মেইন ম্যেনু

৫টি ফ্যাশন যা আপনার ক্ষতির কারণ হতে পারে

একজন ৩৫ বসর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ‘ফ্যাশনের শিকার’ শব্দটির এক নতুন অর্থ দান করেছেন। দ্বীর্ঘদিন যাবৎ টাইট জিন্স পরার কারণে তার ‘কম্পার্টমেন্ট সিনড্রোম’ (টাইট কাপড় পরার দরুন পায়ের কাফ মাসেলে সৃষ্ট এক প্রকার জটিল অবস্থা) অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো। কিন্তু এটিই প্রথম নয় যে একজন ব্যক্তি ফ্যাশনের জন্য মারাত্মক অবস্থার শিকার হয়েছে। ‘এটা প্রস্তর যুগ থেকেই হয়ে আসছে’ বললেন সামার স্ট্রেভেনস যিনি ‘ফ্যাশনঅ্যাবলি ফ্যাটাল’ এর লেখক। তিনি আরও বলেন, ‘এটা তখনই হয় যখন ফ্যাশনকে চূড়ান্তভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়; আমি এটাকে বলব চরম বোকামি।’ এখানে ইতিহাসে ৫ টি ফ্যাশনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যার জন্য মানুষকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। বিবিসি কালচার থেকে লেখাটি অনুবাদ করেছেন সুমাইয়া মারিয়া বিন্তে শহীদ।

১। করসেটস্
এটি এক প্রকার ফ্যাশনাবেল ড্রেস যেটা পরলে কোমর অনেক সংকুচিত অবস্থায় থাকে। অনেক সময় মেয়েরা কোমর চিকন করার কাজেও এটি ব্যবহার করে থাকেন। স্ট্রেভেনস তাঁর বইতে লিখেছেন, ‘করসেটসের কারণে বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, নিঃশ্বাস নেওয়ায় ঘন ঘন সংজ্ঞানাশ হওয়া, শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ সহ নানা রকম রোগ সৃষ্টি হতে পারে।’ ১৯৮৪ সালে করসেটস্ নিয়ে এক আর্টিকেলে ৯৭ টি রোগের তালিকা তৈরি করা হয় যার জন্য দায়ী হচ্ছে এই করসেটস্। টাইট ফ্যাশন নিয়ে স্ট্রেভেনস বলেন, ‘প্রতি বছর টাইট ফ্যাশন নিয়ে দ্যা লান্সেট অন্তত একটি মেডিকেল জার্নাল প্রকাশ করে। এটি শুধু নিঃশ্বাস আটকে রাখা কিংবা কোন অঙ্গের ক্ষতিই না। ১৯০৩ সালে ৪২ বসর বয়সী ছয় জন সন্তানের জননী ম্যারি হালিডে সিজারের সময় মারা যান। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস তাঁর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করে – দুই খণ্ড করসেটস্ এর এর ষ্টীলের টুকরা তাঁর হৃদপিণ্ডের সাথে পাওয়া যায়। এগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ছিল ৮.৭৫ ইঞ্চি। চলাফেরার সময় এগুলোর ধারালো প্রান্ত তার শরীরের ভিতরে ঢুকে যায়।’

২। ক্রিনোলিন ফায়ারস
ক্রিনোলিন এক প্রকার মজবুত কাঠামো।স্কার্টকে এক প্রকার আকৃতি প্রদান করতে এটি ব্যবহৃত হয়। এতে করে স্কার্টটি সামনের দিকে অনেক দূর ঝুকে থাকে। ১৯ এর দশকে এর জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে, সেই সময়ে এটি পরিহিত অবস্থায় অনেক নারী আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং এ তালিকায় অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষও রয়েছে। ১৮৬১ সালে কবি হেনরি লংফেলোর স্ত্রীও এই তালিকায় রয়েছেন। ১৮৫৮ সালে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত খবরে বলা হয় যে – গড়ে তিন জন মানুষ প্রতিদিন ক্রিনোলিন ফায়ারে মারা যাচ্ছে।

৩। স্টিফ কলারস
এটি আবিষ্কার হয়েছিল উনিশের দশকে। এটি হচ্ছে শুধু একটি কলার যা আলাদা করে পরা যেত। তার মানে এতে করে পুরুষদের প্রতিদিন শার্ট পরিবর্তন না করলেও চলত। এমনকি কোন অভিজাত পার্টিতেও এটি পরতে দেখা যেত। কিন্তু এর ক্ষতিকর দিকটি হচ্ছে এর গোঁড়ার দিকটি বেশ টাইট হয়ে থাকত যাতে করে রক্ত প্রবাহ বাঁধাপ্রপ্ত হত। ১৮৮৮ সালে জন ক্রুটজি নামে এক ব্যক্তিকে পার্কে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং এর জন্য এই স্টিফ কলারস দ্বায়ী বলে দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়েছিল।

৪। ম্যাড হ্যাটারস
এটি ছিল এক প্রকার হ্যাট। অন্যান্য গুলোর মতো এটি পরার কোন অসুবিধা ছিল না। কিন্তু এটি তৈরি করতে যে রাসায়নিক উপাদানগুলো ব্যবহার করা হতো তা ছিল বেশ অস্বাস্থ্যকর। এটি ব্যবহারের ফলে ‘ম্যাড হ্যাটারস ডিজিস’ নামক এক প্রকার রোগ হতো। এর লক্ষন গুলো ছিল- কাঁপুনি, প্যাথালজিকাল সাইনেসিস, দ্রুত বিরক্ত হওয়া – যা প্রকাশিত হয় এক ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে।

৫। কিলার হিলস
এটি এক প্রকার হিল যার সামনের ভাগ ছিল অনেক চোখা। এই স্টাইলে হিল পরতে গিয়ে অনেকে পায়ের ছোট আঙ্গুল গুলো অপারেশনের মাধ্যমে কেটে ফেলত। কারণ আঙ্গুল কেটে ফেলার পরই কেবল তা পরার জন্য ফিট হতো।