মেইন ম্যেনু

৬১ বছর বয়সী বৃদ্ধের অবিশ্বাস্য শরীর

পৃথিবীতে অনেক ব্যায়াম বীর আছে, কিন্তু ৬০ বছর বয়সী ব্যায়াম বীর বোধ হয় নেই। লিয়াং জিয়াং নামের এমন একজন চীনা শারীরিক কসরত বিদের নাম তার দেশের নামীদামী পত্রিকাগুলোর হেডলাইনে চলে এসেছে। লিয়াং জিয়াংয়ের বয়স ৬১ বছর। কিন্তু তার ব্যায়াম করা পেটানো শরীর দেখলে বয়স বোঝা যাবে না।

তিনি চীনের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী চেংদুর বাসিন্দা। তার একজন ছেলে আছে এবং একজন নাতি আছে। চীনের অনলাইনভিত্তিক সংবাদ পত্র ‘পিপলস ডেইলি অনলাইন’ এই দাদার বয়সি লোকের পেটানো বাহু ও পেটের পেশীর ছবি প্রকাশ করে রীতিমত হইচই ফেলে দিয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কেন এই বয়সেও তিনি এই পরিমাণ শারীরিক পরিশ্রম করেন? মোটেও গর্ব বা অসারত্ব থেকে নয় বরং তার রয়েছে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা। তিনি দক্ষিণ আমেরিকার নামকরা অফরোড গাড়ি ড্রাইভিং প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বেশি বয়সী চীনা ড্রাইভার হতে চান।

লিয়াং বেড়ে উঠেছেন চেংদু শহরে, কৈশোরে স্কুলে গিয়েছেন ইয়ানানে। তার পর কিছুদিন কাজ করেছেন একটি রাবার কারখানায়। ১৯৯১ সাল থেকে নিজে একটি লাইটিং ব্যবসা করছেন তিনি। ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি পর্যাপ্ত টাকা উপার্জনের পর ব্যবসা থেকে সরে আসতে শুরু করেন এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন বিপদজনক ড্রাইভিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সুরু করেন।

সেটা করতে গিয়ে তিনি দেখেন শারীরিকভাবে তিনি অন্যদের থেকে পিছিয়ে পরছেন, কারণ তার বয়স অন্য ড্রাইভারদের থেকে বেশি। কাজেই বন্ধুর পরামর্শে তিনি ১০ বছরের একটি শারীরিক ফিটনেস কর্মসূচি হাতে নেন। ১০ বছর পরে তার দেহের গঠন দাঁড়ায় অবিশ্বাস্য। ব্যয়াম করার প্রতি তিনি আসক্ত হয়ে পড়েন।

শুধু ব্যায়াম করা নয় বরং খাওয়া দাওয়াতেও তিনি কঠিন নিয়ম মানেন। তিনি প্রতি দিন সাত বার খাবার খান, তবে মাংস তার পছন্দের জিনিস হলেও তিনি সেটা এখন কম খান।

লিয়াং এবং তার ছেলে এর আগে ২০১২ সালে নামকরা ডাকার র‍্যালি গাড়ি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। তারা আবার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন, তবে তার আগে শরীরকে গড়ে নিচ্ছেন আরও মজবুত করে।

নাতির কাছেও লিয়াং খুবই প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি নাতিকে পুরনো দিনের গল্প বলেন। চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এই তরুণ বৃদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। কারণ ৬০ বছর বয়সে তিনি এমন শরীরের অধিকারী যেটা অনেক ২০ বছর বয়সীরও নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইবোতে তার একটি পোস্ট দেয়া হলে সেখানে ইতিমধ্যে ৮ লাখ মানুষ বিস্মিত হয়ে দেখেছে এই বৃদ্ধের অসাধারণ শারীরিক গঠন। অনেকে কমেন্ট করেছেন, তিনি হচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে শারীরিকভাবে সমর্থ দাদা।