত পর্যালোচনা করা হয়েছে। শিগগিরই মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।

এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বৃহস্পতিবার বলেন, ‘নীতিমালায় সবার জন্য সমান সুযোগ রাখা হবে। সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কারও জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা হবে না। নীতিমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত। এতে সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।’

নবনিযুক্ত এ প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে নীতিমালায় পরিবর্তন আনার কথা ‍উল্লেখ করে বলেন, ‘নীতিমালায় প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার (টেকনোলজি নিউট্রাল)বিষয়টি আনা হবে।’

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিমালায় এ ধরনের পরিবর্তন আনলে মোবাইল ফোন অপারেটররা বাড়তি সুবিধা পাবেন। এতে তাদের দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণ হবে।

নীতিমালায় প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার ব্যাখ্যা হিসেবে বলা হচ্ছে, এখন অপারেটরদের নির্দিষ্ট সেবার জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) ব্যান্ড ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ টুজির জন্য একটি ১৮০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডউইথ নির্দিষ্ট । এটা দিয়ে থ্রিজি সেবা দিতে পারে না অপারেটররা। থ্রিজির জন্য ২১০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডউইথ নির্ধারিত।

প্রযুক্তি নিরপেক্ষ নীতিমালা হলে অপারেটররা ১৮০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ ব্যান্ডেই থ্রিজি সেবা দিতে পারবে। এতে অপারেটরদের ব্যয় কমবে।

এছাড়া নীতিমালায় সমন্বিত লাইসেন্সিংয়ের (ইউনিফাইড লাইসেন্সিং) ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এখন অপারেটরদের প্রতি সেবার জন্য পৃথক পৃথক লাইসেন্স নিতে হয়। ইউনিফাইড লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে যে কোনো অপারেটর সবধরনের সেবা দিতে পারবে।

এদিকে বিদ্যমান নীতিমালায় ‘ইন্টারনেট’ শব্দটিই নেই। এটিকে ‘বাড়তি সেবা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় এ বিষয়ে আমূল পরিবর্তন আসছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

গ্রাহকদের উচ্চ গতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেয়া থাকবে। বর্তমানে ইন্টারনেটের ন্যূনতম গতি এক এমবিপিএস হলে তাকে ব্রডব্যান্ড বলা হয়।

নতুন নীতিমালায় বৈদেশিক বিনিয়োগের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। কারণ টেলিযোগযো খাতটি মূলত বিদেশি বিনিয়োগনির্ভর। আর অপারেটররা নিজেদের বিনিয়োগ সুরক্ষার বিষয়ে নীতিমালায় সুস্পষ্ট বিধান চান।
সূত্র আরো জানিয়েছে, নতুন নীতিমালায় টেলিযোগোযোগ খাতের বিদ্যমান কর ব্যবস্থারও পরিবর্তন আনা হবে।

বর্তমান টেলিযোগাযোগ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয় ১৯৯৮ সালে। এ নীতিমালায় ২০১৫ সালের মধ্যে টেলিঘনত্ব ১০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সরকার ও উদ্যোক্তাদের নানা উদ্যোগের কারণে টেলিঘনত্ব বর্তমানে প্রায় ৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে। তাই এ নীতিমালা যুগপোযুগী করার দাবি জানিয়ে আসছে অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট সবাই।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার দু’বার এ নীতিমালা যুগপোযুগী করার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) বিশেষজ্ঞ জিম হোমসের সহায়তায় একটি খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

গত বছর বিটিআরসি এ বিষয়ে আবারও উদ্যোগ নেয়। তারা একটি খসড়া তৈরি করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরবর্তীতে এ খসড়ার ওপর সবার মতামত চাওয়া হয়। এখন মতামত পর্যালোচনা করে খসড়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে।