মেইন ম্যেনু

৩ দিনে চালের বস্তায় ১০০ টাকা বাড়তি

পাইকারি বাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজি চালের বস্তায় দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে খুচরা ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি দামে চাল বিক্রি করছেন। আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা দায়ী করছেন মিল মালিকদের।

সরকারিভাবে চাল কেনার পাশাপাশি পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধিতে চালের দামে প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি, বিরূপ আবহাওয়া এবং ভারতে চালে কর আরোপকে দায়ী করছেন মিল মালিকরা। সব মিলিয়ে সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বেড়ে গেছে চালের দাম।

দেশের বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই চালপট্টির আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, ৫০ কেজি চালের বস্তার দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। ১ নম্বর মোটা আতপ চালের বস্তা ১১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত রোববারও ১১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ২ নম্বর মোটা আতপের বস্তা প্রতি দাম ৪৫ টাকা বেড়ে ১০৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

৫০ কেজির বস্তাপ্রতি মিনিকেট চালের দাম ৭৮ টাকা করে বেড়েছে। মিনিকেট ২৮ নম্বর চাল ১৭৩০ টাকা, মিনিকেট ২৯ নম্বর চাল ১৬৬০ টাকা, মিনিকেট সিদ্ধ চাল ১৫৫০ টাকা, কাটারি পাইজার চাল ১৪৮০ টাকা, বালাম সিদ্ধ চাল ১৩৮০ টাকা, পারি সিদ্ধ চাল ১৩৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে খুচরা বাজারে মিনিকেট চালের প্রতি বস্তায় আগের দামের চেয়ে ১০০ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে।

পোলাও চালের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি বস্তায় ১০০ টাকা করে বেড়েছে এই চালের দাম। কাটারিভোগ ২২৫০-২৭৮০ টাকা, জিরা সিদ্ধ ১৮২৫-১৯২০ টাকা, চিনিগুড়া আতপ চাল ৪৪৩০-৪৬০০ টাকা, নাজির চাল ১৬০০-২২৫০ টাকা, সুপার বাসমতী জিরা চাল ১৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পাইকারি বাজারে।

১ নম্বর ২৯ বেতি চাল ১৪২০ টাকা, ২ নম্বর ২৯ বেতি চাল ১৩৮৫ টাকা, ১ নম্বর ২৮ বেতি চাল ১৫৫০ টাকা এবং বেতি আতপ ১৫৫০ টাকায় বিক্রিয় হচ্ছে। বেশ কয়েক দিন ধরে এই দামে বিক্রি হচ্ছে এগুলো। তবে পাইকারিতে না বাড়লেও খুচরা বাজারে বেতি চালের বস্তা প্রতি ২১-২৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

অন্যদিকে খুচরা বাজারে গত কয়েক দিনের তুলনায় প্রতি বস্তায় প্রায় ২০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে পোলাও চালের দাম।

খাতুনগঞ্জের চাল ব্যবসায়ী আবদুল হালিম বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মৌসুমি ফলের সরবরাহ বেড়েছে। ফল পরিবহনে অনেক বেশি টাকা পাওয়া যায়। তাই চাল পরিবহনের খরচও বাড়াতে হয়েছে। এই বাড়তি খরচের সমন্বয় করতে মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়েছেন।

খুচরা চাল ব্যবসায়ী হাফিজ বলেন, বাজারে চালের কোনো সংকট নেই। রোজা শুরু হওয়ায় বাজারে ক্রেতার সংখ্যাও অনেক কমেছে। আসলে মিল মালিকরা মোকাম থেকে চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, বাজারে পোলাও চালের সংকট আছে। রোজা উপলক্ষে পোলাও চালের চাহিদাও বেশি। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী পোলাও চাল সরবরাহ করতে না পারায় পোলাও চালের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ছে।

চালের এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির কারণ এবং প্রতিকারের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেন খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।