মেইন ম্যেনু

৩ বছর পর হঠাৎ জানায় যে ভাবীর সাথে আবারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়েছে …

ক্লাস ৮ এর শেষ দিকে সমবয়সী এক ছেলের সাথে আমার সম্পর্ক হয়। জানি খুব অল্প বয়স প্রেম করার জন্য। কিন্তু আমার প্রতি ওর কিছু ব্যবহার, যত্ন, ওর হাসি আমাকে বাধ্য করেছিলো ওর প্রেমে পড়তে। আমি খুব সিরিয়াস হয়ে গেছিলাম ওর প্রতি। স্বপ্ন দেখতাম যে ১০ বছর প্রেম করে ওকেই বিয়ে করবো। ও চাইলেও সম্পর্ক ভাঙ্গতে দিবোনা। এভাবে তিন বছর স্বপ্ন দেখছি আমি।

ছোটকালে ওর সাথে ওর ভাবীর শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল জেনেও সম্পর্ক ভাঙ্গিনি, এই ভেবে যে ওইটা ওর অতীত। এজন্য আমার প্রতি ওর ভালবাসা আরো বেড়ে যায়। এভাবেই চলতে থাকে। তিন বছর পর ও হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। একমাস পরও আমাকে বলে যে, ওই ভাবীর সাথে ওর আবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত, তবুও ও অনুতপ্ত। ও আমার কাছে মাফ চায় এবং সময় দেয় চিন্তা করার জন্য। আমি একদম ভেঙ্গে পড়েছিলাম। এত লজ্জার ব্যপার যে আমি কাউকে কিছু বলতে পারছিলামনা আবার ওকে ছাড়ার কথাও চিন্তা করতে পারছিলামনা কারণ আমিতো ওকে ছাড়ার জন্য সম্পর্কে যাইনি। আমি সত্যিই ওকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছিলাম। ও যাতে আর কখনো ভাবী বা অন্য কোন মেয়ের প্রতি শারীরিক আকষর্ণ ফিল না করে, তাই আমার শরীরটা ওকে দিয়ে দিলাম আর প্রমিস করালাম যে ও আর কখনো এমন কিছু করবেনা আর এটাই ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।

শারীরিক সম্পর্কের একমাস পরই ও সম্পর্ক ভাঙ্গে এই বলে যে ও বাসায় ধরা খেয়েছে, এবং সে এই সম্পর্কের জন্য তার মাকে কষ্ট দিতে পারবেনা। সবই ছিলো তার চালাকি। কিন্তু আমি মানতে পারছিলাম না। রাস্তায় তার পায়ে ধরেছিলাম যেন আমাকে ছেড়ে না যায়, পরিনতিতে সে তার মাকে আমার বাসায় পাঠায় এবং আম্মুকে অপমানিত করে আর বাবাকে সব জানায় দেয়ার ভয় দেখায়। এরপরও তাকে ভুলতে পারিনি যদিও নিজেকে সামলে নিয়েছি অনেকটাই। জানিয়ে রাখি, ব্রেকআপের পর আমি জিদ করে আর ওকে লজ্জা দিয়ে ফিরে পাওয়ার আশায় ওর আর আমার কিছু ফ্রেন্ডদের আমাদের শারীরিক সম্পর্কের ব্যপারটা বলে দেই। আর আমার ফ্যামিলিতে একজন কাজিন ছাড়া আর কেউ জানেনা ব্যাপারটা।

সমস্যা হলো, ব্রেকআপের প্রায় সাড়ে তিন বছর পরও আমি আর বদলাতে পারিনি। কেমন যেন ভয় লাগে যে যদি আবার কেউ আমাকে ধোঁকা দেয়! যদি আবার আমি কাউকে ভালোবাসি এবং যদি সে সম্পর্কে সিরিয়াস না হয়? ভেবেছিলাম যদি কেউ আমাকে আসলেই ভালবাসে, তাহলে তাকে সব সত্যি বলে দিবো। তারপরও যদি সে আমাকে চায় তাহলে তাকে বিয়ে করবো। এমন একজন আসছেও, কিন্তু ধর্ম এক না হওয়ায় কিছুই সম্ভব না। আর আমি চেষ্টা করেও তাকে ভালোবাসতে পারিনি। এসব কথা এক ফ্রেন্ডকে বলার পর সে বললো,”প্রেম করার কী দরকার? ডাইরেক্ট অ্যারেন্জ ম্যারেজ করবি আর যা হইছে ভুলে যা। এখন রিলেশনশিপে সবাই এসব করে আর এছাড়াও বিভিন্ন ভাবে মেয়েদের ভার্জিনীটি ভাঙ্গতে পারে তাই যে ছেলের সাথেই বিয়ে ঠিক হবে তাকে সত্যি বলতে যাইসনা!”

কিন্তু যার সাথে সারাজীবন থাকার স্বপ্ন দেখবো তাকে কীভাবে ঠকাবো ? আল্লাহ তো সত্যিটা জানে। আর আম্মু বলে, মিথ্যা দিয়ে কোনো সম্পর্ক টেকেনা। বিয়ের পর সত্যি বুঝতে পেরে বা কারো কাছ থেকে জানতে পেরে যদি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দেয়? আবার বিয়ের আগে সব সত্যি বলে দিলে অ্যারেন্জ ম্যারেজে কোনো ছেলে আমাকে কেন বিয়ে করবে? উল্টা যদি সে আমার ফ্যামিলিকে সব জানিয়ে দেয়! এতদিন এগুলো নিয়ে ভাবতাম না, কিন্তু ঐইদিন আম্মু ২/৩ বছরের মধ্যে বিয়ে করার কথা বলার পর থেকে আমি একদম ভয় পেয়ে গেছি। পড়তেও পারছিনা মন দিয়ে। আমার কী করা উচিৎ?

দেখো আপু, আমার মনে হচ্ছে তুমি শুধু শুধু এইসব নিয়ে এত বেশী চিন্তা করছ। হ্যাঁ, তুমি অনেকগুলো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে। যেমন, জ্বর করে সম্পর্কে ধরে রাখতে চাওয়া, বা ছেলেটি যেন অন্য মেয়ের সাথে যৌন সম্পর্ক না করে এই জন্য যৌন সম্পর্ক করা। একটা জিনিস মনে রাখবে, যৌন সম্পর্ক কখনো হুট করে হয় না। আর যে ছেলে এমন ছোট বয়সে ভাবীর সাথে যৌনতার মত গর্হিত কাজ করে ফেলেছে, তাঁর সাথে যৌন সম্পর্কে জড়ানো কখনোই বুদ্ধিমতীর কাজ হয়নি।

যাই হোক, যা হয়েছে হয়ে গিয়েছে। সেটা নিয়ে বেশী ভেবে লাভ নেই। তবে হ্যাঁ, অতীত থেকে শিক্ষা অবশ্যই নেবে। অন্ধ ভালোবাসা বলতে কিছু পৃথিবীতে নেই। আর কারো সাথে সম্পর্ক হলো মানেই নিজের জান প্রাণ শরীর তাঁকে উৎসর্গ করে দেবে না। যে তোমাকে সত্যি ভালো বাসবে, সে এগুলো চাইবে না। আর যে চাইবে, সে তোমাকে সত্যি ভালোবাসে না।

তোমার বান্ধবী যা বলেছে সেটাও ঠিক নয়। অন্য মানুষ করছে বলেই তোমাকেও করতে হবে, বিষয়টা এমন কিছু নয়। ভার্জিনিটি বড় বিষয় নয়, বড় বিষয় হচ্ছে জীবন সঙ্গীর কাছে সৎ থাকা। তাই কাউকে যদি ভালোবাসো, তাহলে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা জানিয়েই বিয়ে করবে। তাতে অন্তত মানুষটা জানবেন যে তুমি কীসের মাঝ দিয়ে গিয়েছে। আর হ্যাঁ, মা বলেছেন ২/৩ বছরের মাঝে বিয়ে মানে এখনোই তুমি বিয়ের চিন্তায় পাগল হয়ে যাবে, এটা বোকামি। লেখাপড়া শেষ না করে, নিজের পা না দাঁড়িয়ে বিয়ে করার কথা চিন্তাও করবে না। আগে জেবনে কিছ করো। মানসিকভাবে পরিপক্ক হও, তারপর বিয়ের কথা ভাবা যাবে। প্রিয়.কম