মেইন ম্যেনু

প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা সচিবের সু-দৃষ্টি কামনা

২০ বছরেও সরকারি ভবন পায়নি কলারোয়ার বেত্রবতী হাইস্কুল

সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসদরের বেত্রবতী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি (ইআইআইএন-১১৮৬৫৩) ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও আজ পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোন একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়নি।
প্রতিষ্ঠার ২০ বছর অতিবাহিত হলেও একটিও ভবন নির্মাণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা জরাজীর্ণ টিনশেড এবং খোলা জায়গায় রোদ-বৃষ্টি এবং শীতের দিনে নাজুক পরিস্থিতিতে পড়া-লেখা করে ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিজেদের জায়গা অটুট রেখেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক রাশেদুল হাসান কামরুল এ বিষয়ে বলেন, প্রায় ৪’শ শিক্ষার্থীর পদচারনায় মুখরিত বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত ভগ্নদশা থেকে মুক্ত করতে আজ পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেনি। সরকার আসে সরকার যায় আর বেত্রবতী হাইস্কুল দিন দিন ভগ্নদশার শেষ সীমানায় পৌছায়। যার দরজা-জানালা কিংবা পুরাতন টিন শেডটি প্রতিদিন একটু একটু করে শক্ত অবস্থা থেকে নড়বড়ে হতে থাকে। অবকাঠামো ভাঙ্গার সাথে সাথে মনোবল ভাঙতে থাকে মানুষ গড়ার কারিগর সেখানকার প্রতিটি শিক্ষকের। যারা নাকি নিজের পরিবার ঘর-বাড়ির চেয়ে ভালোবাসে তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন দুরন্ত যৌবনের ক্ষণে যোগ দেওয়া প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে। তাইতো কোন কোন শিক্ষক চাকুরীর একযুগ পার করেও বেতন না পেয়ে ছাড়তে পারছেন না প্রিয় কর্মস্থল।

বিদ্যালয়ের নিকট অতীতের ৩টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় ২০১৩ সালের এসএসসিতে ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ৩৮ জন, পাসের হার ৮৮.৩৭%, ২০১৪ সালে ৪৬ জন পরীক্ষার্থী মধ্যে পাস করে ৪২ জন, পাসের হার ৯১.৩০% এবং ২০১৫ সালে ৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ৩০ জন, পাসের হার ১০০%। তবে ২০১৬ সালে ওই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে ৫৫ জন ছাত্র-ছাত্রী। আর জেএসসিতে ২০১২ সালে ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ৩৭ জন ছাত্র-ছাত্রী, পাসের হার ৬৮.৫১%, ২০১৩ সালে ৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ৭৯ জন ছাত্র-ছাত্রী, পাসের হার ৯৪% এবং ২০১৪ সালে ৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ৬৪ জন ছাত্র-ছাত্রী, পাসের হার ১০০%। এদিকে, ২০১৫ সালে ওই বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছে ৭৪ জন ছাত্র-ছাত্রী।

ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সমাবেশের একাংশ।

ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সমাবেশের একাংশ।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল হামিদ জানান, বেত্রবতী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি উপজেলার ভালোমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি। প্রতিষ্ঠানটির দূর্বল ভৌত অবকাঠামো এবং অন্যান্য সব বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি অনুদান ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ওই প্রতিষ্ঠানটি ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে এসএসসি পরীক্ষা দিলেও মাধ্যমিক স্তরের ৫জন শিক্ষক-কর্মচারী এখনও সরকারি বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

তাই সদাশয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে তাদের প্রাণের দাবি অচিরেই অবহেলিত বেত্রবতী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিতে (ইআইআইএন-১১৮৬৫৩) একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হোক। আর এমপিও ভুক্তির ব্যবস্থা করা হোক এমপিও বঞ্চিত শিক্ষকদের।