মেইন ম্যেনু

৬টির বেশি কলা খেলে কি মানুষ মারা যায়?

জনপ্রিয় ফল কলা সম্পর্কে একটি প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, একসঙ্গে অনেকগুলো কলা খেলে বিপদ হতে পারে। কোনো ব্যক্তি একসঙ্গে ৬টির বেশি কলা খেলে তার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে বলেও একদল চিকিৎসক দাবি করেন। কিন্তু এসব কথা কি আসলেই সত্যি? নাকি মানুষের মনগড়া ধারণার বর্হিপ্রকাশ এসব। আর এই বিষয়টি নিয়েই বিবিসি’র এই প্রতিবেদন।

বিশ্বে জনপ্রিয় ফলগুলোর একটি কলা, যা ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর। এই কারণে এই ফলটি আপনার জন্য স্বাস্থ্যকর। তবে কেন, কিছু মানুষ মনে করেন, কলা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কলা সর্ম্পকে নেতিবাচক ধারণা ছড়িয়েছেন ব্রিটিশ কৌতুক অভিনেতা রিকি জার্ভিসের অন্তরঙ্গ বন্ধু সবার পরিচিত মুখ কার্ল পিলকনিটন। জার্ভিস ও তার সতীর্থ স্টিপেন মারচেন্টের সঙ্গে আলাপকালে বলছেলিনে। জার্ভিস ও তার সতীর্থ স্টিফেন মারচেন্টের সঙ্গে আলাপকালে বলছেলিনে, ‘যদি একসঙ্গে ৬টির বেশি কলা খায় তবে তার মৃত্যু হতে পারে।’

নিজের এই বক্তব্যের পক্ষে তার যুক্তি ছিল এই, ‘এটি প্রকৃতপক্ষেই একটি সত্যি ঘটনা। ৬টি কলায় যে পরিমাণ পটাশিয়াম থাকে তা একজন মানুষের জন্য ক্ষতিকর। আমি এক ছড়ি কলা দেখছি যেখানে ৬টি কলা আছে। দেখেন এখানে ৭টি নেই? কারণ ৭টি ক্ষতিকর।’

পটাশিয়াম কি ক্ষতিকর? আসল কথা হচ্ছে বেঁচে থাকার জন্য পটাশিয়াম খুব দরকার। লন্ডনের সেন্ট জর্জ হাসপাতালের খাদ্য বিশেষজ্ঞ ক্যাথরিন কলিন্স বলেন, ‘মানব শরীরের প্রত্যেকটি কোষে এটি থাকে।’ ‘মানব শরীরে কলা বৈদ্যুতিক প্রবাহ তৈরিতে সহায়তা করে। যার ফলে কোষগুলো সঠিকভাবে কাজ করে। এই ফল আপনার হৃদপিন্ড গতিশীল রাখে। যে করাণে অগ্ন্যাশয় থেকে প্রচুর ইনসুলিন বের হয়। এটি রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং আরো অধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখে।’

অন্যদিকে, শরীরে পটাশিয়ামের উপস্থিতি বেশি বা কম হলে হৃদযন্ত্রে অনিমিয়ত কম্পন, পাকস্থলীতে ব্যথা, বমিবমি ভাব ও ডায়রিয়া হতে পারে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনে রাসায়নিক হিসেবে পটাশিয়া ক্লোরাইড ব্যবহৃত হয় পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি হলে হৃদপিন্ডকে অকার্যকর করে দেয়। কলিন্স আরো বলেন, কিন্তু একজন স্বাস্থ্যবান ব্যক্তির জন্য বেশি পরিমাণ পটাশিয়াম গ্রহণ করা অসম্ভব ব্যাপার। তার মতে, ‘আপনার হৃদযন্ত্রের কম্পন থামিয়ে দেওয়ার জন্য যে পরিমাণ পটাশিয়াম দরকার, তার জন্য একদিনে প্রায় সম্ভবত ৪০০ কলা খেতে হবে যা একজন মানুষের পক্ষে খাওয়া কখনোই সম্ভব নয়। ব্রিটেন ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন উচিত প্রায় ৩৫০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম গ্রহণ করা। ১২৫ গ্রাম ওজনের একটি কলা তে মাত্র ৪৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাক। যার অর্থ হচ্ছে, একজন স্বাস্থ্যবান মানুষ নির্দিধায় ৭টি কলা খেতে পারেন। কেননা ওই সাত কলায় তার শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা হয় ৩১৫০ মিলিগ্রাম।

তবে এটি কেবল সুস্থ মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। কিডনি রোগে আক্রান্তদের জন্য বেশি কলা খাওয়া অবশ্যই ক্ষতিকর। এ সম্পর্কে সর্ম্পকে খাদ্য বিশেষজ্ঞ ক্যাথরিন কলিন্স বলেন, কিডনি রোগীদের রক্তে কলা ক্ষতিকর পটাশিয়াম তৈরি করে। কেননা তারা স্বাভাবিক মানুষদের মত প্রস্রাবের মাধ্যমে কলাতে থাকা খনিজগুলো নির্গত করতে পারেন না। ফলে রক্তে অতিরিক্ত পটাশিয়ামের কারণে কিডনি রোগীরা মারাও যেতে পারে।

এতে অবশ্য কলা ফলটির দোষ দেয়া ঠিক হবে না। কেননা একবার এক কিডনি ডায়ালিসেসের রোগী বেশি টমেটো খাওয়ায় মারা গিয়েছিলেন। কলার মত টমেটোতেও পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে।