মেইন ম্যেনু

৩ দিন ধরে লুকোচুরি : ‘বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মাঝে আসে’

মোঃ শামীম আখতার, উপজেলা প্রতিনিধি, মিঠাপুকুর (রংপুর)॥ ‘সামান্য মেঘের গর্জনেই বিদ্যুৎ নেই। একটু বাতাস বিদ্যুৎ নেই। বৃষ্টি হচ্ছে বিদ্যুৎ নেই। এখনতো মনে হচ্ছে বিদ্যুৎ যায়না- মাঝে মাঝে আসে।’ বলছিলেন উপজেলার কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম। শুধু আবুল কালামই নয়- রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাভুক্ত সকল গ্রাহকের ভাষ্য এমন। গত ৩ দিন ধরে বিদ্যুতের এমন লুকোচুরি খেলায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছে গ্রাহকরা।

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কার্যলয় সুত্রে জানা যায়, শঠিবাড়ী প্রধান কার্যালয় থেকে রংপুরের মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, পীরগাছা, গাইবান্দা জেলার সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বৈদ্যুতিক প্রবাহ দেওয়া হয়। গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার। প্রতিদিন প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দরকার হয় এই কার্যালয়ে। এর বিপোরিত বরাদ্দ আসে ২৫/৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড অফ কোম্পানীর নিকট থেকে রংপুর পল্লী বিদুৎ সমিতি-১ এসব বিদ্যুৎ ক্রয় করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর একজন সহকারী মহাব্যবস্থাপক বলেন, প্রতিদিন বেশকিছু বিদ্যুতের ঘাটতি হয়। একারণে, সন্ধ্যার সময় কিছুটা লোড সেডিং করতে হচ্ছে।

গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩ দিন ধরে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৬ ঘন্টাও বৈদুতিক প্রবাহ থাকছে না। কোন কোন সময় একনাগারে ৮/১০ ঘন্টাও দেখা মিলছে না বিদ্যুতের। অথচ, কিছুদিন আগেও বিদ্যুতের লোড সেডিং ছিলনা বললেই চলে। বিদ্যুতের এমন লুকোচুরির ফলে ছোট-বড় কলকারখানাগুলোর উৎপাদন লক্ষমাত্র ব্যাহত হচ্ছে। আবাসিক গ্রাহকরাও পড়েছে চরম বিপাকে। দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার্থীরা ঠিকমত পড়া লেখা করতে পারছে না।

শঠিবাড়ী ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার্থী শামিম আহম্মেদ বলেন, কারেন্টের অভাবে গরমে ঠিকমত পড়ালেখা করতে পারছি না। রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) আবু রায়হান বলেন, প্রয়োজন মত ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতই সরবরাহ পাচ্ছি। তবে, ঝড়ের কারণে লাইন মেরামত করতে কিছুসময় লাইন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।