মেইন ম্যেনু

২২৯২ কোটি টাকায় ১২ ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ও স্থাপনাসহ মোট ১২টি প্রকল্পের ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ জন্য মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ২৯২ কোটি টাকা।

বুধবার বিকেলে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাকসুদুর রহমান পাটোয়ারী।

তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাশান ফেডারেশন এটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সঙ্গে তৃতীয় চুক্তির এডিশনাল এগ্রিমেন্ট নম্বর-২ সম্পাদনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় একক উৎস হিসেবে রাশিয়ান ফেডারেশনের এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট হতে চতুর্থ চুক্তির মাধ্যমে সম্পাদিতব্য সেবা বা কার্যাদি ক্রয় ও চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা।

মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘বৈঠকে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘মহেশখালী, আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালনে পাইপলাইন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য পাইপলাইন নির্মাণ সংশ্লিষ্ট বিবিধ ফিটিংস ক্রয় এবং রিভার ক্রসিং ছাড়া ৮৯ দশমিক ৩৬৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের লক্ষ্যে সর্বনিম্ন দরদাতার আর্থিক প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৬৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ইতালি ভিত্তিক ইউরো গুরগো এসিএ-কে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি।’

তিনি বলেন, ‘এডিসান-পাওয়ার পয়েন্ট ও হাওর বাংলা-কোরিয়া গ্রিন এনার্জি লিমিটেড কর্তৃক সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলায় ৩২ মেগাওয়াট পিক সোলার পার্ক স্থাপনের দর প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ২০ বছর মেয়াদে এ প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ সেন্ট। অপর এক প্রস্তাবে হিটাট-ডাইট্রোলিক-আইএফডিসি সোলার কনসোর্টিয়াম কর্তৃক ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর উপজেলার সুতিয়াখালীর ভাংনামারি মৌজায় ৫০ মেগাওয়াট (এসি) সোলার পার্ক স্থাপনের দর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পটিও ২০ বছর মেয়াদের। প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ সেন্ট।’

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎতায়ন বোর্ডের ‘পল্লী বিদ্যুৎ বিতরণ সিস্টেমের ক্ষমতাবর্ধন (ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) প্রকল্পের প্যাকেজের পরামর্শক সেবা ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৩৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আমেরিকা ভিত্তিক এনআরইসিএ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎতায়ন বোর্ডের ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ১৮ লাখ গ্রাহক সংযোগ’ প্রকল্পের আওতায় সিঙ্গেল ফেজ ইলেক্ট্রনিক মিটার ক্রয়ের সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৫১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। বাংলাদেশের মেসার্স টেকনো ইলেকক্ট্রিসিটি প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অধীন তিনটি প্রকল্পের পরামর্শ সেবা ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৩৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক দুটি প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পের কাজ পেয়েছে। এ ছাড়াও পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ডের ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন পণ্য সেবা ক্রয়ে আরও তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য মোট ১০৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

বৈঠকে খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন মংলা পোর্টে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন সাইলো নির্মাণ কাজের ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রাক্কলিত মূল্য ৪৪৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা থেকে অতিরিক্ত ৫৫ কোটি ৮২ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মোট তিনটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এরমধ্যে কমিটি দুটি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদিত প্রস্তাবের একটি হচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি নীতি আদেশ, ২০১৫-১৮। এ ছাড়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বড়পুকুরিয়ায় ২৫০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ড্রাই ফ্লাই অ্যাশ ৩০ বছরের জন্য খোলা দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রির প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে কমিটি।

এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘এর আগেও তিন বছর মেয়াদি আমদানি নীতি আদেশ, ২০১৫-১৮ অনুমোদনের জন্য কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমদানি নীতি আদেশ নিয়ে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারের বেশ কটি সুপারিশ ছিল। সেগুলো নতুন আমদানি নীতিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া তেমন কোন পরিবর্তন আনা হয়নি।