মেইন ম্যেনু

২০৫০ সালের মাঝে চশমা লাগতে পারে আপনারও

যদি আপনি এখনো চশমা নিয়ে না থাকেন তাহলে এই শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে আপনাকে অবশ্যই তা নিতে হবে। একটি নতুন গবেষণায় এমনই ভবিষ্যৎবানী করা হয়েছে যে, ২০৫০ সালে ৪.৮ বিলিয়ন মানুষ (যা এই পৃথিবীর অর্ধেক জনসংখ্যার সমান) মায়োপিয়া বা দৃষ্টিক্ষীণতার সমস্যায় পীড়িত হবেন। মায়োপিয়া চোখের এমন একটি সমস্যা যাতে মানুষ কাছের জিনিস স্পষ্ট দেখতে পেলেও দূরের জিনিস ঝাপসা দেখে। ২০০০ সাল থেকে এই সমস্যাটি বেড়ে চলেছে। এমনই পূর্বাভাস রয়েছে যে প্রতি ১০ জনে ১ জন অন্ধত্বের ঝুঁকির মধ্যে আছেন।

ডায়েরি অপথেলমোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এর কারণ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয় যে, বর্তমানে মানুষ বেশিরভাগ সময় ঘরের ভিতরে টিভির সামনে, কম্পিউটারের সামনে এবং সেলফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে সময় কাটায় বলেই চোখের সমস্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কভিন নাইডো এই উদ্ভাবনের সহরচয়িতা অস্ট্রেলিয়াতে হাফিংটনপোস্টের এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, “এই ভবিষ্যৎবানী গুরুত্ব সহকারে নেয়া প্রয়োজন”। নাইডো বলেন, “এটি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত একটি সত্যিকারের স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকাতে বিরল”।

সিডনির ব্রায়ান হোল্ডেন ভিশন ইন্সটিটিউট এর ব্রায়ান হোল্ডেন এই গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন। ব্রায়ান তার লেখায়, “অন্যান্য কারণের সাথে পরিবেশগত কারণ, জীবনধারার পরিবর্তন, কর্মক্ষেত্রে বেশি সময় থাকা এবং বাহিরে কম সময় কাটানো এই কারণগুলো উল্লেখ করেছেন”। পারিবারিক ইতিহাস ও একটি কারণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

পরিবেশগত কারণের মধ্যে শিক্ষা পদ্ধতি, বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, কোরিয়া ও চীনের শিশুদের জীবনধারার পরিবর্তন যেমন- অত্যধিক পরিমাণে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহারকে দায়ী করেছেন।

নাইডো বলেন, “মায়োপিয়া এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে বাহিরে যাওয়া”। প্রতিরক্ষার জন্য দুই ঘন্টা বা তার বেশি সময় বাহিরে কাটানো, শিশুদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো, প্রয়োজন ছাড়া ফোন ব্যবহার না করা, দিগন্তের দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক নাইডো।