মেইন ম্যেনু

২৫ ওভার খেলে শূন্য রান! শ্রীলঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাটসম্যানের আজব কাণ্ড!

কল্পনা নয়, ঘোর বাস্তব। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট বাঁচানোর লড়াইতে ব্যাট হাতে এমনই কাণ্ড ঘটালেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাটসম্যান পিটার নেভিল এবং স্টিভ ও’কিফি।

১৭৮ বলে চার রানের পার্টনারশিপ। তার মধ্যে একটানা ২২ ওভার মেডেন। তাও দুই ব্যাটসম্যানের মধ্যে একজনই সেই রান করলেন। আর একজনের অবদান শূন্য। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের শেষ ২৫.৪ বল কোনও রান হল না। যদিও শেষ রক্ষা হল না।

কল্পনা নয়, ঘোর বাস্তব। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট বাঁচানোর লড়াইতে ব্যাট হাতে এমনই কাণ্ড ঘটালেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাটসম্যান পিটার নেভিল এবং স্টিভ ও’কিফি। নেভিল অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার। আর ও’কিফি অলরাউন্ডার। যদিও তাঁদের ক্রিজ কামড়ে পড়ে থাকা দেখে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানও লজ্জা পেতে পারেন। ম্যাচ জয়ের জন্য ২৬৮ প্রয়োজন ছিল অস্ট্রেলিয়ার। খেলার শেষ দিনে ৫৭তম ওভারে ১৫৭ রানেই ৮ উইকেট পড়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার। শ্রীলঙ্কার জয় তখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেখান থেকে খেলা শুরু করেন নেভিল এবং ও’কিফি। ৬৩তম ওভারে একটি চার মারেন ও’কিফি। অস্ট্রেলিয়ার স্কোর হয় ১৬১।

এরপরে আর এক রানও যোগ হয়নি অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ৮৬তম ওভারে নেভিল আউট হন। ৮৮.৩ ওভারে আউট হন ও’কিফি। ১৬১ রানেই শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। ১০৬ রানে জেতে শ্রীলঙ্কা।
নেভিল এবং ও’কিফি যখন ব্যাট করছিলেন, কার্যত হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা। স্পিন, পেস, কোনও কিছুতেই কাজ হয়নি।

উল্টে ম্যথিউজ, হেরাথদের চিন্তা বাড়িয়ে ঘন মেঘে ঢেকে গিয়েছিল আকাশ। যে কোনও মুহূর্তে বৃষ্টি নেমে শ্রীলঙ্কার জয় ভেস্তে যেতে পারত। নিজেদের এই চার রানের পার্টনারশিপ গড়তে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার দুই ক্রিকেটার কোন রেকর্ডগুলি ভাঙলেন, তাই নিয়েই এখন চর্চা চলছে। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে তাঁরাই সবথেকে ধীর গতিতে রান তুললেন। নেভিল-ও’কিফির পার্টনারশিপে ওভারপিছু রানরেট ছিল ০.১৩।

তার মধ্যে ও’ফিল ফিল্ডিংয়ের সময়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে মারাত্মক চোট পাওয়ায় পরের টেস্টে খেলতে পারবেন না। কিন্তু শারীরিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও ক্রিজ কামড়ে পড়েছিলেন তিনি। এর আগে হাসিম আমলা এবং এবি ডেভিলিয়ার্স ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ২৫৩ বলে ২৭ রান তুলেছিলেন। তাঁদের পার্টনারশিপে ওভার পিছু ০.৬৪ রান উঠেছিল।

শ্রীলঙ্কার হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও হেরাথ ৫ উইকেট তুলে নেন। সবথেকে আপাতত প্রথম টেস্ট জিতে তিন টেস্টের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু টি-২০-র যুগে দুই অস্ট্রেলিয়ান যে কীর্তি গড়লেন, তা নিশ্চয়ই ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে অনেকদিন থেকে যাবে।