মেইন ম্যেনু

১৮ ঘণ্টায়ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি

গাজীপুরে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেড কারখানার আগুন ১৮ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

শনিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট কাজ করছে। আগুন নেভাতে গিয়ে এ পর্যন্ত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

আগুন তৃতীয় তলা থেকে চতুর্থ তলায় ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনের তাপে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। খসে পড়ছে তৃতীয় তলার ছাদের প্লাস্টার।

দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে ফায়র সার্ভিসের ২টি স্নোরকেল (মই ওয়ালা) গাড়ি আগুন নেভানোর জন্য কারখানায় প্রবেশ করে।

কালিয়াকৈর ফায়ার স্টেশন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে মন্ডল গ্রুপের মালিকানাধীন ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেড কারখানার পাঁচ তলা ভবনের তৃতীয় তলায় সুতার গুদামে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সেখানে থাকা বিপুল পরিমাণ সুতা ও ফেব্রিক্সসহ বিভিন্ন মালামালে ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর, জয়দেবপুর, মির্জাপুর, সাভার ইপিজেড ও কালিয়াকৈর ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে আগুন তৃতীয় তলা থেকে চতুর্থ তলায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তাপে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার অপূর্ব বল, ফায়ারম্যান নাসির উদ্দিন ও তিনজন কারখানা শ্রমিক আহত হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর আরদেশ আলী জানান, ভবনটি ৫৪ হাজার স্কয়ার ফিটের। শনিবার ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও সকাল ১০ টার দিকে আবার আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিটের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যান। দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের আরো তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। ঢাকা থেকে এই ৩টি ইউনিট আসে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে ফায়ার সর্ভিসের ঢাকা সদর দপ্তরের পাঁচটি ইউনিট, কালিয়াকৈর স্টেশনের দুটি, সাভার ইপিজেড স্টেশনের তিনটি, টঙ্গী স্টেশনের তিনটি, জয়দেবপুর স্টেশনের একটি এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুর স্টেশনের দুটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করছেন।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর শাকিল নেওয়াজ জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ামাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে আমাদের কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে শুরু করে। তারা এসে দেখে, পুরো ফ্লোরে আগুন। পরে ১২টি স্টেশনের কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। আমারা আগুন নেভানোর জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছি। এখানে কিছু প্রতিকূলতা আছে। অ্যাক্রেলিক জাতীয় বস্তু এখানে আছে। এখান থেকে কার্বন মনোঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইট, বেনজিন জাতীয় টক্সিড গ্যাসের সৃষ্টি হয়েছে। ভেতরে আগুনের তাপমাত্রা ১ হাজার ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের ওপরে। বাতাসের গতি প্রতিকূলে। ধোঁয়া রের হয়ে আবার কারখানার ভেতরে ঢুকে পড়ছে। ধোঁয়াগুলো ভেরি টক্সিক। এই প্রতিকূলতার ভেতরে আমরা ফায়ার ফাইটিং করছি। আমরা আউটার সাইট, ইন সাইট উভয় দিক থেকে কাজ করছি। আমরা আগুনকে একটা কর্নারের দিকে নিয়ে এসেছি। আশা করি, আমরা আগুনকে শিগগির নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।

আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাহেনুল ইসলাম, কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন ও কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র মো. মুজিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।