মেইন ম্যেনু

২০ জুন বীথির স্তনে অস্ত্রোপচার, রক্ত সংগ্রহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় চিকিৎসকরা

জন্ম থেকেই মুখে দাড়ি-গোঁফসহ শরীরে লোম ছিল বীথির। ১১ বছর বয়স থেকে তার স্তন অস্বাভাবিক আকারে বাড়তে থাকে। পরে স্তনে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। এর আগে সাত বছর বয়সে দাঁত পড়ে যায়। পরে আর দাঁত গজায়নি তার।

তাই দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত কিশোরী মেয়ের চিকিৎসার জন্য এলাকার মানুষের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধার নিয়েই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চলে আসেন বাবা আব্দুর রাজ্জাক। কিন্তু কয়েকদিনেই শেষ হয়ে যায় সেই টাকা। তাই দুশ্চিন্তায় পড়েন মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে। পাশে এসে দাঁড়ায় চিকিৎসকরা।

আগামী ২০ জুন বীথি আক্তারের (১২) স্তনে অস্ত্রোপচারের তারিখ নির্ধারণ করেছেন চিকিৎসকরা। প্রয়োজন পাঁচ ব্যাগ রক্ত। তবে বীথির রক্তের গ্রুপ ‘বি’ নেগেটিভ, অনেকটাই দুষ্প্রাপ্য। তাই মেয়ের জন্য রক্ত জোগাড় করতেই মরিয়া বাবা আবদুর রাজ্জাক। অপারেশনের দিন ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে, এখনো মিলেনি রক্ত।

আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘ডাক্তার বলেছেন- ১৮ জুনের মধ্যে রক্ত জোগাড় না হলে অপারেশন হবে না। তখন তারিখ পিছিয়ে ঈদের পর করতে হবে। নির্ধারিত দিনে অপারেশন না হলে সমস্যার মধ্যে পড়বো। মেয়ের চিকিৎসার জন্য বউকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। এদিকে বাড়িতে ছোট দুই ছেলে। একা থাকতে তাদের নানা সমস্যা হচ্ছে। শুধু কান্না-কাটি করছে।’

‘বি’ নেগেটিভ রক্ত সচরাচর পাওয়া যায় না। তাই রক্ত সংগ্রহ নিয়ে চিকিৎসকরাও কিছুটা দুশ্চিন্তার মধ্যে। তারা বলছেন, ১৭ জুনের মধ্যে রক্ত পাওয়া গেলে ভালো হয়। ১৮ জুন পেলেও চলবে। তা না হলে ২০ জুন অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হবে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. ইকবাল মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ২০ জুন বীথির অস্ত্রোপচার করা হবে। এ বিষয়ে ডা. ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন দুশ্চিন্তা হচ্ছে রক্ত সংগ্রহ নিয়ে। স্তন কেটে ফেলা হলে যে পরিমাণ রক্তক্ষরণ হবে, তাতে বীথির শরীরের অর্ধেক রক্তই বের হয়ে যাবে। তাই পাঁচ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হবে।’

এদিকে চিকিৎসার জন্য বীথির বাবাকে গত মে মাসে দুই লাখ টাকা দিয়েছে ওয়ালটন গ্রুপ। সে টাকা দিয়েই চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট নানা খরচ করা হচ্ছে। বীথির বাবা বলেন, ‘ওয়ালটন গ্রুপ বীথির চিকিৎসার জন্য টাকা দিয়েছিল। সে টাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ-পথ্য এবং আমাদের থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য খরচ করা হচ্ছে।’

আবদুর রাজ্জাক বলেছিলেন, ‘বীথির জন্ম থেকেই মুখে দাড়ি গোঁফসহ সারা শরীরে লোম ছিল। এতে কোনো সমস্যা হচ্ছিল না। একবছর আগে স্তন অস্বাভাবিক আকারে বাড়তে থাকে। আর মাসখানেক আগে স্তনে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। এতোটা অস্বাভাবিকভাবে স্তন বেড়েছে যে, সে ভালোভাবে হাঁটাচলা করতে পারে না। সহ্য করতে পারে না ব্যাথা-যন্ত্রণা। এর আগে সাত বছর বয়সে তার সব দাঁত পড়ে যায়। পরে আর সেই দাঁতও গজায়নি।’

উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এন্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস ও হরমোন) বিভাগে ভর্তি করা হয় বীথিকে। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ২৩ মে বীথির মুখের লোম অপসারণের জন্য মুখমণ্ডলে প্রথমবারের মতো লেজার থেরাপি দেয়া হয়।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার জয়ভোগ গ্রামের দিনমজুর আবদুর রাজ্জাকের তিন সন্তানের মধ্যে বড় বীথি আক্তার। জয়ভোগ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী বীথি।