মেইন ম্যেনু

টক অব দ্যা টাউন

৪৪ বছর পর ভোলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ল্যান্স নায়েক মোস্তাফিজের লাশের সন্ধান

স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ল্যান্স নায়েক মোস্তাফিজুর রহমানের লাশের সন্ধান পেলেন তার স্বজনরা। মোস্তাফিজের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের উত্তর বাটামারা গ্রামে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে গিয়ে পাকবাহিনীর কামানের গুলিতে নিহত হন মোস্তাফিজুর রহমান। বাবা শফিয়ার রহমান সেটেলমেন্ট অফিসের আমিনের চাকুরি করতেন। মা জুলেখা বেগম ছিলেন একজন গৃহিনী। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান মেঝ। প্রায় ৪ বছর আগে মারা যান তার বড় ভাই অহিদ। ছোট ভাই নাছির স্থানীয় খানকায়ে বশিরিয়া দারুদ সুন্নাত আলিম মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। একমাত্র বোন সকিনাকে ১৯৭২ সালে বিয়ে দেওয়া হয় পাশ্ববর্তী উপজেলা দৌলতখানের জয়নগর গ্রামের নাছির আহাম্মদ হাওলাদারের কাছে। তিনি ওই উপজেলার পশ্চিম জয়নগর সমজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। ভোলার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান দিনাজপুরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন জানলেও তার লাশ কিংবা কবর খুঁজে পায়নি স্বজনরা।

মোস্তাফিজ কোথায়, কিভাবে শহীদ হয়েছিলেন। তার লাশ কোথায়, কারা, কিভাবে দাফন করেছিলেন তা কিছুই জানতে পারেননি তারা। মোস্তাফিজের সাথে একই সঙ্গে নিহত হন নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা ইউনিয়নের কলিশাউড়ি ইউনিয়নের গুরুয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হাবিলদার মিয়া হোসেন। একইভাবে স্বজনরা খুঁজে পাননি নেত্রকোনার শহীদ হাবিলদার মিয়া হোসেনের লাশও। সম্প্রতি রংপুরের বাসিন্দা যুগ্ম সচিব মাহবুব কবির মিলন ভোলার বাসিন্দা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান ও নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা হাবিলদার মিয়া হোসেনের লাশের সন্ধান দেন। দীর্ঘ ৪৪ বছর পর ল্যান্স নায়েক মোস্তাফিজুর রহমানের লাশের খোঁজ পেয়ে যেনে আতকে ওঠেন স্বজনরা। তারা কান্নায়রভঙে পড়েন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ল্যান্স নায়েক মোস্তাফিজুর রহমানের লাশের সন্ধান পেয়ে তার স্বজনরা এখন দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেছেন। আজ শনিবার দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় সরকারের পক্ষ রথকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদেরকে সম্মাননা দেওয়া হবে।

ল্যান্স নায়েক মোস্তাফিজুর রহমানের ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নাছির আহমেদ (৬৫) বলেন, গত ১৮ অক্টোবর বিকেলে বড়মানিকা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শাহজাহানের মাধ্যমে যুগ্ম সচিব মাহবুব কবির মিলন তার ভাই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমানের কবরের সন্ধান দেন। নাছির মাষ্টার বলেন, তিনি যুগ্ম সচিব মাহবুব কবির মিলনের সঙ্গে মোবাইলে কথাও বলেছেন। মাহবুব কবির মিলন তাকে জানান, আপনার ভাইর কবরের খোঁজ পাওয়া গেছে। আমি বহু চেষ্টা করে আপনার ভাই মোস্তাফিজুর রহমান ও নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা মিয়া হোসেনের কবরের খোঁজ পেয়েছি। আমরা দুঃখিত এতদিনেও আপনার ভাইর কবরের খোঁজ দিতে পারিনি। তবে, এখন আপনার ভাইর কবর দেখানোর ব্যবস্থা করবো। ৩১ অক্টোবর শনিবার দিনাজপুরের দশমাইল নামক এলাকায় আপনারা চলে আসবেন। সেখানে আপনার ভাই মোস্তাফিজুর রহমান এবং তার সঙ্গে একইভাবে যুদ্ধে নিহত হাবিলদার মিয়া হোসেনের কবর দেখানো হবে। সচিবের কাছ থেকে এই খবর শুনে হতবাক হয়ে যান নাছির। তিনি বলেন, যাকে আমরা ৪৪ বছর ধরেও খুঁজেও পায়নি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা পর্যন্ত যার খোঁজ দিতে পারেনি। তার খোঁজ দিল সরকারেরই একজন যুগ্ম সচিব! আমি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি। পরদিন ১৯ অক্টোবর আমাদের এলাকার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ভাষা সৈনিক সাবেক এমপি রেজা-ই-করিম চৌধুরী চুন্নু মিয়ার ছোট ছেলে মাহবুবুল আলম চৌধুরী যখন যুগ্ম সচিবের বরাত দিয়ে একই কথা জানালেন তখন আমার বিশ্বাষ হয়েছে।

স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর ষাটোর্ধ্ব বয়সে এসে চিন্তা করছি এখনো আমাদের জন্য অনেকে ভাবেন। তখন থেকেই ভাইর কবর দেখার জন্য আমি, আমার বোন এবং স্ত্রী-সন্তানরা উদগ্রিব হয়ে আছি। আর দিন গুণছি কবে আসবে সেই ৩১ অক্টোবর। কখন দেখবো মোস্তাফিজুর রহমানের কবর। যাকে আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি ৪৪ বছর ধরে। নাছির বলেন, আমি আমার ভাইকে খুঁজতে রাজশাহির জোহা হলে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজ মেম্বারের সঙ্গে দেখা হলে সে আমাকে বলেন, আমরা একসঙ্গে দিনাজপুরে যুদ্ধ করেছি। তোমার ভাই দিনাজপুরে পাকবাহিনীদের গুলিতে মারা গেছেন। তার লাশও এখন আর খুঁজে পাবেনা। কেউ তোমার ভাইর লাশের খোঁজ দিতে পারবেনা। কাজেই শুধু শুধু কষ্ট করে কোন লাভ নেই। তুমি বাড়ি চলে যাও।

মোস্তাফিজের কথা শুনে হতাশ হয়ে সেখান থেকে বাড়ি চলে আসি। ভাইর কোন খোঁজ পাইনি ৪৪ বছরেও। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমানের ভাই নাছির মাষ্টার বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকেই আমাদেরকে দিনাজপুর যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। আমরা পরিবারের ৬ জন দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে ভোলা থেকে ঢাকার লঞ্চে উঠে শুক্রবার ভোরে ঢাকায় এসেছি। এখান থেকে বিকেলে দিনাজপুরে গিয়ে সম্মাননা অনুষ্ঠানে যোগ দিবো। মোস্তাফিজুর রহমানের একমাত্র বোন সকিনা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, রংপুরের বাসিন্দা যুগ্ম সচিব মাহবুব কবির মিলনের কাছ থেকে আমার ভাই শহীদ মোস্তাফিজুর রহমানের কবরের খোঁজ পাওয়ার খবরটা শুনে চমকে উঠলাম। এ খবর শুনে নেভানো আগুন যেন ফের জ্বলে উঠলো। সকিনা বলেন, আমার ভাই ছোট বেলা থেকেই খুব সাহসী ছিলেন। তার সাহসীকতার কারনে মাত্র এক বছরের মাথায় সিপাহি থেকে ল্যান্স নায়েক হন তিনি। মোস্তাফিজ বলতেন যে দেশে মা বোনের ইজ্জত নেই সে দেশে বেঁচে থেকে কি লাভ! একইভাবে একই জায়গায় খোঁজ পেলেন নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা ইউনিয়নের কলিশাউড়ি ইউনিয়নের গুরুয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হাবিলদার মিয়া হোসেনের কবর। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মিয়া রহাসেনের রছলে শাহজাহান মিয়া বলেন, যুগ্ম সচিব মাহবুব কবির মিলনের মাধ্যমে প্রথমে কলিশাউড় ইউনিয়নের সচিব নিজাম উদ্দিন আমাকে বাবার কবরের সন্ধান দেন। এরপর আমি ও আমার মা যুগ্ম সচিব মাহবুব কবির মিলনের সঙ্গে ফোনে কথা বলি। এ সময় আমার মা ও আমি কান্নায় ভেঙে পড়ি। এ খবর শুনে আমার মায়ের কান্না যেন থামছেইনা। ৩১ অক্টোবর দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় যাওয়ার কথাও বলেন মিলন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রংপুরের বাসিন্দা চট্টগ্রামে কর্মরত বিনিয়োগ বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মাহবুব কবির মিলন বলেন, আমার বাবা আব্দুল কুদ্দুস একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আর সেই চেতনায় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে। এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে খুঁজে বেরিয়েছি মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয়। চেষ্টা করেছি স্বজনদের কাছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজ দেওয়ার। প্রতিজ্ঞা করেছি যেসব মুক্তিযোদ্ধা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, জীবন দিয়েছেন।
তাদের পরিবার অন্তত লাশের সন্ধান, কবরের সন্ধান পান সেজন্য প্রানপন চেষ্টা করে যাচ্ছি। অনেক ক্ষেত্রে সফলও হয়েছি। আবার কখনো কখনো হতাশও হয়েছি মুক্তিযোদ্ধাদের অবহেলিত জীবন দেখে। মুক্তিযোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতেই আমার এ উদ্যোগ। নতুন প্রজন্মের কাছে বিশেষ করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি সততা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে বহু কাজ করেছি আমি।

মাহবুব কবির মিলন বলেন, দিনাজপুর জেলা শ্রমীক লীগের সভাপতি সাখাওয়াত ও মান্নান নামে দুই মুক্তিযোদ্ধা আমাকে জানালেন, দিনাজপুর জেলার কাহারুল উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের দশমাইল এলাকায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তাদের চোখের সামনেই শহীদ হন দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সিপাহি ল্যান্স নায়েক মোস্তাফিজুর রহমান ও হাবিলদার মিয়া হোসেন। স্থানীয় লোকজন তাদেরকে সেখানেই কবর দেন। কিন্তু শহীদদের স্বজনদের খোঁজ পাওয়া যায়নি আজো।

তারা আরো বলেন, যুদ্ধের সময় সিপাহি ল্যান্স নায়েক মোস্তাফিজুর রহমান ও হাবিলদার মিয়া হোসেনসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করার সময় পাকহানাদারদের গোলাগুলির মুখে মুক্তিযোদ্ধারা সবাই যখন পিছু হটলো তখন সিপাহি ল্যান্স নায়েক মোস্তাফিজুর রহমান ও হাবিলদার মিয়া হোসেন চিৎকার দিয়ে বললো “শরীরের এক বিন্দু রক্ত থাকতে এ দেশের এক ইঞ্চি মাটিও ছাড়বোনা। মারতে এসেছি মারবো, না হয় মরবো”।

শহীদ সিপাহি ল্যান্স নায়েক মোস্তাফিজুর রহমান সিক্স পাউন্ডার মটর চালানো পারদর্শী ছিলেন। সিক্স পাউন্ডার গানও ছিল তার প্রিয়। পাকবাহিনীদের ছোড়া গুলি এসে তাদের সিক্স পাউন্ডার মটরের ওপর পরলে সিপাহি ল্যান্স নায়েক মোস্তাফিজুর রহমান ও হাবিলদার মিয়া হোসেনের শরীর ঝাঝড়া হয়ে যায়। সেখানে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে কবর দিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ওই কবরটি পাকাকরনের ব্যবস্থা করা হলেও সেই কবরে যাদেরকে রাখা হয়েছে তাদের খোঁজ মেলেনি ৪৪ বছরেও। সেই সূত্র ধরে শহীদ সিপাহি ল্যান্স নায়েক মোস্তাফিজুর রহমান ও হাবিলদার মিয়া হোসেনের স্বজনদের খুঁজতে থাকি।

বিনিয়োগ বোর্ডের পরিচালক মাহবুব কবির মিলন বলেন, তাদের ঠিকানা খোঁজার জন্য দিনাজপুর, ঠাকুরগাও, গোপালগঞ্জ, নীলফামারী জেলাসহ বৃহত্তর বরিশাল বিভাগ, ফরিদপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার বহু মুক্তিযোদ্ধা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এমনকি সেক্টর কমান্ডারদের কাছে গিয়েছি। কিন্তু কেউ তাদের খোঁজ দিতে পারেননি। পরে সেখানকার এক লোক বর্তমান বিজিবির সদর দফতর পিলখানার রেকর্ড শাখায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ঠিকানা খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেন। তখন আমি পিলখানার রেকর্ড শাখায় খোঁজ নিলে ওই শাখার দায়িত্বরত মেজর শামিম গত ১৮ অক্টোবর আমাকে জানান যে, শহীদ সিপাহি ল্যান্স নায়েক মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা গ্রামে। এবং হাবিলদার মিয়া হোসেনের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা ইউনিয়নের কলিশাউড়ি ইউনিয়নের গুরুয়াকান্দা গ্রামে।
সে অনুযায়ী ওই দিনই ফোনে পরিবারের কাছে শহীদ সিপাহি ল্যান্স নায়েক মোস্তাফিজুর রহমান ও হাবিলদার মিয়া হোসেনের কবরের সন্ধান দেই। তাদেরকে জানিয়ে দেই যে, স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর সিপাহি ল্যান্স নায়েক মোস্তাফিজুর রহমান ও হাবিলদার মিয়া হোসেনের লাশের সন্ধান পাওয়া গেছে। খোঁজ মিলেছে তাদের কবরের। আপনারা তাদের কবর দেখতে হলে ৩১ অক্টোবর শনিবার দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় চলে আসুন। সেখানে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কবর দেখার ব্যবস্থা করা হবে। শহীদ পরিবারকে দেওয়া হবে সম্মাননা। ওই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি ও মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

মাহবুব কবির মিলন আরো বলেন, এ খবরটি যখন শহীদ পরিবারের স্বজনদের কাছে জানিয়েছি তখন তাদের যে কান্না শুনেছি সে কান্না আমি আমার জীবনেও শুনিনি। ৪৪ বছরের কান্না যেন একদিনেই কেঁদেছেন শহীদদের স্বজনরা।
৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকারের কাছে শহীদ সিপাহি ল্যান্স নায়েক মোস্তাফিজুর রহমান ও হাবিলদার মিয়া হোসেনকে বীর শ্রেষ্ঠ খেতাব দেওয়ারও দাবি জানান বিনিয়োগ বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মাহবুব কবির মিলন।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে তার ব্যক্তিগত আইডিতেও তিনি বিষয়টি লিখেছেন। তার ফেইসবুক আইডি থেকে আবার ভোলার ভাষা সৈনিক মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক রেজা-ই-করিম চৌধুরী চুন্নু মিয়ার কনিষ্ট পুত্র প্রভাতি ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের জিএম মাহবুবুল আলম চৌধুরীও তার ফেইসবুকে শেয়ার করেন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা কমান্ডার আহম্মদ উল্যাহ শুক্রবারে বলেন, দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় তৎকালীন বিডিআর এ কর্মরত অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর গুলিতে নিহত শহীদ ল্যান্স নায়েক মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবার দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে চলে গেছেন। শুক্রবার বিকেলে অথবা সন্ধায় দিনাজপুরে পৌছবেন। সেখানে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবেন।

এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মনির হোসেন হাওলাদার বলেন, বিনিয়োগ বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মাহবুব কবির মিলনের কাছ থেকে খবরটা শুনে আমি সরেজমিনে ওই শহীদ ল্যান্স নায়ে মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেই। খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি বড়মানিকা ইউনিয়নের বাসিন্দা ল্যান্স নায়ে মোস্তাফিজুর রহমান ১৯৭১ সালে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় তৎকালীন বিডিআর এ কর্মরত অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর গুলিতে শহীদ হন। তাই ওই সময়ে স্বজনরা মোস্তাফিজের খোঁজ পাননি। তাই সরকারের পক্ষ থেকে এতদিন কোন সহায়তা দেওয়া হয়নি। তার বাবা-মা মারা গেলেও ভাই এবং বোন এখনো বেঁচে আছেন। তবে, ৪৪ বছর ধরে শহীদ মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবার যে সম্মান পাননি ৪৪ বছর পর এখন সে সম্মান দেওয়া হবে। তাই ৩১ অক্টোবর শনিবার দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদেরকে সম্মাননা দেওয়া হবে। সেখানে বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান ইউএনও।

ভোলার জেলা প্রশাসক মোঃ সেলিম রেজা বলেন, আমিও বিনিয়োগ বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মাহবুব কবির মিলনের কাছ থেকে খবর পেয়ে বোরহানউদ্দিনের ইউএনও এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে অবহিত করেছি। তারা ইতিমধ্যেই খোঁজখবর নিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিবারকে দিনাজুরে সম্মাননা জানাবেন। এ বিষয়ে শহীদ পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগীতারও আশ্বাষ দেন ডিসি।