মেইন ম্যেনু

৫ লক্ষ ৮০ হাজার কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ঘুরেছেন এই বৃদ্ধ, কিন্তু কেন?

পদাতিক হিসেবে অসংখ্য আশ্চর্য ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন বাগিচা সিংহ। কখনও পড়েছেন বুনো হাতির পাল্লায়, তো কখনও কৌতূহলী মানুষের জ্বালাতনে জেরবার হয়েছেন।

৮১ বছর বয়সে ৯০ কিলোর বোঝা, তবু ২১ বার সারা ভারত হেঁটে ফেলেছেন। গত ২৩ বছর ধরে এটাই পরিচয বাগিচা সিংহের। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, রাজস্থান থেকে অসম— এই নিরন্তর হেঁটে যাওয়ার অর্থ কী? এই প্রশ্ন তাঁকে করলে স্মিত হাসেন এই চিরযুবক। বাগিচা সিংহের ভারত পরিক্রমার পিছনে এমন কিছু কারণ বর্তমান, যাকে হাজার কথা বলেও দূর করা যায়নি।

দেশের মানুষের মনে ছেয়ে তাকা নেতিবাচক প্রবৃত্তিগুলোকে দূর করতে চান বাগিচা সিংহ। তামাক, মদ, দুর্নীতি এবং আরও বহুবিধ সামাজিক অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে এবং এই বিষয়ে দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা ১৯৯২-এর এক শীতের ভোরে হরিয়ানার পানিপথে নিজের বাড়ি থেকেই একক পদযাত্রা শুরু করেন বাগিচা। তার পরের আড়াই দশক ধরে তিনি হেঁটেছেন ৫ লক্ষ আশি হাজার কিলোমিটার স্রেফ পায়ে হেঁটে।

নিজেকে ‘সামজসেবক’ বলে পরিচয় দিতে ভালবাসেন বাগিচা। দেশকে সবরকমের দূষণ থেকে মুক্ত করা তাঁর স্বপ্ন। তাঁর ‘দূষণ-তালিকা’-য় কেবল মাদক, দুর্নীতি নয়, রয়েছে যৌন ব্যাভিচারের মতো ইস্যুও। পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর বাগিচা সিংহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যেলয়ের পিএইচডি ডিগ্রিধারীও বটে। এক সময়ে স্ট্যানফোর্ডে তিনি অর্থনীতির অধ্যাপনা করতেন। পরে দেশে ফিরে এসে তিনি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটেও শিক্ষকতা করেন।

গত আড়াই দশকে পদাতিক হিসেবে অসংখ্য আশ্চর্য ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন বাগিচা সিংহ। কখনও পড়েছেন বুনো হাতির পাল্লায়, তো কখনও কৌতূহলী মানুষের জ্বালাতনে জেরবার হয়েছেন। কিন্তু কোনও পরিস্থিতিতেই দমার পাত্র নন এই নিরামিশাষী পদযাত্রী। ৮০ থেকে ৯০ কিলোর বোঝা আর তার উপরে উড্ডীন তিরঙ্গা নিয়ে তিনি হাঁটেন আর স্বপ্ন দেখেন এক নৈতিক ভাবে সবল ভারতবর্ষের। ‘রাজনীতিকরা তো বিদেশ ভ্রমণে ব্যস্ত থাকেন। দেশকে চেনেন ক’জন’— আক্ষেপের একটা সুর তাঁর গলায় খেলা করলেও তিনি আজও প্রস্তুত তাঁর পরবর্তী জার্নির জন্য।