মেইন ম্যেনু

৫০ বছর পর বান্ধবীকে খুঁজে পেলেন শবনম

রাজধানীর হাটখোলা রোডের নারী শিক্ষা মন্দির স্কুলে পড়াশোনা করতেন চিত্রনায়িকা শবনম। সেইসময় তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলো প্রীতি। কিন্তু স্কুলে পড়াশুনা শেষে শবনম ও প্রীতির মধ্যে আর যোগাযোগ হয়নি। তাই বিগত ৫০ বছরে আর দেখা হয়নি শবনম ও প্রীতির।

গত সপ্তাহে শবনম রাজধানীর গুলশানে একটি মার্কেটে গেলে প্রীতির ছোটবোনের সঙ্গে দেখা হয়। তখনই খোঁজ মেলে প্রীতির। বান্ধবীর মুঠোফোন নাম্বার নিয়ে তাকে শবনম ফোন করেন। পাঁচ দশক পর প্রিয় বান্ধবীর সঙ্গে কথা বলে খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠেন শবনম। এরপর সময় করে দু’জন একদিন দেখাও করেন। আর এখন শবনম ও প্রীতির নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে।

৫০ বছর পর স্কুল জীবনের বান্ধবীকে আবারো ফিরে পেয়ে শবনম বলেন, ‘আমি তো ভেবেছিলাম হয়তো আর কোনদিন প্রীতির সঙ্গে দেখাও হবে না, কথাও হবে না। কিন্তু বিধাতার কৃপায় অবেশেষে হঠাৎ করেই যেন প্রীতির খোঁজ পেলাম। প্রীতি যেন আমার জীবনে নতুন এক অধ্যায়। কখনো মন খারাপ হলে এখন প্রীতির সঙ্গে কথা বলি। সময় কেটে যায়।’

এদিকে বুধবার (১৭ আগস্ট) শবনমের জন্মদিন। তবে নিজের এবারের জন্মদিনটি কাটবে একেবারেই সাদামাটা ভাবে। কারণ কিছুদিন আগে শবনমের স্বামী উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক রবিন ঘোষ মারা যান।

শবনম বলেন, ‘রবিন চলে যাবার পর থেকে বলা যায় ভীষণ একাই হয়ে পড়েছি আমি। যদিও আমার একমাত্র ছেলে রনি আছে আমার সঙ্গে সারাক্ষণ। কিন্তু তারপরও কেন জানি সবকিছুর মাঝে রবিনকে খুঁজে বেড়াই। রবিন ছাড়া জীবনের বাকীটা সময় কীভাবে কাটবে জানি না।’

১৯৯৮ সালে সর্বশেষ কাজী হায়াত ‘আম্মাজান’ সিনেমাতে অভিনয় করেছিলেন শবনম। এতে তিনি প্রয়াত নায়ক মান্নার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এরপর তার কাছে আর কোন মৌলিক গল্পের প্রস্তাব যায়নি বলে তিনিও আর কোনো নতুন সিনেমায় অভিনয় করেননি। তবে শবনমের এখনো আগ্রহ রয়েছে চলচ্চিত্রে কাজ করার। মৌলিক গল্পের ভালো কোন চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেলে অবশ্যই তিনি সিনেমায় অভিনয় করবেন বলে জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একজন শিল্পীর কোন অবসর নেই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শিল্পী অভিনয় করতে পারেন যদি তিনি সুস্থ থাকেন।’-যুগান্তর