মেইন ম্যেনু

৪ বছর বয়সেও মুক্তিযোদ্ধা !

হামিদা আক্তার বারী, ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা : দেশের ৭১’র স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। তৎকালীন সময় ৭১ সালে মাত্র ৪ বছর বয়সে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করায় ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে পাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধার সকল সুযোগ সুবিধা। দীর্ঘদিন ধরে গ্রহন করছেন সরকার ঘোষিত সম্মানী ভাতাও। এ ঘটনায় নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ভারতে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে চাপা ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার ৭ নং খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ডালিয়া গ্রামের পিতা-মৃত মো: নবাই মামুদ ও মাতা-মৃত জহিমন নেছা’র পুত্র মো: জহির উদ্দিন ভূয়াঁ মুক্তিযোদ্ধা সেঁজে সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে সরকারী চাকুরীতেও রয়েছেন বহাল তবিয়তে। তিনি একই জাতীয় পরিচয় পত্রে ভিন্ন ভিন্ন জন্ম তারিখ দেখিয়ে প্রশাসনের উর্দ্ধতন সকলকে কর্মকর্তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে চলছেন। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে। যেন দেখার কেউ নেই। তার জাতীয় পরিচয় পত্রের আইডি নং- ৭৩১১২৪৭৩৫০৪৭৮’তে দেখা যায়, জন্ম তারিখ-০৪ ডিসেম্বর ১৯৬৭ইং সাল। তিনি এই জন্ম তারিখ দেখিয়ে রংপুর ডিভিশনের ডালিয়া পাউবো’তে চাকুরীতে যোগদান করেন ১৯৮৩ সালের ২০ অক্টোবর । তার চাকুরী বহিতে দেখা যায় উচ্চতায় ৫ ফুট দেড় ইঞ্চির জহির উদ্দিন তার জন্ম তারিখ ০৪ ডিসেম্বর ১৯৬৭ইং সাল, চাকুরীতে যোগদান তারিখ-২০ অক্টোবর ১৯৮৩ইং । অদ্যবধি তিনি চাকুরীরত অবস্থায় চাকুরী করছেন।

এমতবস্থায় মো: জহির উদ্দিন ৩১ জানুয়ারী ২০১০ সালে তৎকালীন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে ম্যানেজ করে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল থেকে একটি সনদপত্র সংগ্রহ করেন। যার স্বারক নং মু.বি.ম/সা/নীল/প্র:-৩/৪২/২০০২/৬৯৮ তাং-৩১/০১/২০১০ইং। গেজেট নং-৭৪৩ তাং-১২/০১/২০১১ ইং এবং মুক্তিবার্তা নং-০৩১৫০২০০১৯। এখানে জন্ম সনদ মুলে জহির উদ্দিনের জন্ম তারিখ-০৫/১২/১৯৫১ইং সাল দেখানো হয়েছে। যা খালিশা চাপানী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা শ্রী শরিলাল রায় স্বাক্ষরিত কপিতে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে ভূয়াঁ মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের ওয়েব সাইটের তথ্য অনুসন্ধানে গত ২৯ জুলাই/২০১৩ইং সালে ডাটা বেজে উপরি উল্লেখিত তথ্য উল্লেখ করেন । ডাটা বেজ আইডি নং- ০৬০৫০৪০০৬৮’তে পাওয়া যায়,এনআইডি নং-৭৩১১২৪৭৩৫০৪৭৮ জন্ম তারিখ-০৪-১২-১৯৫১ ইং। মুক্তিযোদ্ধা সেঁজে তিনি যে জন্ম তারিখ দেখিয়েছেন তাতে করে অনেক আগেই চাকুরী থেকে অবসরে যাওয়ার কথা জহির উদ্দিনের । তাহলে একই ব্যক্তির একই জাতীয় পরিচয় পত্রে কিভাবে দুই ধরনের জন্ম তারিখ হলো ? এ প্রশ্ন এখন সকল প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মনে ঘুর পাক খাচ্ছে। শুধু তাই নয়,ভারত কেম্পে অংশগ্রহন করেছেন এর স্ব- পক্ষে আজোবধী কোন কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি ।

জানা যায়, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে ম্যানেজ করে মাসোহারা দিয়ে টিকে আছেন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় জহির উদ্দিন। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ডিমলা উপজেলায় ভারত কেম্পে প্রশিক্ষন না নিয়ে এবং বিভিন্ন ভাবে মুক্তিযোদ্ধা সেঁজে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আছেন ১৫৭ জন। উপজেলায় মুজিব বাহীনিসহ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় রয়েছেন ১৪৭ জন। অনুসন্ধানে উঠে আসে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে ভূয়ার তালিকায় বেশী। তবে জানা গেছে, গেল বছর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে ৫০ জন ভূয়াঁ মুক্তিযোদ্ধাকে বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে এসব ভূয়াঁ মুক্তিযোদ্ধারা সব দিক ম্যানেজ করে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা উত্তোলন করছেন। এসব ভূঁয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাতিলের জন্য ভারতে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা মুখ খুললেই তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুঁমকী ধাঁমকী দিয়ে টিকে আছেন তারা। এমনকি মাঝে মাঝে ভারতে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকেই তালিকা থেকে বাতিল করার হুঁমকী দেন ভূঁয়া মুক্তিযোদ্ধারা বলে জানিয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহকারী কমান্ডার ভারতে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মো: আবুল কাশেম। একই অভিযোগ করেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ হোসেন। তিনি বলেন, অনেক অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাইনি। বরং দিন দিন ভূঁয়া মুক্তিযোদ্ধাদের দৌরাত্ম বেড়েই চলেছে।

এ বিষয়ে কথা হয় বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাচাই কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা কমান্ডার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন খোকনের সাথে, তিনি বলেন ইতিমধ্যেই অনেক ভূঁয়া মুক্তিযোদ্ধা এ উপজেলায় সম্মানী ভাতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন। তবে বর্তমানে যাচাই বাচাই চলছে। এখন কোন অনিয়ম পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহন করবে।