মেইন ম্যেনু

৩ দিন পার তবুও সেই বখাটে জুনায়েদের খোঁজ পায়নি পুলিশ!

বখাটে জুনায়েদ আল ইমদাদের নাগাল পায়নি পুলিশ! রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল-অক্সফোর্ডের এস লেভেলের ছাত্র মাহাম্মদ নুরুল্লাহ নামের এক ছাত্রকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে পিটিয়ে তা ভিডিও করে ফেসবুক ও ইউটিউবে ছেড়ে দেয়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

জুনায়েদের নিষ্ঠুর ও নির্মম আচরণ নিয়ে দেশজুড়ে রীতিমতো ছি ছি রব ওঠে। একই স্কুলের ছাত্র বখাটে জুনায়েদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলার পর তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বত্রই বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জোর দাবি ওঠতে থাকে। পুলিশও এ ব্যাপারে প্রথম প্রথম কিছুটা নড়ে চড়ে বসলেও তাতে কেন যেন গতি আসছে না। মনে হচ্ছে অদৃশ্য সুতোর টানে সব কিছু থেমে গেছে! থানায় মামলা করার পর এরই মধ্যে তিন দিন পার হয়েছে অথচ তাকে ধরা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ বলছে বখাটে জুনায়েদ পলাতক। তাকে ধরার জন্য কয়েক দফা চেষ্টা করার পরও তার নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না। কী ধরনের চেষ্টা করা হয়েছে জুনায়েদকে ধরতে-সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলছে না পুলিশ। তবে দেশজুড়ে ছি ছি রব ওঠায় চতুর জুনায়েদ এরই মধ্যে ওর নিকট জনদের সহযোগিতার ক্ষমা চাওয়ার ভান করে একটি ভিডিও আপলোড করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেখানে অল্প বয়সে বখে যাওয়া ‘পাগলা’ জুনায়েদ তার কৃতকর্মের জন্য বার বার কাঁদে কাঁদো কণ্ঠে ক্ষমা চেয়েছেন।

এ ব্যাপারে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরে আজম মিয়া বলেন, জুনায়েদকে গ্রেপ্তার করতে সাম্ভব্য স্থানগুলোতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার করতে কিছু যুবকও পুলিশকে সহযোগিতা করছে। তবে খুব সহসাই বখাটে জুনায়েদ ধরা পড়বে বলে আমরা আশাবাদি। জুনায়েদ কোথায় থাকে, তার পারিবারিক ব্যাগরাউন্ড কী এমন প্রশ্নের জবাবে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জুনায়েদকে গ্রেপ্তারের পর সকল রহস্যই উন্মোচন হবে। তবে আপাতত এ বিষয়ে আমাদের কাছে তেমন কোন তথ্য নেই!

জানা গেছে জুনায়েদ পুরান ঢাকার গেন্ডরিয়া এলাকায় বসবাস করে। মারধরের শিকার মোহাম্মদ নুরুল্লাহ অক্সফোর্ডে পড়াশুনা করলেও বসবাস করে রাজধানীর রামপুরা এলাকায়। ধানমন্ডি লেকের ধারে ঐ ঘটনা ঘটে। মেয়ে সংক্রান্ত ঘটনায় জেরে মারধরের এই ঘটনা ঘটে।

১০ মিনিটের এই ভিডিওতে জুনায়েদের মারধরের পাশাপাশি দম্ভোক্তি প্রকাশ পায়। পুরো ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে ধানমন্ডি লেক এলাকায়। জুনায়েদের নির্দেশেই ভিডিও ধারণ করা হয়। মারধরের এই ভিডিওটি ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

পুলিশের দাবি গত রবিবার বিকালে জুনায়েদের ভিডিও ফেইকবুকে পোষ্ট হওয়ার পর থেকেই পুলিশ তাকে খুঁজতে শুরু করেছে। পরে সোমবার রাতে মারধর ও আইসিটি এ্যাক্টে নুরুল্লাহ বাদি হয়ে মামলা করলে এতে নতুন মাত্রা যোগ হয় বলে দাবি ধানমন্ডি থানা পুলিশের।