মেইন ম্যেনু

৪৫ লাখ মানুষের আঙ্গুল চুরি!

আঙ্গুল চুরি! শিরোনাম পড়ে নির্ঘ্যাৎ নিজের আঙ্গুলের দিকে একবার হলেও ইতোমধ্যে তাকিয়ে নিয়েছেন। না, আপনার হাতের একটা দুটো আঙ্গুল কেউ চুরি করেনি। কিন্তু সাইবার চোর অর্থাৎ হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডাটাবেজ থেকে ৪৫ লাখ মানুষের আঙ্গুলের ছাপ চুরি করেছে। যাদের আঙ্গুলের এই ছাপ চুরি গেছে, তাদের জন্য এটা ভয়াবহ এক সংবাদ। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সামাজিক সুযোগ সুবিধার প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে এই আঙ্গুলের ছাপের ব্যবহার। হ্যাকারদের কাছে এই ছাপ চলে যাওয়ার মানে, এখন ওই চুরি যাওয়া আঙ্গুলের ছাপের প্রত্যেকটি মানুষ আর্থিক এবং সামাজিক ঝুঁকির মধ্যে জীবন যাপন করছেন।

গত বুধবার হ্যাকাররা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্ভারে হামলা চালিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দেশটির জনসম্পদ বিভাগ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হ্যাকাররা ডাটাবেজ থেকে ১১ লাখ থেকে শুরু করে ৫৬ লাভ মানুষের আঙ্গুলের ছাপ চুরি করেছে। কিন্তু সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই আঙ্গুলের ছাপ চুরি যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। কারণ এই ডাটাবেজে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশটির অনেক কর্তাব্যক্তিদের আঙ্গুলের ছাপ রয়েছে।

জনসম্পদ বিভাগের দেয়া তথ্যানুসারে, দেশটির প্রায় সোয়া দুই কোটি মানুষের আঙ্গুলের ছাপ ওই ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা আছে। এবং এই বিশাল সংখ্যক মানুষ তাদের সামাজিক নিরাপত্তা চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে ব্যাংকের লেনদেনও এই ছাপের উপরই নির্ভরশীল। এমনও আছে, অনেক নাগরিক নিজের বাড়িতেও প্রবেশ করতে পারবে না, যদি এই ডাটাবেজ থেকে চুরি যাওয়া ছাপগুলোকে হ্যাকাররা কাজে লাগায়।

তবে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই চুরির জন্য চীনের হ্যাকারদের দায়ি করা হচ্ছে। কিন্তু এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। যদিও মার্কিন সাইবার বিশেষজ্ঞরা এই চুরি যাওয়া ডাটা দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি আরেক দল বিশ্লেষক এও দাবি করছেন যে, প্রাথমিক যে চুরি করা হয়েছে সেটা আসলে একটা ডাইভারসন। কারণ ডাটাবেজ থেকে হারিয়ে যাওয়া আঙ্গুলের ছাপ উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় সার্ভারের নিরাপত্তা ব্রিজ উন্মুক্ত করতে হবে, আর হ্যাকাররা ওই সময়ের জন্যও অপেক্ষা করতে পারে চূড়ান্ত আঘাতের জন্য।



« (পূর্বের সংবাদ)