মেইন ম্যেনু

৫৭ ধারা কেন অবৈধ নয় : হাইকোর্ট

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাকে কেন অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ ১১ বিশিষ্ট ব্যক্তির দায়ের করা রিটের ওপর শুনানির পর এ রুল জারি করেন।

আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বিলুপ্তি চেয়ে দেশের ১১ বিশিষ্ট নাগরিক হাইকোর্টে একটি রিট করেন। ১১ ব্যক্তির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এ রিট দায়ের করেন।

এদিকে ৫৭ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পল্লবীর বাসিন্দা জাকির হোসেনের পক্ষে অ্যাডভোকেট শিশির মনিরের দায়ের করা রিটের শুনানি শেষ হয়েছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো.ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ বুধবার এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেছেন।

এছাড়া ৫৭ ধারা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলীর আকন্দের করা আরো একটি রিট অপরিপক্ক বলে গত রোববার খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ।

গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ১১ বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

আইন সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে এ নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় তারা আদালতে রিট দায়ের করেন।

১১ বিশিষ্ট ব্যক্তি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ কামাল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আকমল হোসেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক গীতি আরা নাসরিন ও ফাহমিদুল হক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান, সমাজবিজ্ঞানের সামিনা লুৎফা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আনু মুহাম্মদ, ঢাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সাংস্কৃতিক কর্মী অরূপ রাহী ও লেখক রাখাল রাহা।

নোটিশে বলা হয়, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত মত প্রকাশের স্বাধীনতার অঙ্গীকারের সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা সাংঘর্ষিক।

এছাড়াও ৫৭ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। সেটার শুনানি শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি তথ্য প্রযুক্তি আইনে সাংবাদিক প্রবীর শিকদারকে গ্রেফতারের পর বিষয়টি আলোচনা আসে।
তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান করা হয়, তাহা ইহলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বৎসর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।